চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূলের কাছাকাছি বিজেপি

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। গণনা শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি।

বিজ্ঞাপন

এনডিটিভি জানায়, রাজ্যের ৪২ আসনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২২টিতে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ১৭ আসন নিয়ে বিজেপি আছে তার ঠিক কাছাকাছি।

বিজেপির ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যের নিজেদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত করেছে বিজেপি। তবে মমতা ২০১২ সাল থেকে বিজেপির অনেকটা জায়গা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বিজেপির ভূমিকায় দেখা যায় যে, গত কয়েক বছরে দলটি বাংলায় শক্ত অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যে তৃণমূল থেকে বিজেপি উপকৃত হচ্ছে তা নয়। বরং বামপন্থী থেকে উপকৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, বাম ভোটের ৩০ শতাংশ ভোট বিজেপির কোটায় হস্তান্তর হয়েছে। অথচ ২০১৪ সালে বিজেপি রাজ্যে মাত্র দুটি আসন জিতেছিলো। এরপর বাংলাকে দুর্গম দূর্গ বলে মনে করেছিল বিজেপি।

বিজ্ঞাপন

তবে বিগত দুই বছরে বিজেপির প্রচেষ্টার কমতি ছিলো না। রাজ্য বিশেষত ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে দলটি। বাংলায় সভা-সমাবেশ বাড়িয়ে দিয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ‘মা শ্রীরাম’ ‘মা দুর্গা’ এসব নিয়ে দুই পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দ্বন্দ্ব দেখা যায় বারবার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বাংলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে মমতাও সভা করেছেন। এসব সভা থেকে পক্ষবিপক্ষে বাক্যের তীর গেছে বারবার।

যেমন নরেন্দ্র মোদী তার বক্তৃতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘স্পিড ব্রেকার দিদি’, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদীকে ‘এক্সপায়ারি বাবু’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রতি দফা ভোটগ্রহণে ব্যাপক অশান্ত দেখা যায়। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

বাংলায় বিজেপির প্রচারণার দায়িত্বে থাকা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়েন, আমরা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে রাজনীতিতে আমরা লড়াই করি না”।

বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলায় ভোট রিগিং এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। ইতোমধ্যে ফলাফল নিয়ে সেখানে যে জরিপ হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী টুইটার পোস্ট করে বলেছেন, “বুথফেরত জরিপের আষাঢ়ে গল্প বিশ্বাস করি না। ইভিএম কারসাজি করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। এটি ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা।”

দেশের সব বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী এবং সাহসের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে লড়াই করব।’