চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফাইনাল নিয়ে যা বললেন দুই বিশ্লেষক

টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে যোগ্য দু’টি দলই খেলছে বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ডের সামর্থ্যই তাদেরকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত এখনও টি-২০ ফরম্যাট পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি বলেও মত তাদের।

বিজ্ঞাপন

টি-২০ বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তার পরের আসরেই অর্থাৎ ২০১২ বিশ্বকাপ জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কয়েক আসর পর আবারও ফাইনালে মাঠে নামছে দু’দল। আর দু’দলেরই এটি দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মিশন। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘পাওয়ার হিটিং’ পারফরম্যান্স আর ইংল্যান্ডের শক্তিই তাদের এতো দূর নিয়ে এসেছে।

দৈনিক কালের কণ্ঠ’র পত্রিকার উপ-সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে এসেছে টি-২০ ক্রিকেটের ডিমান্ড ফুলফিল করে, সবাই পাওয়ার হিটিং করেছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিবীয়রা অনেক ডট দিয়েছে তাদের স্কোরিং শট ছিল ছয় বেশি তারপর চার, অপরদিকে ইন্ডিয়া প্রচুর ডাবলস নিয়েছে।’

‘আর ইংল্যান্ড ফাইনালে এসেছে নিজেদের সামর্থ্যের প্রয়োগ দেখিয়ে। এই দলে কোন স্টার খেলোয়াড় নেই, তাই সবাই তাদরে নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে তাদের উপর কোনো ফোকাস ছিল না, তাই তারা চাপ না নিয়েই খেলে গেছে এবং সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই ফাইনালে এসেছে।’

বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, টি-২০ ফরম্যাটটা মাত্র ১২০ বলের খেলা। যে দল ভালো খেলবে সেই জিতবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি দলগত ভাবে ভালো ক্রিকেট খেলছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে যে ম্যাচ ক্যারিবীয়রা হেরেছে সেই ম্যাচে আফগানরাই ভালো খেলেছিল তাই জয় পেয়েছে।’

‘আর ইংল্যান্ড ২৩০ রান চেজ করে যেভাবে জয় পেল তাতে দলের সবার মনোবল তুঙ্গে রয়েছে। তাদের দলের জ্যাসন রয়, মরগ্যানরা ভালো ক্রিকেট খেলছে। ওরা আন্ডারডগ থেকেই ফাইনালে এসেছে।’

‘সুপার টেন’ পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড ফাইনালে খেলতে না পারলেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আসরে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে ছিলো কিউইদের ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে মোস্তফা মামুন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ফাইনালে না উঠতে পারলেও তারা দেখিয়েছে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক মানে মাঠের বাইরে খেলাটা প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ, তারা প্রচুর খেটেছে এবং স্ট্যাডি করছে। যেহেতু ২০ ওভারের খেলা সেহেতু তারা বাইরে থেকেই হিসাব করে এসেছে আমরা এইভাবে খেলব, কে কয় ওভার করবে ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে স্কিলটাকে সেকেন্ডারি করে টেকনিক্যাল জায়গা দিয়ে উপরে যেতে পারে, সেটাই কিউইরা দেখিয়েছে। নিউজিল্যান্ড টি-২০ বিশ্বকাপে যে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক দেখিয়েছে তা ভবিষ্যতে আমাদের গবেষণার বিষয় হবে।

তাদের মতে, আইপিএল আয়োজন করলেও এখনো টি-২০ ফরম্যাট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারেনি ভারত। ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে বের হতে পারেনি অস্ট্রেলিয়াও।

মোস্তফা মামুন বলেন, ‘২০০৭ সালে টি-২০টি চ্যাম্পিয়ান হলো ভারত। তারা ওই টুর্নামেন্টটাকে একটুকু গুরুত্ব দেয়নি। ফান হিসেবে নিয়েছিল, টেন্ডুলকার অবসর নেয়নি, ধোনিকে অধিনায়ক করা হলো। ওইবার চ্যাম্পিয়ন হবার পর ভারত টি-২০ সিরিয়াসলি নিল এবং সিরিয়াসলি নেওয়ার পর থেকে ভারত আর টি-২০ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না। এরপর আইপিএল শুরু হলো, ভারত এখন টি-২০ বড় ক্ষেত্র। ভারতের টি-২০ বেশি জয় করার কথা কিন্তু তারা পারে না কারণ এর গ্রামার এখনো ইন্ডিয়া কেন কোন দলেরই বোধগম্য নয়।’

‘ক্রিকেট যে অনিশ্চিয়তার খেলা তা সবচেয়ে আকর্ষণীয়ভাবে টি-২০তে উপস্থাপিত হয়। এছাড়া পিচ কন্ডিশনেও ছিল একেক রকমের। ভারত ভেবেছিল তারা প্রথমবারের চ্যাম্পিয়ন, হোম কন্ডিশন সব মিলিয়ে পার পেয়ে যাবে কিন্তু পারে নি। অপরদিকে টি-২০ খেলাটা যে ওয়ানডের মতো না সেটা অনেকটা ঐতিহ্য ও গোয়ারতমির জন্য মানতে পারছে না, যেদিন এটা তারা মানতে পারবে সেদিনই তারা ভালো দল হবে।

হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘ভারতে একমাত্র বিরাট কোহলি ছাড়া কেউই ভালো করতে পারেনি। টি-২০টি যে ওয়ান ম্যান শো না এর জন্য ভারত অনেক কষ্ট করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত এসেছিল।’

হাসিবুল হোসেন শান্ত এবং মোস্তফা মামুন দু’জনই মনে করছেন ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমান ফেভারিট।

ভিডিওতে দেখুন ফাইনাল নিয়ে মোস্তফা মামুনের মন্তব্য: