চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নোংরা মোজা আর শ্যাওলায় ‘শুভ্রতা হারাচ্ছে’ তাজমহল!

ভারতের আগ্রার বিশ্বখ্যাত তাজমহল তার চকচকে সাদা রঙ হারিয়ে বাদামি আর সবুজ হয়ে যাচ্ছে। আর তার জন্য দায়ী নোংরা মোজা আর শ্যাওলা!

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টকে বুধবার এমন তথ্যই জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সংগঠন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)।

তাজমহলের রঙ নষ্ট হওয়া ঠেকাতে না পারায় ভারতের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনার ব্যবস্থাপনা ও মেরামতের দায়িত্বে থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে তীব্রভাবে তিরষ্কার করেন আদালত। বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, এএসআই এটা মানতে নারাজ যে আসলেই কোনো সমস্যা আছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টিই হতো না যদি এএসআই তার কাজ ঠিকঠাকভাবে করত।’

শুধু তাই নয়, আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, বিশ্বনন্দিত শুভ্র মার্বেলে নির্মিত এই সমাধিক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এএসআইয়ের আদৌ কোনো দরকার আছে কিনা, তা যেন ভেবে দেখা হয়।

এএসআই আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আদালতকে বলে, ‘তাজের কিছু কিছু অংশের মেঝে নোংরা হওয়ার কারণ সেখানে লোকজন হাঁটাহাঁটি করে। আমরা সবাইকে মোজা সরবরাহ করি না হাঁটার জন্য। যাদের মোজা থাকে না শুধু তাদেরকেই মোজা দিয়ে থাকি আমরা। বাকিরা নিজেদের মোজা নিয়েই ঢোকে।’

সরকার তাজমহলে প্রবেশের জন্য দর্শণার্থীদের উদ্দেশ্যে ডিসপোজেবল, বা একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়ার মতো মোজা সরবরাহের নির্দেশ দিয়ে রেখেছে আগেই। এ ধরনের মোজা পশ্চিমা দেশগুলোতে ঐতিহাসিক স্থাপনায় দর্শণার্থীদের দেয়া হয়।

মোজার পাশাপাশি বিচারকদের সঙ্গে তিক্ত বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উঠে আসে শ্যাওলা প্রসঙ্গ। এএসআই জানায়, তাজমহলের বিবর্ণ হওয়ার পেছনে বড় একটি কারণ হলো শ্যাওলা।

বিজ্ঞাপন

বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত তখন জানতে চাইলেন, ‘কিন্তু শ্যাওলা তাজমহলের ওপরের অংশগুলোতে গেল কীভাবে?’

‘উড়ে গেছে,’ প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জবাব।

তখন বিরক্ত হয়ে বিচারকরা প্রশ্ন করেন, ‘শ্যাওলা উড়তে পারে নাকি?’তাজমহল-তাজমহলের রঙ-শ্যাওলাা-মোজা

এনডিটিভি জানায়, গত সপ্তাহে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১৭ শতকে নির্মিত তাজমহলের কিছু ছবি দেখে এর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, তাজমহলের এই দূষিত রূপের জন্য সরকারি সংস্থাগুলোই দায়ী।

বিচারপতি এমবি লোকুর এবং দীপক গুপ্ত সরকারের উদ্দেশ্যে ওই সময় বলেন, ‘আমরা জানি না আপনাদের আসলে যোগ্যতা আছে কি নেই। যদি যোগ্যতা থেকেও থাকে, আপনারা তা ব্যবহার করছেন না।’

‘বা হয়তো আপনাদের কিছু আসে যায় না।’

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটককে আকৃষ্ট করে তাজমহল। একে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপনাশৈলীর সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো উদাহরণের একটি হিসেবে মনে করা হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাজমহলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একে ‘সময়ের গালে একবিন্দু অশ্রু’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

অথচ এই তাজমহল এখন তার বিখ্যাত শুভ্র বর্ণ হারাতে বসেছে। এমনকি তাজমহলের নিচতলায় থাকা শাহজাহান ও মমতাজের সমাধি বছরে জনগণের উদ্দেশ্যে মাত্র একবার খোলা হলেও সেগুলোর মার্বেল পাথরও হলদে ও বাদামি হয়ে যাচ্ছে। তাই এর উপযুক্ত সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন বিশেষজ্ঞরা।