চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুলিশের কাছে দেয়া সাক্ষ্যতে যা বলেছিলেন নুসরাত

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার।

ওই সময় যৌন হয়রানির শিকার নুসরাতের সাক্ষ্য নিয়েছিল সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। সাক্ষ্যটি ভিডিওতে ধারণ করে রাখা হয়েছিল। সেই ভিডিওচিত্র এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে নুসরাত জানান, মাদ্রাসার প্রথম বর্ষ থেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন তিনি। প্রায়ই তাকে পিয়ন নূর আলমকে দিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যেত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। তাকে ডেকে নিয়ে অশালীন কথা বলত, হাত ধরত।

নুসরাত জানান, এর আগে অধ্যক্ষ তাকে রুমে একা ডেকে বলেছিল, ‘তোর মুখটা খোল।’ কিন্তু নুসরাত মুখের কাপড় সরাননি।

‘উনি বলছিলেন, তোকে আমার খুব ভালো লাগে। আমি বলেছি, হুজুর এসব আপনি কী বলছেন! আপনি আমার বাবার সমতূল্য। আমার আব্বুও একজন শিক্ষক। আপনি এগুলো বললে তো আমার সব খারাপ লাগে।’

এরপর প্রথম বর্ষেই আরও তিনবার তাকে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে তাকে অশোভন কথা বলেছিল বলে অভিযোগে জানিয়েছিলেন নুসরাত।

ফেনী-শিক্ষার্থী-যৌন হয়রানি-মাদরাসার অধ্যক্ষ-নুসরাতের
সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা

এ ব্যাপারে অন্য আরেক হুজুরকে জানালে তিনি চুপ করে থাকতে বলেছিলেন বলে জানান নুসরাত। ‘উনি বললেন, তোর জীবনে তো একটা কলঙ্ক হয়েই গেছে। এখন চুপ করে থাক। প্রিন্সিপ্যালও এটার সুযোগ নিলেন। বললেন তোকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করবে না। এর চেয়ে তুই আমার সাথে থাক।’

২৭ মার্চ ক্লাসে সহপাঠীদের সঙ্গে শেষ ক্লাস উপলক্ষে পরদিন অনুষ্ঠান করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন নুসরাত। ওই সময় তাকে আবারও নিজ কক্ষে ডেকে পাঠায় সিরাজ উদদৌলা। ওই সময় দুই বান্ধবীকে সাথে নিয়ে গেলে পিয়ন বাকি দু’জনকে ঢুকতে দেয়নি। বলেছে, নুসরাতের সঙ্গে অধ্যক্ষের জরুরি কথা আছে।

নুসরাত ভেতরে যাওয়ার পর আবারও তাকে অশোভন কথা বলে হাত ধরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ। এক পর্যায়ে শরীরের অন্যত্র হাত দিয়ে নিপীড়নের চেষ্টা করলে হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে আসেন।

সাক্ষ্যতে পুলিশের কাছে সিরাজ উদদৌলার বিচার চান নুসরাত। ভিডিওর শেষে তাকে বলতে শোনা যায়: ‘আমি আর বাঁচবো না, স্যার।’

ভিডিওটি দেখুন এখানে: