চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপের সঙ্গী ভারত

মূল দল আসেনি। মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া স্কোয়াড নিয়েই এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে এসেছে ভারত। সেই যুবা দলই কতটা দুর্দান্ত হতে পারে তা হাড়েহাড়ে টের পেল পাকিস্তান।

বিজ্ঞাপন

সাফ সুজুকি কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ এগারোবারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত।

আগামী শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে সাফের বর্তমান ও সর্বোচ্চ সাতবারেরও চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বুধবার দ্বিতীয় সেমিতে গ্যালারিতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের খানিকটা ঝাঁজ মিললেও মাঠের লড়াইটা ছিল পুরোপুরি ভারতকেন্দ্রিক। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় বলের দখল রাখলেও ভারত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি একমাত্র পাকিস্তানি গোলরক্ষক ইজাজ বাটের কারণে।

কী করেননি ইজাজ বাট! ৯ মিনিটে মানভির সিংয়ের বুলেট গতির শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়েছেন। ২৭ মিনিটে আশিক কুরনিয়ানের আরেকটি জোরাল শট প্রায় একই ভঙ্গিমায় ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রেখেছেন এ গোলরক্ষক।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানও একেবারে সুযোগ পায়নি এমনও নয়। ৪১ থেকে ৪৪ মিনিটের মধ্যে একবার ডি-বক্সের ভেতরে ও আরেকবার বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। আর যোগ করা সময়ে সাদ্দাম হুসেনের শটকে হাসান বশির মাথায় ছুঁয়ে দিলেও জালে জড়াতে না পারার ব্যর্থতায় কপালে হাত উঠেছে পাকিস্তানি সমর্থকদের।

প্রথমার্ধে যা হয়নি, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই আক্ষেপটা পূরণ করে ফেলে ভারত। ৪৮ মিনিটে বাঁপ্রান্ত ধরে আশিক কুরনিয়ানের ক্রসে আলতো ছোঁয়া লাগিয়ে বল জালে জড়ান ফরোয়ার্ড মানভির সিং।

ভারতের হয়ে দ্বিতীয় গোলটিও মানভির সিংয়ের। তবে দলীয় প্রচেষ্টার দারুণ এক নিদর্শন হয়ে থাকল সেই গোলটি। ৬০ মিনিটে দারুণ ক্ষীপ্রতায় পাকিস্তানি রক্ষণে ঢুকে যান ডিফেন্ডার লালিয়ানজুয়ালা। সুবিধাজনক স্থানে না থাকায় বল বাড়িয়ে দেন আরেক ডিফেন্ডার ভিনিত রায়ের দিকে। ভিনিত নিজেও বল ধরে রাখেননি। আলতো ছোঁয়ায় এগিয়ে দেন মানভিরের দিকে। ডি-বক্সের একটু ভেতরে ঢুকে ভারতীয় ফরোয়ার্ড কেবল বলে শটটাই নিলেন। তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান।

দুই গোলকেও অবশ্য নিরাপদ ভাবেনি ভারত। ৮৪ মিনিটে আশিক কুরনিয়ানের উড়িয়ে দেয়া ক্রসে হেড করে ব্যবধানকে পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান বদলি ফরোয়ার্ড সুমিত পাসি।

ভারত-পাকিস্তান খেলছে মাঠে। উত্তেজনা ছড়াবে না এমনকি হয়! রাজনৈতিক বৈরিতার ঘটনা তো নিত্য! তেমন ভাব মাঠেও টেনে আনলেন ভারতের লালিয়ানজুয়ালা। ৮৬ মিনিটে মেজাজ হারিয়ে পাকিস্তানের হাসান বশিরকে মারলেন ঘুষি। সতীর্থকে মাঠে গড়াতে দেখে মেজাজ হারালেন মহসিন আলিও। ধাক্কার ফিরতি হিসেবে লালিয়ানজুয়ালাকেও মারেন ধাক্কা। দুজনে সমান দোষে দোষী হওয়ায় ছাড় দিলেন না রেফারি। লাল কার্ড দেখালেন লালিয়ানজুয়ালা ও মহসিন দুজনকেই।

দুই দলই দশজনের দল হয়ে যাওয়ায় শেষ সময়ে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পাকিস্তান। তাতে ৮৮ মিনিটে নিজেদের একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করে ব্যবধান কমান হাসান বশির।