চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ন্যু ক্যাম্প বার্সার ‘উপাসনালয়’, মেসি ‘দেবতা’!

ইয়ুর্গেন ক্লপ কী করবেন ভেবেই পাচ্ছিলেন না। লিভারপুল কোচ পরিচয় ভুলে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিখাদ দর্শক হয়ে অনিন্দ্য সুন্দর এক গোল উপভোগ করাকেই শ্রেয় মনে করলেন। এ জার্মান ভদ্রলোক মুখে এক গাল হাসি নিয়ে দেখলেন কীভাবে লিওনেল মেসি নামক এক ঝড়ে ক্রমেই তলিয়ে গেল তার দল!

বিজ্ঞাপন

কেবল ক্লপই নন, মেসির বন্দনায় বিশেষণ হারিয়ে বসলেন টিভি ধারাভাষ্যকাররাও। ৮২ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া বার্সেলোনা অধিনায়কের বাঁকানো ফ্রি-কিক যখন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়াল, তখন যেন পেশাদারিত্বও ভুলে গেলেন ধারাভাষ্যকাররা। বলেই বসলেন, ‘এইবার বুঝলাম ভক্তরা কেনো তার পূজা করে। মেসি খেলার দেবতা। খেলার ঈশ্বর!’

ধারাভাষ্যকার যেন মনের অজান্তেই মেসির হয়ে উত্তরটা দিয়ে দিলেন ক্লপকে। মঙ্গলবার ম্যাচের আগে লিভারপুল কোচ বলেছিলেন, ‘ন্যু ক্যাম্প কোন উপাসনালয় নয় যে তাতে মাথা ঠেকাতে হবে!’ কিন্তু মেসির খেলা দেখে নিশ্চয় নিজের মত পাল্টাবেন ক্লপ!

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাতে ক্লাব ফুটবলে ৬০০তম গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বুধবার তার পাশে চলে এলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি। কিন্তু রোনালদোর মাইলফলক নিয়ে যতটা না হৈচৈ হয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশিগুণ মাতামাতি মেসির ৬০০তম গোল নিয়ে। এর কারণ হতে পারে দুটি।

প্রথমত, বার্সা মহাতারকা তার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ১মে-তে। ১৪ বছর আগে ঠিক এই দিনেই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে বার্সার জার্সিতে প্রথম গোলটি করেছিলেন এলএম টেন। এই ১৪ বছরে বার্সার জার্সি গায়ে ৬৮৩ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। যেখানে রোনালদোকে খেলতে হয়েছে ৮০১ ম্যাচ। ব্যবধানটা অনেক।

দ্বিতীয় কারণ, মাইলফলক ছুঁতে গিয়ে লিভারপুলকে তছনছ করে দিয়েছেন মেসি। তার জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সা, সেটা আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমির প্রথম লেগের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। মেসির কল্যাণেই তিন মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে কাতালান ক্লাবটি। আর রোনালদো তার মাইলফলক ছুঁয়েছেন সিরি আ-তে, ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। সিআর সেভেনের গোল সত্ত্বেও সে ম্যাচে জয় পায়নি তুরিনের বুড়িরা!

বুধবার কেবল জাদুময়তা আর গোল দিয়েই ম্যাচ মাতাননি মেসি, যারা তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদেরও দিয়েছেন জবাব। পুরো ম্যাচে বার্সার সমর্থকদের কাছে দুয়ো পেয়েছেন কৌতিনহো। অধিনায়ক হিসেবে যে বিষয়টি ভালো লাগেনি সেটি মাঠেই প্রমাণ করে দিয়েছেন মেসি। ফ্রি-কিকে গোল করার পর নিজ সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে চুপ থাকতে বলেছেন। ম্যাচ শেষে কৌতিনহোকে আগলে রেখে বলেছেন, ব্রাজিলিয়ান তারকাকে যেন আর কোনপ্রকার বিরক্ত না করা হয়। দেবতা তার অনুসারীদের দুঃখ বুঝবেন না তা কী করে হয়?

পায়ের জাদু, গোল, অধিনায়কত্ব আর নেতৃত্বগুণ দিয়ে লিভারপুলকে একাই প্রায় ধসিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ষষ্ঠবার ইউরোপসেরা হতে এমন মেসিকেই বিশেষ দরকার বার্সার। তবে ক্লাবের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিজের সেরাটা বেশি দরকার মেসির নিজেরই। কারণ তাতে সর্বোচ্চবার সেরা ফুটবলার দৌড়ে ঝেড়ে ফেলা যাবে প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোকে। গোলের মতো দুজনের ব্যালন ডি’অরের সংখ্যাটাও যে সমান, পাঁচ!