চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বসন্তের ফেরিওয়ালা

সেলিনা আর সুমাইয়া দুই বোন। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরে নানীর সাথে থাকে তারা। অন্যদিন স্কুলে যায়। কিন্তু বসন্তের এই দিনে ফুলের মুকুট বিক্রি করার জন্য স্কুলে যাওয়া হয়না তাদের। আগের দিন রাতেই ফুলের মুকুটগুলো তৈরি করে রেখেছিল তারা। আজ ভোরে সেগুলো বিক্রি করার আশায় বের হয়েছে। ভোরে প্রতি পিস ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি করেছে দুই বোন। কিন্তু ১০টার পর সেগুলো বিক্রি করছে ৫০ টাকায়। ভালোই ব্যাবসা হয়েছে। হাতে আর যে কয়টা আছে, সেগুলো বিক্রি করেই ঘরে ফিরে নানীর সাথে দুপুরের খাবার খাবে।

বসন্তকে ঘিরে এমনই প্রস্তুতি থাকে ফেরিওয়ালাদের। বসন্তের প্রস্তুতি কিছুদিন আগে থেকেই শুরু করে তারা। তেমনই একজন হলেন আব্দুল মজিদ। কামরাঙ্গির চর থেকে এসেছেন তিনি। নিজের হাতেই ডুগডুগি তৈরি করে বিক্রি করেন। ১৫০ পিস ডুগডুগি তৈরি করেছেন। সাথে নিয়ে এসেছেন প্রতিবেশী খেলনা বিক্রেতা মিলনকে। আব্দুল মজিদ জানান, আগের মতো বিক্রি নেই এখন। কারণ রংচঙে প্লাস্টিকের খেলনার প্রতি শিশুরা বেশি ঝুঁকছে। আর সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে হাতে তৈরি এসব কারুশিল্প।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলার অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে পেয়ারার ভর্তা বিক্রি করছেন সুরুজ মিয়া। তিনি জানান, অন্য সময়েও তিনি ভর্তা বিক্রি করেন এই এলাকায়। কিন্তু আজকের দিনে বিক্রি বেশি হয়। তিনি আরও জানান, তার ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী।

চারুকলার গেইটে দাঁড়িয়ে রংবেরঙের গ্যাস বেলুন বিক্রি করছেন জাহাঙ্গির আলী। তিনি জানালেন তার বেলুন বিক্রির কথা। প্রতিদিন যে বেলুন ৩০ টাকায় বিক্রি করেন, সেই বেলুন তিনি ৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারছেন আজ। তিনি বলেন, ‘মাইনষের মন ভালা আইজকা, তাই বেচা কিনা ভালো’।
সেলিনা, সুমাইয়া কিংবা আব্দুল মজিদের মতো আরও ফেরিওয়ালার ছড়াছড়ি আজ এখানে। সবাই ব্যস্ত বিক্রি নিয়ে। তাদের সবার মুখেই হাসি, যেন বসন্তের রঙ রাঙিয়ে দিয়েছে তাদের মন।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail