চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নুসরাত হত্যা: আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন ৫ দিনের রিমান্ডে

ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আটক সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন এবং আরেক আসামি জাবেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারাফ উদ্দিনের আদালতে তাদের হাজির করার পর এই আদেশ দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনকে শুক্রবার সোনাগাজী তাকিয়া রোড থেকে আটক করা হয়। আর জাবেদকে ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া এজহারের আসামি নুরউদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে জাবেদ ও কামরুন নাহার মনির নাম উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

তারা জানান জাবেদ ও মনি সরাসরি কিলিংমিশনে অংশ নেয়। জাবেদ নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। মনি বোরকা সংগ্রহ এবং নুসরাতের হাত পা চেপে ধরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এই দুইজনের জবানবন্দিতে উঠে আসে রুহুল আমিন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতেন। কিলিং অপারেশনের পর কিলাররা রুহুল আমিনকে ফোন করে, তখন রুহুল আমিন বলে আমি জানি তোমরা চলে যাও।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।

অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল (সোমবার) রাতে অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের ৮ জন গ্রেফতারসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৪ জন। এরআগেও ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।