চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল ভারত

প্রথমে ব্যাটে, পরে বলে, কোনো বিভাগেই ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সরফরাজদের দেয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্য ১২৬ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই টপকে গেছে রোহিতের দল।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান ফেভারিটের তকমা নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছে। সেখানে বিরাট কোহলিবিহীন ভারতকে একটু পিছিয়েই রেখেছিলেন বিশ্লেষকরা। তার উপর আগেরদিনই হংকংয়ের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে পুরো ১০০ ওভার খেলতে হয়েছে ভারতকে। পরপর দুদিন ম্যাচ, ক্লান্তি, এসব নিয়েও বেশ কথা হয়েছে টুর্নামেন্টের আগে। কিন্তু বুধবার মাঠে নেমে দেখা মিলল উজ্জীবীত ভারতেরই।

দুবাইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে এসে শোয়েব-বাবরের ৮২ রানের জুটির পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দুইশ ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ওভারের আগেই গুটিয়ে গেছে, ৪৩.১ ওভারে অলআউটের সময় তাদের সংগ্রহ থমকে যায় ১৬২ রানে। জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে ২৯ ওভারেই লক্ষ্যে নোঙর ফেলে ভারত।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনীতে ১৩.১ ওভারেই ৮৬ রান তুলে ফেলেন রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান। অবশ্য ফিফটির পরই ফিরেছেন ভারত অধিনায়ক। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৯ বলে ৫২ রানের ইনিংস রোহিতের।

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ধাওয়ান এদিন ফিফটি হাতছাড়া করে ফিরেছেন। ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৪ বলে ৪৬ রানের ইনিংস এ বাঁহাতি ওপেনারের।

বাকি কাজটুকু সারেন আম্বাতি রাইডু ও দিনেশ কার্তিক, দুজনই সমান ৩১ রান করে তুলে অপরাজিত থাকেন।

বিজ্ঞাপন

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ছেন হার্দিক পান্ডিয়া

এর আগে পাকিস্তান শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায়, দলের সংগ্রহ ৩ হতেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার, উমাম-উল-হক (২) ও ফখর জামান (০)।

শুরুর ধাক্কাটা সামলে নিতে চেষ্টা করেছিলেন বাবর ও শোয়েব। তাদের ১০৩ বলে গড়া ৮২ রানের জুটিটি ভাঙতেই আবারও ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে। প্রথমে ফেরেন বাবর, ৬ চারে ৬২ বলে ৪৭ রানে।

শোয়েবকে দর্শক বানিয়ে তারপর সাজঘরে ফিরে যান সরফরাজও (৬)। বদলি খেলোয়াড় মনিষ পান্ডের দারুণ এক ক্যাচে আটকে যান পাকিস্তান অধিনায়ক। জাদবের বলে সজোরে হাঁকিয়েছিলেন সরফরাজ, মনিষ ক্যাচ নিয়ে দেখলেন বাউন্ডারির বাইরে চলে যাচ্ছেন, তারপর বল বাতাসে ভাসিয়ে সীমানার বাইরে থেকে ফিরে এসে সেটি আবারও তালুবন্দী করেন।

অধিনায়ক ফেরার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ করা শোয়েব মালিকও সাজঘরের পথ ধরেন, একটি করে চার-ছক্কার ইনিংস তার। এরপরই ধসের শুরু।

সেখান থেকে আসিফ আলি ৯ ও শাদাব খান ৮ রানে দ্রুতই সাজঘরে ফিরলে মিডলঅর্ডার পেরিয়ে টেলও বেরিয়ে পড়ে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ২১ ও মোহাম্মদ আমির অপরাজিত ১৮ রান করলে কোন রকমে দেড়শ পেরিয়ে যায় দলটি।

ভারতের হয়ে পেসার ভূবনেশ্বর কুমার ও স্পিনার কেদার যাদব ৩টি করে উইকেট নিয়ে সেরা। জাসপ্রিত বুমরাহ ২ উইকেট নিয়ে তাদের সঙ্গ দেন। কুলদীপ যাদবের ঝুলিতে গেছে এক উইকেট। নিজের পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলটি করার সময় ফলোথ্রুতে পড়ে গিয়ে কোমরের চোটে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন কোনো উইকেট না পাওয়া হার্দিক পান্ডিয়া।