চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্যারিস চুক্তি বাতিলে ট্রাম্পের ঘোষণায় হতাশা-ক্ষোভ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু বিষয়ক প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। ‘মার্কিন স্বার্থ রক্ষা হয়নি’ বলে তা সংশোধনের প্রস্তাবও বাতিল করেছে তারা। ‘ন্যায্য’ চুক্তি করতে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই এক যৌথ বিবৃতিতে তা প্রত্যাখান করে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি।

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে প্যারিসে ওই জলবায়ু চুক্তি হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি যাতে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয় এবং তা ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার প্রচেষ্টার কথাও বলা হয়। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শুক্রবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে আসলে এই শতক শেষে বৈশ্বিক তাপমাত্রা .৩ সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কোন সময়ের উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তবে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, এতে প্রবেশের (১৬ নভেম্বর, ২০১৬) তিন বছর পরেই শুধু তা প্রত্যাহার করা যাবে। চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে লাগবে আরও এক বছর। অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ পরেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

প্যারিস চুক্তির বিরোধীতা করে ট্রাম্প বলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শাস্তিস্বরুপ। প্যারিস চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ৬৫ লাখ চাকরি হাতছাড়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব কারণে অর্থনৈতিকভাবে দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও ভারত লাভবান হচ্ছে বলেও মন্তব্য তার।

ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা ও তার নাগরিকদের সুরক্ষার প্রধান দায়িত্বই পালন করছি। আমরা চাইনা অন্যান্য নেতারা বা দেশগুলো আমাদের নিয়ে আর হাসাহাসি করুক এবং তারা তা করবে না।

বিজ্ঞাপন

তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এতে করে ভবিষ্যতকে অস্বীকার করা হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল একে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলেছেন। প্যারিস চুক্তিকে ‘অপরিবর্তনীয়’ উল্লেখ করে শুক্রবার তিনি বলেন, কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না।

এছাড়াও প্যারিস চুক্তির স্বপক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জুঙ্কার। ব্রাসেলসে চীনের সাথে এক সম্মেলনের উদ্বোধন করে তিনি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘গুরুতর ভুল’ বলেন। প্যারিস চুক্তি থেকে পেছনে হটার কোন সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য তার।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা রক্ষা করে প্যারিস চুক্তি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল মাক্রোঁ ট্রাম্পের বক্তব্যই ভিন্নভাবে বলেছেন, আমাদের বিশ্বকে মহান করার দায়িত্ব আমাদের সবার। জাপানের অর্থমন্ত্রী টারো আসো বলেন, আমি শুধু হতাশই নই, ক্ষুদ্ধও। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই থামবে না।

ক্ষুদ্র দ্বিপ রাষ্ট্রগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছেন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে তাদের উপর। সমুদ্র উচ্চতা বাড়লে দেশগুলো তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ডিজনির প্রধান নির্বাহী রবার্ট ইগার এবং উদ্যোক্তা এলন মাস্ক হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। টেক জায়ান্ট টেসলার প্রধান মাস্ক বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তব। প্যারিস চুক্তি পরিহার আমেরিকা তথা বিশ্বের জন্য ভালো নয়।

ডেমোক্রেট নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেও একে স্বাগত জানিয়েছেন রিপাবলিকান দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এছাড়াও আমেরিকার সর্ববৃহৎ কয়লা খনি প্রতিষ্ঠান পিবোডি এনার্জি দাবি করে, এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতিতে বাজে প্রভাব ফেলে।