চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার শাকিবের ‘চালবাজ’?  

সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় নববর্ষেও ‍মুক্তি পাচ্ছে না ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘চালবাজ’। অভিযোগ উঠেছে ছবিটি ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার হয়েছে। এ কারণেই আলোর মুখ দেখছে না ‘চালবাজ’। মুক্তি পেতে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ছবিটি।

বিজ্ঞাপন

বৈশাখে ছবিটির মুক্তির কথা থাকলেও সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়া মুক্তি পাচ্ছে না। তবে কবে ছবিটি মুক্তি পাবে; তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা!

এই অবস্থায় নববর্ষের মতো উৎসবে শাকিব খানের ছবি হলে মুক্তি দিতে না পারায় অনেকটা হতাশ সিনেমা হল মালিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনেমা হল মালিক বলেন, কলকাতার ছবি বলে পলিটিক্স করে বাধা দেয়া হলো ‘চালবাজে’র মুক্তিতে। দাবি করা হচ্ছে, ছবিতে কলকাতার শিল্পীরা রয়েছে। কিন্তু ‘একটি সিনেমার গল্প’ ও ‘বিজলী’ নামে দুটো ছবি মুক্তি পাচ্ছে সেখানেও অভিনয় করেছে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও রণবীর।

‘তারা তো দুজনেই কলকাতার শিল্পী! তাহলে আমাদের শাকিব খানের ছবিতে এতো সমস্যা কেন? আমরা তো দিন শেষে দেখি কার ছবি চালালে কটা পয়সা ইনকাম হবে, লোকসান থেকে মুক্তি পাবো। শাকিব খানের ছবি চলছে কিছুটা লাভের মুখ দেখি। বিগত কয়েক বছর ধরে এটাই হয়ে আসছে।’

‘চালবাজ’ ভারতীয় ছবি। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালার ঝামেলায় পড়ে পরবর্তীতে সাফটা চুক্তির মাধ্যমে এদেশে ছবিটি মুক্তির প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশের প্রযোজক গোলাম কিবরিয়া লিপু তার এন ইউ ট্রেডার্সের ব্যানারে ছবিটি মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন।

চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘চালবাজ’ ছবিটি আমদানির জন্য ৮ মার্চ তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

তবে ২১ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষার পরেও মন্ত্রণালয় থেকে গোলাম কিবরিয়া কোনো গ্রিন সিগন্যাল পাননি।

গত ২৭ মার্চ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ‘চালবাজ’ ছবিটি দ্রুত আমদানির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টকে নির্দেশ দেন। যাতে ৬ এপ্রিল ছবিটিকে মুক্তি দেয়ার। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপের সময় গোলাম কিবরিয়া লিপু বলেন, বাইরের একটি ছবি মুক্তি দিতে চাইলে বিভিন্ন চিঠিতে স্বাক্ষর লাগে। ওটা নিয়ে মিটিং হয়। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। সেজন্য ‘চালবাজে’র জন্যও সময় লাগছে। ২১ মার্চ মন্ত্রণালয়ে মিটিং হয়েছিল।

‘সেখানে হয়তো ‘চালবাজ’ নিয়ে কিছু অভিযোগ গেছে তাদের কাছে। এটা তারা খতিয়ে দেখছেন। এখানে তো আমার কিছু বলার নাই। সরকারিভাবে এখনও অনুমতিপত্র পায়নি। অনুমতি পেলেই সেন্সরে জমা দেব।’

কেউ কেউ বলছেন, ‘চালবাজ’ ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার- এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম কিবরিয়া লিপু বলেন, মার্কেটে অনেক রকম কথা ছড়ায়। সব কথায় তো কান দিলে চলে না! সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখেই ব্যবসা করবো। কে কি করলো, বললো এটা জানা নেই। তবে আমার মনে হয়, এটা হতে পারে সরকারি পলিসি।

‘অথবা কেউ বুঝিয়েছেন, এই মাসে হয়তো দেশের ছবি বেশি। তাই সরকার চাচ্ছে না এখন বাইরের ছবি আসুক। পরে দেবে, এমনটা হতে পারে। আসলে ছবি সংকটের কারণে হল যেন বন্ধ না হয় সেজন্য দু-একটা বাইরের ছবি আমদানি করা হয়। এটা হল মালিকদের সুবিধা দেয়া জন্য করা হয়। এই বৈশাখে পর্যাপ্ত দেশের ছবি আছে বলে সরকার দিতে চাচ্ছে না। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত।’

দেরিতে মুক্তি পেলেও ব্যবসায়িকভাবে ‘চালবাজে’ কোনো প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘কারণ ছবির কোয়ালিটি ভালো। হল মালিকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ‘চালবাজ’ নিয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তির আবেদনে পরিপ্রেক্ষিতে পাস হয়ে গেছে। শুধু চিঠিটা হাতে পাইনি। চিঠি হাতে আসলেই সেন্সরে জমা দেব।’

‘চালবাজ’ প্রযোজনা করেছেন কলকাতার নামী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজ।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার অশোক ধানুকা বলেন, দু’দেশে একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘চালবাজে’র। যেহেতু বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না বৈশাখে, তাই কলকাতায় মুক্তির সিদ্ধান্তও বদল করেছি। নতুন তারিখ এখনও ঠিক করিনি। তবে চলতি মাসেই মুক্তি দেয়ার ইচ্ছে আছে।

বাংলাদেশে ‘চালবাজ’ মুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতায় যাচ্ছে এদেশের ‘অজান্তে ভালোবাসা’ ছবিটি।

জানা গেছে, এ ছবিটি সেদেশের সেন্সরের ছাড়পত্রও পেয়ে গেছে। ‘অজান্তে ভালোবাসা’ ২০১৩ সালের ১৩ মে ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিল। এর নির্মাতা পরিচালক এ জে রানা। অভিনয় করেছিলেন সাইমন সাদিক, আলিশা প্রধান প্রমুখ।