চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে হত্যা করে তার নামে ভুয়া ভিডিও

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে গত সপ্তাহে গাজা সীমান্তে এক ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক নিহতের ঘটনায় একটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তিত ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর বিরুদ্ধে।

রাজান আল নাজ্জার নামের ফিলিস্তিনের ওই মেডিকের (চিকিৎসক) মৃত্যুকে যৌক্তিক দেখাতে ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, ২১ বছর বয়সী রাজান হামাসের ‘হিউম্যান শিল্ড’ বা মানববর্ম হিসেবে কাজ করতেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু নিজেদের ভালো সাজাতে গিয়ে তৈরি ভিডিও হিতে বিপরীত হয়ে দেখা দিয়েছে আইডিএফের জন্য। কেননা ভিডিওটি যে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তৈরি এবং সেখানে যে রাজানের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘুরিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা প্রায় সাথে সাথেই প্রকাশ পেয়ে যায়।

আইডিএফ বৃহস্পতিবার তার ইংরেজি ও আরবি দুই মুখপাত্রের টুইটার অ্যাকাউন্টেই দুই ভাষায় পরিবর্তিত ভিডিওটি পোস্ট করে। ইংরেজি ভিডিওর প্রথমে দেখা যায় কিছু লেখা:

‘হামাসের মানববর্ম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।’

‘হামাস যা দেখানোর চেষ্টা করছে, রাজান আল নাজ্জার সেই ক্ষমার অবতার নয়।’

আর ভিডিওটির আরবি সংস্করণ শুরু হয় রাজানের একটি ছবি দিয়ে। সেখানে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে রাজানকে দেবদূতের প্রচলিত সাদা ডানা ও মাথার ও আলোর চাকতিসহ দেখা যায়।

এরপর দু’টি ভিডিওতেই বলা হয়, রাজান হামাসের হয়ে মানববর্ম হিসেবে কাজ করতেন। হামাসের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তিনি নিজের জীবন দিতে তৈরি ছিলেন।

তারপর দেখানো ফুটেজে রাজানের মতো চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রন পরা এক নারীকে একটি গ্যাস ক্যানিস্টার ছুড়ে মারতে দেখা যায়। তার মুখ মুখোশ দিয়ে আংশিক ঢাকা। ভিডিওতে দাবি করা হয় এই নারীই নিহত রাজান আল নাজ্জার।

বিজ্ঞাপন

তারপর দেখানো হয় রাজানের সাক্ষাৎকারের একটি অংশ, যেখানে তিনি বলছেন, ‘আমি রাজান আল নাজ্জার। আমি লড়াইয়ের মাঠে সামনে থেকে মানববর্ম হিসেবে কাজ করি।’ তারপরই সাক্ষাৎকার কেটে লেখা ওঠে: হামাস প্যারামেডিকদের মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে।

অথচ সেখানে রাজানের কথার বাকি অংশটি কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। রাজানের পুরো কথাসহ আল মায়াদিন নিউজের সৌজন্যে আরেকটি ভিডিও কিছুক্ষণের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়: আমি রাজান আল নাজ্জার। আমি লড়াইয়ের মাঠে সামনে থাকা আহতদের উদ্ধারকারী মানববর্ম হিসেবে কাজ করি।

আরটি আমেরিকার প্রতিবেদনে দেখুন রাজানের পুরো সাক্ষাৎকার:

আইডিএফের চালাকি ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে টুইটারে। অনেকেই ‘আইডিএফ স্পোকসপার্সন’ অ্যাকাউন্টে প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে অনেকে মন্তব্য করে এই ভিডিও মিথ্যে হওয়ার দাবি করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক, উদ্ধারকারী ও সাধারণ মানুষদের হত্যা করা বন্ধ করলেই আইডিএফের এত টাকা খরচ করে এসব প্রোপাগান্ডা ভিডিও তৈরি করতে হতো না। অনেক সময় আর ঝামেলা করা থেকেও তারা বেঁচে যেত।

এছাড়াও গ্যাস ক্যানিস্টার ছোড়ার দৃশ্যটিতে থাকা নারী যে রাজান, এটা নিশ্চিত করা যায়নি। ওই নারী রাজান হয়ে থাকলেও তিনি যে গ্যাস ক্যানিস্টার ছুড়ে মেরেছেন তা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সীমান্তের ধারেকাছেও নয়। সেটা একটা মাঠের মাঝে, তাও তার নিজের থেকে কয়েক হাত দূরে। সেটা কোনো বোমাও ছিল না।

তাই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই উদ্দেশ্যমূলক ভিডিও তৈরি করে একজন স্বেচ্ছাসেবী প্যারামেডিককে হামাসের মানববর্ম সাজানোর চেষ্টাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। অনেকে আবার আইডিএফকে ‘নির্লজ্জ সন্ত্রাসী’ বলেও তিরস্কার করেছেন।