চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মানুষ

ধর ধর উঠে গেল উঁচুতে, টান ধরে পা, যেন এগোতে পারে না এক পা আর। শক্ত করে ধর, যাওয়াচ্ছি বেটার ওই পাশে।

একটা লোক খুব উঁচু প্রাচীর টপকাতে চেষ্টা করছে আর কিছু লোক নিচে হৈ চৈ করছে আর দেয়াল টপকাতে চেষ্টারত মানুষটার পা ধরে নিচে টানছে।

বিজ্ঞাপন

দেয়ালের এই পাশে, বেড়াতে আসা নতুন লোক অবাক হয়ে ঘটনাটা দেখছে। কৌতূহল চেপে না রাখতে সে একজন কে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো, ভাই কি হইছে, ওই লোক দেয়াল টপকাতে চাইছে কেন আর আপনারাই বা উনার পা ধরে নিচে টানছেন কেন?

নতুন লোকটার কথা শুনে তার আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে নিল হৈ চৈ করা দলের একজন। তারপর জানতে চাইলে ইহকালে কোন দেশে ছিলেন?

চীনে ছিলাম।
কেন চীনে এইসব দেখেন নি?
না পাগলা গারদ ছাড়া এই সব অন্য কোথাও দেখিনি।
আপনি পাগল ছিলেন নাকি?
না আমি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলাম।
তা এপাশে কি কারণে মেলা অকাম কুকাম করছিলেন নাকি?
না এই পাশে আসছি বেড়াতে। আমি ঐ পাশেই থাকি।
এইটা বেড়ানোর জায়গা নাকি? ধমকে উঠল হৈ চৈ করা দলের লোকটি।

বিজ্ঞাপন

না ভাই কিছু মনে করবেন না, আসলে আমাদের ওদিকটাই কোন ঝুটঝামেলা নাই, নেই অসুবিধা, সব কিছু খুব নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্য চলে। কারো কোন অসুখ-বিসুখ নেই, এমন কি মনে ব্যথাও নেই। শুনলাম এই পাশে একদল মানসিক রোগী আছে। যারা কারো ভালো দেখতে পায় না, যারা নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে সদা একপায়ে খাড়া। আমি ওপাশে আজো একজনও রোগী পায়নি। রোগী দেখি না বহু দিন। প্র্যাকটিস না থাকলে তো আমার চিকিৎসাবিদ্যা ভুলে যাব। যখন শুনলাম এপাশে এমন লগারিদম মানুষ আছে?

দাঁড়ান দাঁড়ান লগারিদম মানুষ কাকে বলে?
যারা অন্যের ক্ষতি করতে সর্বদা পিছনে লাগে থাকে, কাছের মানুষ সেজে, বন্ধু সেজে ক্ষতি করে, এমনকি নিজের ক্ষতিসাধন করে অপরের সামান্যও হলেও ক্ষতি করতে লেগে থাকে, অন্যের উন্নতি সহ্য করতে পারে না, তাকে আমাদের ওদিকে লগারিদম মানুষ বলে। আমরা কখনো দেখিনি। তাই দেখার ও চিকিৎসা করার খুব ইচ্ছে।
এদিকের লোকটি বলে, আপনি দেখলে আমারে কইয়েন আমিও একটু দেখুম বেটারে।
ঠিক সেই সময় আবারও হৈ চৈ শোনা গেল, ওই শক্ত করে ধর উঠে গেল তো অনেকটা। ঠ্যাং চেপে ধর। ঢিল দিস না, লেগে থাক নইলে উঠে যাবে প্রাচীরে।

নামা বদটিরে নামা। হৈ চৈ করা দলের লোকটিও চেঁচিয়ে উঠল। যান ভাই চায়না মেইড, আমি বিজি, তবে লাগারিদম পাবলিক পাইলে বইলেন, চিপাই নিয়ে দিমু একটা চিপানিজ। যান যান ভাই।
কিন্তু এখানে কি হচ্ছে বললেন না তো?
আরে ওই ক্যালাসটা পাঁচিল টপকে ওই পাশে যেতে চাই,
অ্যা বলেন কি!?
ক তো ভাই, তুই ক্যান যাবি? আমরা যাইতে পারবো না আর তুই যাবি? আমরা এখানে কষ্ট করবো, আগুনে জ্বলবো, ওই পাশে গিয়ে আরামে থাকব, কাভি নেহি।
কিন্তু ওতো কষ্ট করে ওই তো উঁচু প্রাচীর টপকাতে চাইছে, আপনারা তো টপকাচ্ছেন না। যদিও প্রাচীর টপকে ওই পাশে যাওয়া ইল্লিগ্যাল।
আরে মিয়া রাখেন লিগ্যাল আর ইল্লিগ্যাল। আমরা পাশের দেশ ভারত দুই দিন পর পর যাইতাম ইল্লিগ্যালি, ম্যাক্সিকো, ইস্তাম্বুল, জাপান, চীন, দোহা, আরব এমনকি আমেরিকা-লন্ডন-কানাডা গেলাম ইল্লিগ্যাল। আর প্রাচীরের ওপাশেই বেহেস্ত, সেই বেহেশতে যাইতেই হবে বলে কথা, লিগ্যাল আর ইল্লিগ্যাল ব্যাপার না।
ঠিক আছে কিন্তু পাঁচিল টপকাতে চেষ্টা করছে উনি কিন্তু আপনারা কেন নীচে টানছেন, যেতে দিচ্ছেন না।

দূর মিয়া আমরা পাঁচিল টপকাইতো পারবো না কখনো, মাজায় জোর নাই, আমরা পারবোনা সেইটা ও পারবো কেন? আমরা না যাইতে পারলে ওরেও যাইতে দিমু না, মামলা ডিসমিস।
না মানে সেতো চেষ্টা করছে নাকি?

আরে মিয়া এতো কথা কইয়েন না তো, আমরা ব্যস্ত জরুরি কামে। আজাইরা প্যাঁচালে সময় নষ্ট করার সময় নাই।
ও আচ্ছা, আমি যায়, ভাই আপনি কাজ করেন, উনাকে টেনে নামান।
বাই বাই ভাই, শোনেন লাগারিদম টাইপ দেখলে ডাইকেন আমারে।

চায়না মেইড ফিরত পথ ধরলেন, বিশাল দরজার সামনে দাঁড়ানো রক্ষীকে পরিচয়পত্র দিয়ে আরো একবার পেছন ফিরে তাকালো, দেখলেন সেই একি অবস্থা একজন উপরে উঠতে চেষ্টা করছে, আর একদল লোক তাকে টেনে নামাতে আপ্রাণ কষ্ট করে যাচ্ছে।
দ্বাররক্ষী হেসে বললেন চিন্তা নেই আজ পর্যন্ত এদের কেউ পাঁচিল টপকাতে পারেনি, এরা নিজেরা অসফল হতে না পারলে অন্যকেও হতে দেবে না। তাই আমরা বেহেশত আর দোজখের মাঝের প্রাচীরে গার্ড দেই না। চায়নিজ লোকটি দ্বাররক্ষীকে বলে, এক মিনিট আমি ঐব্যক্তির কাছে শেষ একটা কথা জানতে চাই, আমি যাব আর আসবো। দ্বাররক্ষী সম্মতি দিতেই চাইনিজ ব্যক্তি দৌড়ে গেল হৈচৈকারী দলের সেই ব্যক্তির কাছে, বলল,
ভাই শেষ একটা কথা জানতে চাই, অনুগ্রহ করে জানাবেন কি,
ইহকালে আপনারা কোন দেশের মানুষ ছিলেন?
বাংলাদেশের।