চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচনী ইশতেহারে গণমানুষের ইস্যুগুলোর প্রাধান্য চাই

সাধারণ নীরব ভোটাররা ইশতেহারগুলো দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। আমরা সাধারণ ভোটার হিসেবে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের কিছু দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলন প্রত্যাশা করতে পারি।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যেক রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু বিষয় যেমন গণতন্ত্র, দুর্নীতি, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি, মেগা প্রকল্প, শিল্প কারখানা স্থাপন আর বেকার কর্মসংস্থান ইত্যাদি ইস্যু সব উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা থাকে। প্রচলিত ইশতেহার শিক্ষিত ও শহর সমাজে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করতে পারলেও গ্রামীণ আর সাধারণ মানুষের মাঝে খুব একটা আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে না বলে অনেকের ধারণা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাই দেশের অনেক বড় বড় ইস্যুগুলোকে পাশ কাটিয়ে সাধারণ নাগরিকের চোখে এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে নিম্ন বর্ণিত কিছু নীতি, কার্যক্রম এর বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই।

১। বহুত্ববাদ
প্রথম প্রত্যাশাটি হবে সমাজে বহুত্ববাদী চরিত্রের স্বীকৃতি। আমাদের দেশ বহুজাতিগোষ্ঠী, ভাষা, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, নদী-পাহাড় নিয়ে গঠিত একটি দেশ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি আরো প্রায় ৫০টি ভাষাভাষি মানুষের দেশ। এই দেশটির সৃষ্টিতে সকলের ন্যায় তাদের অবদানকেও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারাও অনেকের ন্যায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। খাগড়াছড়ি মং সার্কেলের মং রাজা শুধু প্রাসাদ খুলে দেননি নিজেও স্বশরীরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধ করে বীর বিক্রম খেতাম অর্জন করেছিলেন বান্দরবানের উক্য সিং মারমা। তেমনি বীরঙ্গনা চাইন্দাউ মারমা, মধুপুরের আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ওয়াল্টার ম্রংসহ প্রত্যেক জনগোষ্ঠী থেকে শত শত মুক্তিযোদ্ধার নাম পাওয়া যাবে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও এই বৈচিত্র্যপূর্ণ আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা খুব একটা সুখে নেই। প্রতি বছর নানা অজুহাতে তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে যেতে দেখা যায়। নারী শিশুদের ধর্ষণ, হত্যার শিকার হতে হয়। তাদের অনেকে অপমানে দুঃখে নিজেদের শত বছরের গ্রাম ছেড়ে হয় দেশান্তরী নয়তো প্রতিনিয়ত উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। জাতীয় পত্রপত্রিকায় এই নিয়ে কম ছাপা হয়নি (দেখুন ‘উচ্ছেদ আতঙ্কে লামার ১৫২ ম্রো পরিবার’ সমকাল, ২৩ নভেম্বর ১৮)। আমরা প্রশ্ন করতেই পারি, একটি স্বাধীন দেশে তার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোকে কেন এমনি দিনাটিপাত করতে হবে? তাই বহুত্ববাদী সমাজ, পেশা, মানুষ, সংস্কৃতিকে মেনে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রত্যাশা করছি। এতে দেশের অনেক সমস্যা এমনিতেই সমাধানের পথ খুলে যাবে বলে মনে করি। প্রান্তিক, দূর্গম আর চরাঞ্চলের বসবাসকারি মানুষেরা ভালো থাকলে দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠারই পরিচয় মেলে।

২। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে। ধর্ষণ, হত্যা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। শিক্ষিত নারী চাকরিজীবীদের বেলায় যেমনি সত্য তেমনি গার্মেন্টস কর্মীদের বেলায় আরো বেশি সত্য। সন্ধ্যা হলে গণ পরিবহনে ভ্রমণ নারীদের জন্য এখন আতঙ্কের।

