চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড: ইতিহাস কী বলছে?

টাইগারদের হ্যাটট্রিক নাকি ইংলিশদের ঘুরে দাঁড়ানো

হোম সুবিধা, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, মুখোমুখি লড়াই, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সবদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে মঞ্চটা যখন বিশ্বকাপের, তখন টাইগারদের সমীহ করতে বাধ্য ইংলিশরা। বিশ্বমঞ্চের অতীত ইতিহাস যে চোখ রাঙাচ্ছে ইয়ন মরগানদের। শনিবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাই উত্তাপ ছড়াবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মহারণ।

বিজ্ঞাপন

মাঠে নামার আগে অবশ্য একদিক দিয়ে সমান্তরালে রয়েছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে জয়-পরাজয় সঙ্গী হয়েছে দুই দলের।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভসূচনা করা ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায়। অন্যদিকে সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে হেরে যায়।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন বাংলাদেশের জন্য পয়া ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত। ২০০৫ সালে এই মাঠেই পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর জোড়া সেঞ্চুরিতে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির টিকিট কাটে টাইগাররা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তেমন পারফরম্যান্সের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের সমর্থকরা।

আশার বীজ বোনার আরও কারণ আছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যেন ইংল্যান্ডের দুঃস্বপ্নের নাম। ২০১১ বিশ্বকাপে গ্রুপ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে হৈচৈ ফেলে দেয় টাইগাররা। সেটা ছিল ঘরের মাঠের আসর, খেলা ছিল চট্টগ্রামে। চার বছর পরও একই পরিণতি বরণ করতে হয় ইংলিশদের। এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ইয়ন মরগানদের হারায় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের কাছে সেই হারে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড আসরের গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে ইংল্যান্ড।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ড দল আমূল বদলে গেছে। কিন্তু আগের দুই বিশ্বকাপের তিক্ত অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও মানসিক চাপে রাখবে ইংলিশদের। আর ঘরের মাঠে শিরোপার চাপ তো তাদের উপর আকাশসমই। বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডকে হারানোর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে পারবে। তাতে কার্ডিফে অপরাজিত থেকেও হবে হ্যাটট্রিক।

জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট ও ইয়ন মরগান- ভয় ধরানোর মতো শক্তিশালী টপ ও মিডলঅর্ডার ইংল্যান্ডের। শেষের দিকে ঝড় তুলতে প্রস্তুত জস বাটলার ও বেন স্টোকস। টেলএন্ডে মঈন আলি ও ক্রিস ওকস। সবমিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য।

গতি, বাউন্স, সুইং আর ইয়র্কারে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেবেন জফরা আর্চার-ক্রিস ওকসরা। লিয়াম প্লাঙ্কেট একাদশে জায়গা পেলে বোলিংয়ে শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে ইংলিশদের। ফলে তামিম-সৌম্যদের সামর্থ্যের বড় পরীক্ষা হয়ে যাবে সোফিয়া গার্ডেনে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ফর্ম। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এছাড়া বোলিংয়েও তিন উইকেট নিয়েছেন সাকিব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় কিছু করতে সাকিবের দিকেই তাকিয়ে থাকবে টিম টাইগার্স।

সাকিবের মতো সৌম্যও রয়েছেন দারুণ ফর্মে। প্রথম দুই ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ তামিম রানে ফিরতে মরিয়া। উদ্বোধনীতে যদি তামিম ও সৌম্য উড়ন্ত সূচনা এনে দিতে পারেন, সেটি বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমকে অনেকটাই উজ্জীবিত করে তুলবে।

টিম নিউজ
বাংলাদেশ: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ম্যাচের আগেরদিন অপরিবর্তিত একাদশের ইঙ্গিত দিয়েছেন। টানা দুই ম্যাচ বেঞ্চে থাকা সাব্বির রহমানকে একাদশে ফেরাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেক্ষেত্রে সেভাবে জ্বলতে না পারা মোহাম্মদ মিঠুন বাদ পড়তে পারেন।

ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ড দলে ইনজুরির কোনো সমস্যা নেই। স্বাগতিকদের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি। মাঠের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট হওয়ার কারণে পেসার লিয়াম প্লাঙ্কেটকে একাদশে ফেরাতে পারে ইংল্যান্ড। তেমন হলে পাকিস্তান ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা আদিল রশিদকে বেঞ্চে সময় কাটাতে হবে।

নজর কাড়তে পারেন যারা
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (বাংলাদেশ): ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ইংলিশ-বধের নায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দশম বিশ্বকাপের আসরে দশম উইকেটে শফিউলকে ইসলামকে নিয়ে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ২ উইকেটের মধুর জয় এনে দিয়েছিলেন। চার বছর পর তার সেঞ্চুরিতেই ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে মাশরাফীর দল। আরেকটি বড় মঞ্চে যখন প্রতিপক্ষ সেই ইংল্যান্ড, মাহমুদউল্লাহর ব্যাট কথা বলবে আশা করাই যায়!

জো রুট (ইংল্যান্ড): পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডকে প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন জো রুট। শেষদিকের এলোমেলো ব্যাটিংয়ে হেরে যায় স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছেন রুট। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল বাংলাদেশ। সেবার রুটের ১৩৩ রানের হার না মানা ইনিংসের কাছেই হারতে হয় টাইগারদের। মেগা আসরের ম্যাচেও বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন রুট।

ফ্যাক্ট: গত দুই বিশ্বকাপের ফলাফল, কার্ডিফের ফলাফল বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান ফর্ম, স্বাগতিক দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকার এগিয়ে রাখবে ইংল্যান্ডকে। বড় মঞ্চে স্নায়ুর চাপ সামলে যারা নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে পারবে জয় তাদেরই হবে।

সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ড: জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, ইয়ন মরগান, জস বাটলার, বেন স্টোকস, মঈন আলি, ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জফরা আর্চার ও মার্ক উড।