চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা বিতর্ক-সমালোচনার জবাবে মোস্তাফা জব্বার

সমালোচনার নামে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিক মাত্র দুইজন, এই তথ্যটি যদি কেউ আপনাদের দিয়ে থাকে, তাহলে আমি বলবো দিস ইজ অ্যাবসলিউটলি রং (এটা পুরোটাই ভুল)” এমন মন্তব্য করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দেশের এই গৌরব নিয়ে সমালোচনার নামে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মাত্র গুটিকয়েকের নিয়ন্ত্রণে আসছে এমন সমালোচনা বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে এসব কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার জোর দিয়ে বলেন: কারও কোন মনোপলি নাই।  এই স্যাটেলাইটের মালিক কেবল দু’জন এটা কেউ প্রমাণ করুক। এই স্যাটেলাইট রাষ্ট্রের সম্পত্তি।  এটা সরকার পরিচালনা করবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যে কেউ ব্যবসা করতে পারবে।  বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে পারবে।

তিনি জানান, এই স্যাটেলাইট আপাতত নিজস্ব অরবিটাল স্লটের পথে যাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এটি কার্যকর হলে কয়েক ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

কিন্তু এরই মধ্যে এই স্যাটেলাইটের সেবাগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বিষয়ের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন: তথ্য মন্ত্রণালয় স্যাটেলাইটের ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবার বিষয়ে দু’টি লাইসেন্স দিয়েছে। এর অনুমোদন দেয়া তথ্যমন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে আছে।  অথচ এই বিষয়কে পুঁজি করে পুরো স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়েই কথাবার্তা হচ্ছে। ডিটিএইচ লাইসেন্সের সঙ্গে গোটা স্যাটেলাইট কোম্পানির কোন সম্পর্কই নেই।  প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই স্যাটেলাইটের মালিক বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড। আমরা তো এখন পর্যন্ত কাউকে লাইসেন্সই দিইনি, তাহলে অন্য কেউ মালিক হয় কিভাবে!

বিজ্ঞাপন

স্যাটেলাইটটির বিষয়ে জেনে-বুঝে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন: যারা নেতিবাচক সমালোচনা করছেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যদি একটু জেনে-বুঝে কথা বলেন, তাহলে হয়তো নিজেদের মুর্খ হিসেবে প্রমাণ করার লজ্জায় পড়বেন না।

দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সুবিধা নিবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন: ৪০ টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০ টি আমরা দেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য রেখেছি।  চ্যানেলগুলো নিজের স্বার্থে নিজের দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করবে।  বিদেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে দেশের টাকা এবং তথ্য হাতিয়ে নেয়ার মতো নিরাপত্তা শঙ্কাও কমে আসবে।

আজ রাজধানীতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে ‘বিবি-স্যাট-১’ নামের একটি অ্যাপ উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে মোস্তাফা জব্বার চ্যানেল আই অনলাইনকে এসব কথা বলেন।

এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক পরিকল্পনার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দেশের সফটওয়্যারখাতের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সফলতার জন্য বেসিস-এর পক্ষে সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন: স্যাটেলাইটের সুফল পেতে হলে গ্রাহক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকে। আমাদের দেশে এখন ভিস্যাট আমদানি বন্ধ আছে। পোর্টেবল ভিস্যাট আমদানিা পথ খুলে দিতে হবে। তবে নিরাপত্তার কারণে অবশ্যই অবাধে এই আমদানি করতে দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারদের (আইএসপি) ভিস্যাট আমদানির অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া আরও সহজ হবে।  স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ আসবে তা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যের করতে হবে।

বেসিস সভাপতির এসব সুপারিশের তাৎক্ষণিক জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে সরকার।