চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পঞ্চম বেদনায় মন গুলজার সুর-সঙ্গীত-গীতিকবিতায়

রাহুল দেব বর্মণ এর ৭৯ তম জন্মবার্ষিকী

গুলজার পাঁচ বছরের বড় ছিলেন। কিন্তু বন্ধুত্বের বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি বয়সের ব্যবধান। বরং ভারতীয় সিনেমা সঙ্গীতের সুর-শব্দের অসাধারণ যুগলবন্দীর অন্যতম গুলজার আজ ২৪ বছর পর আত্মার একটি অংশ বিয়োগের মতই কাতর থাকেন। বিমল রায়ের সহকারী যখন তিনি তখন পঞ্চম তার বাবার সঙ্গে সংযুক্ত। বাবাও যেন তেন কেউ নন! বড় কর্তা। শচীন দেব বর্মণ। বড় কর্তার পরিচয় হল যখন তখন এও বুঝতে বাকী নেই কে এই পঞ্চম। রাহুল দেব বর্মণ।

বিজ্ঞাপন

দুই তৎকালীন তরুন শপথ নিয়েছিল। গুলজার যদি পরিচালক হন তবে রাহুল দেব বর্মণ ওরফে পঞ্চম সুরকার-সঙ্গীত পরিচালক হবেন। বেশি দেরী হয়নি। ‘পরিচয়’ সিনেমাতে জুটিবদ্ধ হন দুইজন। তারপর পুরোটা ইতিহাস। সলিল চৌধুরীর মতে, সবসময়ের সৃজনশীল এবং নিরীক্ষাধর্মী রাহুল দেব বর্মণ। সবসময়ের সেরা সঙ্গীত পরিচালক।’ ভুল কিছু কি বলেছিলেন?

বাবার সঙ্গে আগে থেকেই সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনা করেন পঞ্চম। যদিও তা কোনদিন বলেননি। ধারণা করা হয়, গুরু দত্তের ‘পিয়াসা’ সিনেমার ‘সর যে তেরা চক্রায়ে’ গানটির সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা রাহুল দেব বর্মণেরই ছিল। কিন্তু নিজেকে একক ভাবে চেনাতে ১৯৬৬ এর ‘তেসরা মঞ্জিল’ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পশ্চিমা এবং রেট্রো সঙ্গীতকে ভারতীয় ক্লাসিকের সঙ্গে সমন্বয় সে সময়ের তুলনা বিদ্রোহী ছিল। এরপর ১৯৭০ থেকে ৮০ গুলজার-পঞ্চম জুটি ভারতীয় সিনেমা সঙ্গীতের অনবদ্য জুটি হিসেবে চিরকালের পাতায় ঠাই নিয়েছে।

কোন এক সাক্ষাৎকারে গুলজার বলেছিলেন, আমাদের কাজের ধরণ ছিল একদম আলাদা। লং ড্রাইভে ড্রাইভিং হুইলে টোকা দিতে দিতে সুর করে ফেলত। তার কাছের মানুষরাও জানতেন, কাপ-পিরিচ অথবা বোতল বাজিয়ে সুর করার সহজাত বিষয়টি।

আজ রাহুল দেব বর্মণের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী। তার গান বাজছে রেডিও-টেলিভিশন বা অনলাইনে। কিন্তু আজও গুলজার খুঁজে বেড়ান তার তার অকৃত্রিম বন্ধু আর সঙ্গীত সহচরকে। এ শূণ্যতা আর পূরণ হবেনা কখনো! এমন শূণ্যতা কি পূরণ হয়।

গুলজার-রাহুল দেব বর্মণ জুটির ৫ সৃষ্টি

আঁধি (১৯৭৫)

পরিচয় (১৯৭২)

ঘর (১৯৭৮)

মাসুম (১৯৮৩)

ইজাজত (১৯৮৮)