শহর সমাজে নারীদের যদি এই অবস্থা হয় গ্রামীণ, প্রান্তিক, খেটে খাওয়া নারীদের বেলায় বাস্তবতা আরো কঠিনই হবে। পাহাড়ে জুমচাষীদের বেলায় আরো ভয়াবহ। নিত্যদিন জুমিয়া নারী শিশুদেরকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। প্রতিবছর যে পরিমাণ পাহাড়ে নারী ও শিশু নির্যাতিত হয় তাদের একটি বড় অংশ এই জুমচাষী পরিবার। পাহাড়ে নির্যাতিত প্রান্তিক নারী শিশুরা আইন আদালতে যাওয়ার বদলে পরিবারের বাকী সদস্যদের নিরাপদে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দেশে আলোচিত নারী শিশু নির্যাতনের বিচার হচ্ছে সত্য কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে নরপশুদের সংখ্যা কমছে বলে ভাববার সুযোগ নেই। তাই সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দল, গোষ্ঠী ভুলে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর নীতির প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করি।

৩। গণপরিবহন
দ্রুত গতিতে ধনী শ্রেণির সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু ৮০-৯০ শতাংশ মানুষের যাতায়াতের প্রধানতম বাহন গণপরিবহন। গণপরিবহনের কাছে সাধারণ যাত্রীরা পুরোপুরি জিম্মি হয়ে রয়েছি। গণ পরিবহনগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের শুধু নয় পরিবহন কোম্পানিগুলোর সংখ্যায় যতটা বেশি তারচেয়েও ব্যবস্থাপনা আর আসনগুলো বেশি নোংড়া ও ময়লা। অধিকাংশ মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করলেও গণপরিবহন নেতা ও গাড়ির মালিকরা কোনদিন নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করেন কিনা বলা মুশকিল।

আমরা এই গণপরিবহনের উন্নয়ন চাই। গণপরিবহন যতদিন আধুনিক ও উন্নতমানের না হবে ততদিন পর্যন্ত গণপরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতাদেরকে মাসে অন্ততপক্ষে ৭দিন গণপরিবহন ব্যবহার করার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচলনা করার বাধ্যবাধকতায় নিয়ে আসা দরকার। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রীদেরও মাসে অন্তত ৪দিন গণপরিবহন ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা করা হবে মর্মে ইশতেহারে উল্লেখ দেখতে চাই। গণমানুষের যানবাহন ব্যবহার করার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ উপলব্ধি করা গেলে গণপরিববহনে দ্রুত সময়ে উন্নতি আসবে বলে অনেকের বিশ্বাস।

৪। কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনা
দেশে কৃষিজাত পণ্যদ্রব্য উৎপাদন বেড়েছে সত্য। এই খাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে যুব সমাজও এগিয়ে আসছে। প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেল ও পেপার পত্রিকায় কৃষি একটি জনপ্রিয় খবর হিসেবে প্রচার পেতে শুরু করেছে। কিন্তু কৃষিজাত পণ্যদ্রব্য ও ফলমূলে মাত্রাতিরিক্ত বিষ প্রয়োগ নিয়ে গণমানুষের মাঝে ভয়ভীতি রয়েছে। এবং ভয় ভীতি নিয়েই এক প্রকার বাধ্য হয়ে আমাদেরকে এসব খাবার গ্রহণ করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এবারের ইশতেহারে কৃষিজাত পণ্যে বিষ প্রয়োগ রোধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগ দেখতে চাই। পাশাপাশি ক্ষেত খামার থেকে নিয়ে এসে যে পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় বেচাবিক্রি হচ্ছে তাও স্বাস্থ্যসম্মত বলা যাবে না। আমাদের বড় বড় কাঁচা বাজারগুলোতে ময়লা আর্বজনাময় পরিবেশে বেচাকেনা হয়ে থাকে যা কোনভাবেই হাইজেনিক হতে পারে না। কাঁচা বাজারগুলোর পরিবেশ উন্নত না হওয়াই শুধু বিষ নয় সাথে নানা জীবাণুও ঘরে নিয়ে আসছি প্রতিনিয়ত। তাই কৃষি ও কৃষিজাত বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই। তবেই আমাদের অর্ধেক রোগশোক কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি। আরও একটি কথা, কৃষি খাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শুধু বিষমুক্ত করলে হবে না, কৃষকেরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

