চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া কনস্টেবলকে পুরস্কৃত করার সুপারিশ

কনস্টেবল রাসেল পেতে পারেন বিপিএম কিংবা পিপিএম পুরস্কার

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে বাঁচাতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান কনস্টেবল রাসেল।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নুসরাতকে বাঁচাতে কনস্টেবল রাসেলের সাহসীপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যদের চোখে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ফেনীর এসপিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও গাফিলতি প্রমাণ যেমন মিলেছে তেমনি কনস্টেবল রাসেলের অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভূমিকাও ছিল সাহসীপূর্ণ।

সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈন উদ্দিন বলেন, প্রতিবেদনে পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেলের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান রাসেল। এতে তারও হাত পুড়ে গেছে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া না হলে ঘটনাস্থলেই নুসরাত মারা যেত।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকাল পৌনে দশটায় মাদ্রাসার গেটে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে রাসেলসহ তিন কনস্টেবল দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মাদ্রাসার দারোয়ান মো. মোস্তফা ছাড়া অন্য কেউ সহযোগীতার জন্য এগিয়ে আসেনি। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টিকে অবহেলার চোখে দেখেছেন, সেখানে কনস্টেবল রাসেল পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, প্রতিবেদনে এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাকে বিপিএম কিংবা পিপিএম পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ১৩ এপ্রিল ডিআইজি (মিডিয়া) এসএম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন পুলিশ সদর দফতরে জমা দেয়।

প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত এসআই মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে ও এসআই মো. ইকবাল আহমদকে খাগড়াছড়ি জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।