চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাইলটের ধূমপানই ইউএস বাংলা বিধ্বস্তের কারণ: নেপালী তদন্ত কমিশন

নিষেধ থাকা সত্ত্বেও উড়োজাহাজের ভেতরে ককপিটে পাইলটের ধূমপানই ছিলো গত বছরের মার্চে নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের কারণ বলে জানিয়েছে নেপালী তদন্ত কমিশন কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনটি নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমানচালনা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর প্রকাশিত হয়। এই বিষয় নিয়ে সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটায় বিস্তারিত জানাবে সিভিল অ্যাভিয়েশন।

সংবাদ সংস্থা এএনআই এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের জন্য গঠিত প্যানেল উড়োজাহাজের ককপিটের ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, দায়িত্বে থাকা পাইলট উড়ন্ত অবস্থাতেই উড়োজাহাজের ভেতরে ধূমপান করেছিল।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল টাওয়ার এবং উড়োজাহাজের ক্রুদের মধ্যে যোগাযোগের বিশৃঙ্খলাকেও দায়ী করা হয়েছে।  ভয়েস রেকর্ডার শুনে কন্ট্রোল টাওয়ার ও বিমানের ক্রুদের মধ্যে ০২ ও ২০ নাম্বার রানওয়ে নিয়েও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ যেহেতু নিশ্চিত নয় যে এই নিরাপত্তা অবহেলার বিষয়টিই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিলো কিনা তাই একটি দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিলো বিধ্বস্তের কারণগুলো সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে।

সেই কমিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিলো ক্রুদের সঠিক পরিচালনা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে।

২০১৮ সালের ১২ই মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং ১ জন চীনা নাগরিক।

উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশী, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি ৪ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনায় প্রথমেই মৃত্যু হয় ওই ফ্লাইটের সহকারি পাইলট এবং ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট পৃথুলা রশিদের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদও মারা যান।