চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পরিবার-পরিজন ছেড়ে প্রতিদিন রাস্তায় ইফতার

যানজট নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছরই নগরবাসীকে যতটা দ্রুত সম্ভব গন্তব্যে পৌঁছানোর কাজটি করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে পবিত্র রমজান মাসে সেই দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় নগরবাসী যখন নিজেদের পরিবারের সাথে ইফতার করার সুযোগ পান, তখন সেই ট্রাফিক সদস্যদের পরিবার ছেড়ে রাস্তায় ইফতার সারতে হয়।

বিজ্ঞাপন

এতে অবশ্য আফসোস নেই ট্রাফিক পুলিশের। বরং তারা বলছেন, এটা তাদের চাকরিরই অংশ, নাগরিকদের সুবিধার জন্য প্রতি রমজানেই রাস্তায় ইফতার করে আনন্দ পান।

শনিবার বিকালে সরেজমিন রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল, সেখান থেকে অসংখ্য বাস যাত্রা করছে গন্তব্যে। আর সামনের মোড়ে যানজট, বিশৃঙ্খলা এড়াতে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

মহাখালী জোনের ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর বিভাগ) সার্জেন্ট বায়েজীদ হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা যদি রাস্তায় না থাকি তাহেলে প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়, নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়েন, তাই আমাদের বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই ইফতার করতে হয়।

‘‘এছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে মহাখালীতে গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যায়, তাই আমাদের এ সময় বাড়তি সতর্কতায় থাকতে হয়।’’

পুলিশের চাকরিটাই হলো জনগণের জন্য কাজ করা, এমন মন্তব্য করে সার্জেন্ট খলিল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমরা নাগরিকদের ঘরে ফেরাতে সবসময়ই অক্লান্ত পরিশ্রম করি, রৌদে পুড়ি, বৃষ্টিতে ভিজি আর রমজানের সময় এটা বেশি বেড়ে যায়। তাদের ঘরে ফেরাতে আমরা ঠিক মতো ইফতার করতে পারি না, রাস্তায় ইফতার করতে হয়।

‘‘আমরা যানজটসহ সব ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াত কাজ করছি, তবে অন্যান্যাবারের রমজান মাসের তুলনায় এবার রাজধানীতে যানজট অনেক কম।’’

বিজ্ঞাপন

মহাখালীর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশে রেলক্রসিংয়ের সামনে ইফতারের আগে হঠাৎই লেগে যায় যানজট। বেশ কয়েকজন ট্রাফিক সদস্য কিছুক্ষণ চেষ্টায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সেখানে দেখা গেল, ইফতারের আগ মুর্হূতে ডিউটি বদলে কেউ পানি,মুড়ি, শরবতের ব্যবস্থা করছেন। আবার কেউবা রাস্তা সামাল দিচ্ছেন। ইফতারের মিনিট পাঁচেক আগে মহাখালী রেলক্রসিংয়ের মোড়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন মহাখালী জোনের সার্জেন্ট মেহেদী।

পরিবার স্বজনদের রেখে ইফতার করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে, তাছাড়া আমি বাড়ি ফিরতে না পারলেও অন্য নাগরিকরা তো ঘরে ফিরতে পাচ্ছে, ইফতার করতে পারছে।

‘‘পুলিশের সিনিয়র, জুনিয়র, সহকর্মী সবাই মিলেই ইফতার করছি, এটাও আমাদের আরেকটি পরিবার।’’

‘ইফতারের সময়ে হয়েছে’, ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোলরুম থেকেই রোজা ভাঙ্গার অনুরোধ আসে। আর বাইরে আযানের ধ্বনি। মহাখালীর পুলিশ বক্সে সব ট্রাফিক পুলিশ মিলে ইফতার করছেন, কোনো রকম ইফতার শেষ করেই আবার তারা রাস্তার সিগন্যালে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।

ছবি: সাকিব উল ইসলাম

ভিডিওতে দেখুন: