চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ ও হলিউড রিপোর্টারের ফিল্ম রিভিউ

কেমন ছবি ‘শনিবার বিকেল’?

ফারুকীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে নিয়ে বিশ্বখ্যাত হলিউড রিপোর্টার-এ রিভিউ…

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি এখনো। তবে প্রশংসা পাচ্ছে বিদেশের মাটিতে। ৪১ তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জুরি পুরস্কার পায় ছবিটি। মস্কোর পর চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়েছে ‘সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৯’-এর জন্য। এবার বিশ্ব খ্যাত হলিউড রিপোর্টারেও প্রশংসা পেল ছবিটি।

বিজ্ঞাপন

১০ মে হলিউড রিপোর্টারে ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ এর রিভিউ প্রকাশ করা হয়েছে। রিভিউটি লিখেছেন আমেরিকার অভিনেত্রী, নির্মাতা, লেখিকা এবং সমালোচক দেবোরাহ ইয়ং। রিভিউতে বলা হয়েছে ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারির ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ এর ঘটনা দেখানো হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ অস্ত্রধারী যুবকের তাণ্ডবে প্রাণ হারায় ২২ জন নিরীহ মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকেই ভিনদেশের নাগরিক ছিলেন। তবে ফারুকীর সিনেমাটি সেভাবে শেষ হয়নি। হলিউড রিপোর্টারে বলা হয়েছে যে, সন্ত্রাসীদের জিম্মি করা দিয়ে ছবি শুরু হলেও মুখ্য বিষয় হলো ছবির সংলাপ। জিম্মিদের সঙ্গে অস্ত্রধারীদের কথাবার্তা, হামলার পক্ষে সন্ত্রাসীদের দেয়া যুক্তি এবং বেঁচে যাওয়া মুসলিম বন্দিদের মানবিক আবেগের সংলাপের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ছবির শুরুতে ঢাকায় ধারণ করা শনিবারের একটি অলস সকালের অনেকগুলো দৃশ্য দেখা যায়। দৃশ্যগুলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, বিকালে ঘটতে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনা সম্পর্কে শান্ত শহর তখনও কিছুই জানেনা।

সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে একজন বয়স্ক বিদেশীকে। আর বাংলাদেশের ঠাণ্ডা মাথার ছেলে পলাশ (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) এই ঘটনার ছক তৈরি করে। ছবিতে জাপান, ফ্রান্স এবং ইতালির নাগরিকদের গুলি করার দৃশ্য পর্দায় সরাসরি দেখানো হয়নি। তবে হিংস্রতা বোঝানো হয়েছে। এক গর্ভবতী নারীকে তার সন্তানের জীবন ভিক্ষা চাইতে দেখা যায়। তবে ইরাক এবং সিরিয়ার শিশুদের উপর পশ্চিমাদের হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সেই নারীর পেটে গুলি করে দেয়া হয়। এক ব্যক্তিকে তার বয়স্ক মা’কে ফোন করতে বলা হয়। মা ফোনের লাইনে থাকা অবস্থাতেই সেই ব্যক্তিকে হত্যা করে হামলাকারীরা।

মুসলিম বন্দিদেরকে যখন মুক্ত করে দেয়া হয়, তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। নারীদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথা বলা শুরু করে হামলাকারীরা। শুধু রাইসা (নুসরাত ইমরোজ তিশা) হিজাব পরিহিত থাকায় এসব কথার থেকে নিষ্কৃতি পায়। রাইসা অশ্রুসজল চোখে দৃঢ়তার সঙ্গে হামলাকারীদের ভুল ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা করতে থাকে।

ছবিতে পলাশ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের পরমব্রত…

ছবির আরেকটি চরিত্র হলো ব্যবসায়ী শহীদুল (জাহিদ হাসান)। তিনি তার ছেলে এবং বাংলাদেশি সেজে থাকা এক শিয়া মতাদর্শের মুসলিম ভারতীয় সহকর্মীকে (ফিলিস্তিনি অভিনেতা ইয়াদ হুরানি) বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি এবং একটু পর পর হত্যাকাণ্ডের কারণে পুরো ছবিটিই টান টান উত্তেজনায় ভরপুর। প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়া, বেঁচে থাকা জিম্মিদের তাদের প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে ছোড়া অশ্লীল ভাষার প্রতিবাদ, ধর্ম এবং জাতি নিয়ে তিরস্কার সবকিছুই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে। সংলাপ আদান প্রদানের মাধ্যমে ছবির কাহিনী একটি নির্দিষ্ট গতি ও ছন্দে এগিয়ে চলে।

ফারুকীর নির্মাণে সবকিছু মধ্যে গল্পটাই সবসময় কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বেশিরভাগ ছবি যেগুলোতে পুরো ছবির ওয়ান-শট সিঙ্গেল টেক নেয়া হয়, ছবির গল্পের মাঝে ডুবে গিয়ে সেই ছবিগুলোর নির্মাণ কৌশলের কথা ভুলে যান দর্শক। তবে ছবির কারিগরি টিম, সিনেমাটোগ্রাফির আজিজ ঝামবাকিয়েভ অথবা ভালেরি পেতরবের স্টেডিক্যামের কাজের অবদান স্বীকার না করলেই নয়।