চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নুসরাত হত্যা: আ.লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ৩ আসামি আদালতে

ফেনী জেলা প্রতিনিধি: আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন, জাবেদ ও কামরুন নাহারকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারাফ উদ্দিনের আদালতে তাদের উপস্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ শাহ আলম।

এর আগে রুহুল আমিনকে শুক্রবার সোনাগাজী তাকিয়া রোড থেকে আটক করা হয়। কামরুন নাহার মনিকে ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ এপ্রিল একই আদালতে তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।

জাবেদকে ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন থেকে তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে আবার তিন দিনের রিমান্ড দেয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক শাহ আলম তাকে জাবেদ এবং কামরুন নাহার মনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিবেন বলে কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও রুহুল আমিনের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া এজহারের আসামী নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে জাবেদ ও কামরুন নাহার মনির নাম উল্লেখ করেন।

তারা জানান, জাবেদ ও মনি সরাসরি কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে। জাবেদ নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। মনি বোরখা সংগ্রহ এবং নুসরাতের হাত পা চেপে ধরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এ দু’জনের জবানবন্দিতে উঠে আসে রুহুল আমিন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতেন। কিলিং অপারেশনের পর কিলাররা রুহুল আমিনকে ফোন করে, তখন রুহুল আমি বলে, ‘‘আমি জানি তুমি চলে যাও।’’

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।

অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল (সোমবার) রাতে অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের ৮ জন গ্রেফতারসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৪ জন। ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকেও আটক করেছে পিবিআই। রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এই কমিটি অবশ্য শুক্রবারই বাতিল হয়ে গেছে।