চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পরীক্ষা বাতিল না হলে সব বিভাগে তালা ঝুলবে’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ঘোষণা

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নতুন করে নেয়াসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু সন্ত্রাসবিরোধী ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

মিছিলটি ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, মধুর ক্যান্টিন, লেকচার থিয়েটার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন, স্মৃতি চিরন্তন হয়ে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

মিছিলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, মো, আতাউল্লাহ, বিন ইয়ামিন উল্লাহ, লুৎফুন নাহার লুমাসহ শ’ পাঁচেক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘প্রশ্নফাঁস প্রশ্নফাঁস, মেধাবীদের গলায় ফাঁস’; ‘প্রশ্নফাঁস কেন হলো, প্রশাসন জবাব চাই’; ‘ঘ ইউনিটের পরীক্ষা, বাতিল চাই বাতিল চাই’; ‘প্রশ্নফাঁসের পরীক্ষা, ছাত্রসমাজ মানে না’; ‘ঘ ইউনিটের পরীক্ষা, পুনরায় নিতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। পরে রাজু ভাস্কর্যে তারা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানান।  অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।

এসময় পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আজকের মধ্যে ঘ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করা না হলে আগামীকাল থেকে প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলবে।  ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা না নেওয়া হলে ছাত্রসমাজ অচিরেই তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন তিন দফা দাবি পেশ করেন।

দাবিগুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে, প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং বিগত সেশনে জালিয়াতি করে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিল করতে হবে।

গত ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে

ওইদিন পরীক্ষা শুরুর ৪৩ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তখন প্রশ্নফাসের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।