৫। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
পথ-ঘাট, অলি-গলিতে আমাদের চা দোকানের অভাব নেই। চা দোকানগুলো সারাদিন বেচাবিক্রি শেষে রাতে তার দ্বারা সৃষ্ট খাদ্যদ্রব্যের সকল বর্জ্য রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। দেশের প্রায় সকল দোকানদার মনে করেন রাস্তাই তাদের ডাস্টবিন। দোকানের সব ময়লা আর্বজনা রাস্তায় ফেলে দিতে কোন সংকোচ বোধ করেন না। আমরা পথচারীরাও মেনে নিয়েই চলাফেরা করছি।

উঁচু দালানকোঠায় থাকি কিন্তু বর্জ্য পলিতে করে জানালা দিয়ে নিচে ফেলতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করি না। গাড়িতে বসে যা খাচ্ছি সব ছুঁড়ে মারছি রাস্তায়। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড় সকলের মাঝে এটি একটি সাধারণ গণঅভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দালান কোঠায় মেথর প্যাসেজে ময়লা আর্বজনা পাহাড় সমান জমা হলেও বাড়িওয়ালাদের নজরে আসে না। সিটি কর্পোরেশনের অপেক্ষায় থাকেন। আমাদের এই গণ বদঅভ্যাসটি গণসুঅভ্যাসে পরিণত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে চিন্তা থাকা চাই।

৬। মশা নিধন
শহর জীবনে এক আতঙ্কের নাম মশা। প্রতিবছর চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গুতে (২০ নভেম্বর ১৮ পর্যন্ত এই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫৩১ জন যা গত ১৮ বছরে সবচেয়ে বেশি, দেখুন ষ্টার ২১ নভেম্বর, ১৮)। হাজার হাজার জনকে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার শক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। পত্র পত্রিকায় খবর এলেই কেবল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। কিছু দিন মশা নিধন কার্যক্রম চলে আবার হারিয়ে যায়। এবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা থাকবে মশাকে একটি নিত্যদিনের সমস্যা হিসেবে বিবেচনায় এনে নিয়মিত নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করার অঙ্গিকার। এতে গৃহহীন ফুটপাতে বসবাসবারি সহ সকলে কিছুটা স্বস্তিতে বসবাস করতে পারলে সরকারের মঙ্গল কামনাই করবে।

৭। উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
দেশে যে সরকারই আসুক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখা যায়। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে উন্নয়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তার চারপাশ পরিবেশকে বসবাস আর চলাফেলার অনুপযোগী করে ফেলা হয়। ধূলাবালি, গর্ত, যানজট মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে দেয়। দুর্ভোগ চলতে থাকে মাসের পর মাস অনেক সময় বছরের পর বছর। একাদশতম নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে উন্নয়ন কার্যক্রম যেন জনদুর্ভোগের কারণ না হয়। ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা রাখা চাই। উন্নয়নটি নিরাপদ ও দ্রুততর সময়ে শেষ করা চাই। ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে যেন যেখানে সেখানে ঢাকনা খুলে রাখা না হয়। পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা চাই। উন্নয়ন কার্যক্রমটি যাতে শুধু মাত্র বর্ষা মৌসুম আর জুন ফাইনালের আগে আগে না হয় সেদিকেও নজর রাখার প্রতিশ্রুতি চাই।

