চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নেইমারের দুঃস্বপ্ন!

বয়স চলছে ২৭। বিশ্বসেরা ফুটবলার হওয়ার উপযুক্ত সময় তো এখনই। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে বার্সেলোনার মতো ক্লাব ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু কীসের কী! পিএসজিতে দুই মৌসুম পার করা ব্রাজিলিয়ান তারকার এখন প্রতি পদে সঙ্গী হয়ে বসেছে অযাচিত বিতর্ক!

বিজ্ঞাপন

লিগ শিরোপায় মন ভরে না, চাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি। তাই ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচের সঙ্গে অনেক জলঘোলা করে নেইমারকে বার্সা থেকে কিনে এনেছিল পিএসজি। শুরুতে দারুণসব কারিকুরি করে প্যারিসের দর্শকদের মনও জয় করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন।

টানা দুই মৌসুমে মাঝপথে চোটে পড়েছেন নেইমার। এই দুই মৌসুমে খেলেছেন মোট ৫৫ ম্যাচ, সময়ের হিসেবে ৪৭৭৮ মিনিট। অথচ বার্সার হয়ে এক ২০১৫/১৬ মৌসুমেই তার খেলার হিসাব ছিল ৪,৪৩৪ মিনিট!

পিএসজির হয়ে দুই মৌসুমের ঠিক ফেব্রুয়ারিতেই চোটে পড়েছেন বার্সার সাবেক তারকা। ইউরোপিয়ান ফুটবলে তখন নক-আউট পর্বের ব্যস্ত সূচি। গত মৌসুমে চোটে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের আগে। চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি নেইমার।

বিজ্ঞাপন

দলের মূল তারকা সেই সময় চোটে পড়ায় খেসারত দিয়েছে পিএসজি। অঢেল অর্থ খরচ করে সাজানো দল টানা তিন মৌসুমে পেরোতে ব্যর্থ দ্বিতীয় রাউন্ডের বৈতরণী।

কেবল ক্লাবেই নয়, জাতীয় দলেও সমানভাবে বিতর্কিত ব্রাজিলিয়ান তারকা। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ভালো খেলেছেন ঠিকই, কিন্তু তার অতিমাত্রায় নাটুকেপনা হাসির খোরাক যুগিয়েছে বিশ্বজুড়ে। সামান্য ট্যাকলে মাঠময় গড়াগড়ি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার হয়েছেন। বিরক্ত হয়ে সাবেকরা বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘নাটক বন্ধ করো নেইমার!’

গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো চোটে পড়ার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্রাজিলে ছিলেন নেইমার। পায়ে চোট নিয়েও রিও কার্নিভালে তার অংশগ্রহণ ভালো চোখে দেখেনি অনেক পিএসজি সমর্থক। এই চোট নিয়েই মাঠের বাইরে বসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেফারিকে গালাগালি করে নেইমারের তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেই সমর্থকরা।

কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই নয়, নেইমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ ঝুলে আছে লিগ ওয়ানেও। কাপ ফাইনালের পর এক দর্শককে ঘুষি মারায় তিন থেকে আট ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। ঘরোয়া ও ইউরোপ সেরার মঞ্চে মূল খেলোয়াড়ের এমন আচরণ ও শাস্তি নিয়ে ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পিএসজি। ইউরোপের একাধিক সংবাদ মাধ্যমের একটি কমন শিরোনাম ক্লাব মালিক আল খেলাফির কপালে ভাঁজ ফেলতে বাধ্য, যেখানে লেখা ‘রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্যই এত নাটক নেইমারের?’

মেসির ছায়ায় থাকতে চান না। বিশ্বসেরা হতে তাই ফ্রান্সে এসেছিলেন নেইমার। সেই তিনিই সবশেষ ব্যালন ডি অর লড়াইয়ে হয়েছেন ১২তম! অর্থাৎ, যা হতে চেয়েছেন দৌড়াচ্ছেন তার উল্টো পথে। মেসি-রোনালদোর পরেই যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত ফুটবলবিশ্বে সেই নেইমারই না একদিন হারিয়ে বসেন পথ! গুডবয় থেকে পেয়ে বসেন ফুটবলের ‘ভেরি ভেরি ব্যাড বয়ের’ তকমা!