চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ব্লগার হত্যার প্রতিবাদে ব্রিটিশ মন্ত্রী যখন ব্লগার

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ব্লগার হত্যার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে নিজেকে ব্লগার হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। তাই দেশটিতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ধরে রাখতে হবে।

শুক্রবার নিজের লেখা প্রথম ব্লগ পোস্টে তিনি বাংলাদেশে ব্লগার হত্যার প্রতিবাদে নিজেকে ব্লগার হিসেবে ঘোষণা দেন।

‘ফ্রিডম অব স্পিচ ইজ আ রাইট টু বি ডিফেন্ডেড’ (বাক স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করতে হবে) শীর্ষক ব্লগ পোস্টে তিনি লিখেছেন: বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এর আছে স্বাধীনতার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। যা একইসঙ্গে প্রশংসা ও সুরক্ষার দাবিদার। কথাটা বলতে কারো ভয় পাওয়া উচিত নয়।

‘বেশ কিছুদিন থেকেই আমি ভাবছিলাম নিজের ব্লগ শুরু করবো: গত সপ্তাহের ঘটনার পর আমার মনে হলো, আর দেরি করা ঠিক হবে না। বাক স্বাধীনতা এমন একটি অধিকার, যা রক্ষা করতেই হবে,’ গত সপ্তাহে বাংলাদেশে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে নিলয় নীল হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে এভাবেই তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

নিজের লেখা প্রথম ব্লগে সোয়ার বলেন, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক আন্তর্জাতিক অংশীদার। কারণ দেশ দুটি দারিদ্র্য বিমোচন এবং বাণিজ্য জোরদার করার মতো একই উন্নয়নমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে।

ব্লগার নিলয় নীল হত্যার সমালোচনা করে তিনি জঙ্গি গোষ্ঠি আনসার আল-ইসলাম নিয়ে তার ব্লগ পোস্টে বলেন, এই চরমপন্থা একই সঙ্গে কাপুরুষতা এবং চরম মূর্খতা। কাপুরুষতা কারণ ৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি মিলে একজন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে। আর মূর্খতা কারণ তাদের কাছে যদি সেই ব্যক্তির বক্তব্যের বিরুদ্ধে যথেষ্ট যুক্তি থাকে, তবে তাকে আসলে খুন করার প্রয়োজন পড়ে না। বাক স্বাধীনতা শুধু মিথ্যা আর ভ্রান্ত ধারণার কাছেই হুমকি মনে হতে পারে।

‘ব্রিটেন চায়, এ ধরনের জঙ্গিবাদের বীজ বাংলাদেশে শেকড় গেঁড়ে বসার আগেই যেনো সেগুলোকে উৎখাত করা হয়, উল্রেখ করে ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া আমরাই প্রথম ইউরোপীয় রাষ্ট্র। এখনও দু’দেশের মানুষের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশে চতুর্থ ব্লগার হত্যার পর গত সপ্তাহে নিজের দেয়া বক্তব্যের কথা ব্লগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বিপজ্জনক সমস্যাগুলোর জরুরী ভিত্তিতে সমাধান হওয়া ব্রিটেনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সোয়ার চান, ভয়াবহ এই অপরাধগুলোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যেনো দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি তিনি নিলয় হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান।