চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রত্ন-নিদর্শন না ভেঙে হাসপাতাল নির্মাণের দাবি

সিলেটে দুইটি বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসহ বহু স্মৃতি বিজড়িত প্রত্ন-নিদর্শন সদর হাসপাতালের আবু সিনা ছাত্রাবাস না ভেঙে হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছে জেলার স্থপতি, নগর-পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সমাজ।

প্রায় পৌনে দু’শো বছরের পুরনো ও ঐতিহাসিক প্রত্ন-নিদর্শন সদর হাসপাতালের আবু সিনা ছাত্রাবাসটি ভেঙে সেখানে ২৫০ শয্যার আধুনিক বহুতল হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্ন সম্পদকে রক্ষা করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট।

দুর্লভ এই প্রত্ন সম্পদকে রক্ষার স্বার্থে, এখনো নির্মাণ কাজ শুরু না-হওয়া প্রকল্পাধীন হাসপাতালটিকে সিলেট শহরের অন্যত্র সরিয়ে নিতে দাবি জানিয়েছেন তারা। কিন্তু বাংলাদদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটসহ সিলেটের স্থপতি, নগর-পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সমাজের দাবিকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে ঐতিহাসিক এই ভবন ভাঙার তোড়জোড় চলছে।

জানা গেছে, ভবনটিকে ডেমোলিশ বা ধ্বংস করার জন্য ২৮ লাখ টাকার একটি টেন্ডার বা দরপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দালান সংরক্ষণ করে হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে ভবনটির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এটি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রথম হাসপাতাল। স্থাপত্য বিবেচনায় এটি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আসাম প্যাটার্ন’ স্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

এই স্থাপত্য ধারায় কোর্ট ইয়ার্ডসহ পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্সের উদাহরণ সমগ্র বাংলাদেশের কোথাও নেই, এই ধারার এটিই একমাত্র বিদ্যমান। দুইটি বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই হাসপাতালে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে এখানে ড: শামসুদ্দীন, ডঃ শ্যামল কান্তি সহ আরও অনেক মুক্তিকামীকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও সিলেট অঞ্চলের প্রথম সংবাদপত্র ‘শ্রীহট্ট প্রকাশ’ ১৮৭৬ সালে এখান থেকেই প্রকাশনা শুরু করেছিল। এটি সিলেটের সূচনা লগ্নের কলোনিয়াল স্থাপনা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, এই স্থাপনাকে নষ্ট না করে শহরের অন্য কোন স্থানে হাসপাতাল সহজেই করা যায় এবং তেমন স্থান অনেক আছে যেখানে যৌক্তিকভাবেই এই হাসপাতাল প্রকল্প স্থানান্তর করা যায়। আর যেহেতু সরকার অর্থায়ন করছে, তাই অর্থ ফেরৎ যাবার কোন সুযোগ নেই।

নতুন ও আধুনিক অনেক দালান তৈরি করা সম্ভব কিন্তু ঐতিহ্যবাহী দালানটি ভেঙ্গে ফেললে তা আর কখনো ফেরত পাওয়া যাবেনা।

কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করে জনগণের টাকা অপচয় না করে এমন স্থানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হউক যেখানে বঞ্চিত জনগণ উপকৃত হবে, যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্য। অথবা বর্তমান ওসমানী হাসপাতাল প্রাঙ্গনে আরেকটি ১৫ তলা বিল্ডিং বানানোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষে কেউ না, থাকতে পারেনা। এখানে সমস্যা স্থান নির্বাচন নিয়ে এবং একটি সুন্দর নির্মাণ শৈলী ধ্বংস করা নিয়ে।