৮। পরিবেশ
উপরের সবকটি প্রত্যাশাই ব্যাপক অর্থে পরিবেশের মধ্যেই পড়ে। তারপরও নির্দিষ্ট করে বুঝার সুবিধার্থে পরিবেশকে একটি প্রত্যাশা হিসেবে অনুভূক্ত করছি। দেখা যায় যখন যেমন খুশি তেমনি আমরা শব্দ দূষণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। শব্দ দূষণ যে মানুষের জন্য একটি নীরব ঘাতক তা আমরা ভুলে যাই। রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে বিলবোর্ড, পোষ্টার লাগিয়ে সৌন্দর্য নষ্ট করি। শহর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্মিত নানা স্থাপনাগুলো সবসময় রাজনৈতিক পোষ্টারে একপ্রকার ঢেকে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দোয়ালে দেয়ালে ভরে থাকে। আর পলিথিন ব্যবহারে আইন থাকলেও ব্যবহার বেড়েছে ব্যাপক। তাছাড়া প্রতিনিয়ত গাড়ির হর্ন আর আবাসিক এলাকায় দিনে রাতে নিমার্ণ শব্দ দূষণ শহর জীবনকে অতিষ্ট করে তোলে। তাই পরিবেশ বিষয়ে ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিস্কার কিছু প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই।

৯। নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন একটি নিয়মিত ঘটনা। বর্ষা ও বন্যায় প্রতিবছর অনেক পরিবারকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হতে দেখা যায়। নদী ভাঙ্গন রোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগসহ প্রতি বছর নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার লক্ষ্যে পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কার্যকর উদ্যোগের উল্লেখ দেখতে চাই। তবেই বর্ষা আর বন্যার মৌসুমে প্রতিনিয়ত মানুষের মলিন মুখ খবরের পাতায় কম পেতে থাকবো।

১০। শিক্ষা
এখনকার ছাত্রছাত্রীদের দেখলে কিছু প্রশ্ন জাগে যেমন শিক্ষার নামে ছাত্রছাত্রীদের গৃহবন্দী করছি নাতো? শিক্ষার নামে ছাত্রছাত্রীদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছি নাতো? ছাত্রছাত্রীরা সকালে স্কুল, বিকাল বেলায় গৃহশিক্ষক আর সন্ধ্যা বেলায় ছুটে কোচিং সেন্টারে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশিদের সাথে যোগাযোগ কিংবা খেলতে যাওয়ার সময় সুযোগ নেই। মা-বাবারাও ছেলেমেয়েদেরকে জিপিএ ফাইভ টার্গেট দিয়ে নিজেরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ছেলেমেয়েরা সমাজ, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার সম্পর্কে ধারণা ছাড়াই বেড়ে উঠছে। নামী দামী স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও গাড়ির জানালা খোলে রাস্তায় বর্জ্য নিক্ষেপ করে। এক এক স্কুলে এক এক নিয়ম। ভিন্ন ভিন্ন সিলেবাস। শিশুদের মধ্যে পাথর্ক্য আর বৈষম্য নিয়েই বেড়ে উঠছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি বিনিয়োগ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন নীতি না থাকলে কোটি কোটি শিশুর দুরন্ত শৈশব হারিয়ে শুধু লেখাপড়া আর পরীক্ষার চাপে গৃহবন্দী জীবন নিয়েই বেড়ে উঠবে আমাদের নেতৃত্ব।

সাধারণ জনগণ পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, মেগা প্রকল্প কী কঅ থাকবে, কলকারখানা কতটি হবে এই নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না। তারা খুশি হয় দেশের অন্য দশটি সাধারণ মানুষের হাসিখুশি মুখ দেখলে। তারা খুশি হয় সমাজে যৌথতার, ভালবাসার, সহযোগিতার চর্চা দেখলে। সাধারণ মানুষ খুশি হয় রোগশোক কম দেখলে, মানুষ মানুষকে মূল্যায়ন করতে দেখলে। এবং পৃথিবীর মানুষও মনে করেন সাধারণ মানুষেরা ভালো থাকবে কি থাকবেনা তা একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর তাই রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে গণমানুষের ইস্যুগুলো কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করছে আমাদের আগামীর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)