চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিজেদের ফাঁদেই বাংলাদেশ

ঘরের মাটিতে স্পিন পিচ বানিয়ে সাফল্যের নজির আছে। নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যটা জানা বলেই ঝুঁকিটা নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু নিজেদের সামর্থ্যের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্যের দিকেও নজর রাখা আবশ্যক। মিরপুরে ২১৫ রানের হারের পর তাই প্রশ্নটা উঠে যাচ্ছে, নিজেদের ফাঁদেই আটকে গেল বাংলাদেশ?

বিজ্ঞাপন

শের-ই-বাংলায় প্রথম ইনিংসে ২২২ রান তুলেই ১১২ রানের লিড নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ইনিংসে সেখানে ২২৬। চতুর্থ ইনিংসে তাড়া করার জন্য ৩৩৯ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রান করা স্বাগতিকদের জন্য অতিকঠিন লক্ষ্যই। সেজন্য নিশ্চয় এমন আত্মসমর্পণ গ্রহণযোগ্য নয়! ২৯.৩ ওভারে ১২৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার কেচ্ছা জানান দিচ্ছে নিজেদের প্রয়োগ ক্ষমতা বিষয়ক প্রশ্ন তো আরও পরের কথা, বহুল কথিত শক্তি-সামর্থ্যটাই কোন পর্যায়ে আছে সেটাই আগে নির্ণয় করতে হবে।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় তড়িঘড়ির দরকার ছিল না। জয়ের ভাবনা আসত আরও পরে। শুরুতে লড়াইয়ের মানসিকতাটা অন্তত থাকতে হত। সেটারই দেখা মিলল কই! আউট হয়ে খুব বেশি আফসোস নিয়ে ড্রেসিংরুমে যেতে দেখা গেল না কাউকে। সবাই যেন পূর্বনির্ধারিত নিয়তি মেনে কেবল রুটিন কাজটা সারতে নেমেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মিরপুরের ঘূর্ণিপিচে ৩৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করা কঠিন সেটি সবারই জানা। টিকে থাকার প্রচেষ্টা অন্তত অনুপস্থিত থাকবে সেটা দেখার অপেক্ষায় ছিল সবাই। কিন্তু হল উল্টোটা। স্কুল পড়ুয়া হাজারখানেক কিশোর গ্যালারিতে থেকে বিষণ্ণ বদনে দেখল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল। লাঞ্চ বিরতির পরের ঘণ্টায় পড়ল শেষ ৮ উইকেট। তাতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা শ্রীলঙ্কার। চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গে ড্রয়ে যতটুকু রক্ষা সামর্থ্য-নিবেদনের।

মূর্তিকারিগর

২০১৬ সালে মিরপুরে মিরাজের ঘূর্ণিতে তিনদিনেই জয় দেখেছিল বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। কিন্তু এবার বুমেরাং। স্পিন আক্রমণ ও মোকাবেলায় শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার কাছে একই উইকেট বানিয়ে নিজেদের ফাঁদেই পড়ল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের এক সেশনে পড়েছিল ১০ উইকেট। সেই ম্যাচকে মনে করালেন আকিলা ধনঞ্জয়া। অভিষিক্ত অফস্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন ৫ উইকেট, প্রথম ইনিংসেও ৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

ধনঞ্জয়াকে বাহবা দিতেই হয়। একই পিচেই তো বাংলাদেশের স্পিনাররাও বল করেছেন। তেমনি দুই ইনিংসে দুই ফিফটিতে পার্থক্য গড়ে দেয়া ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভাকেও বাহবা দিতে হয়। যদিও একই পিচে ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের ভরসারাও!

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৬৫.৩ ওভারে ২২২
(মেন্ডিস ৬৫, ধনঞ্জয়া ১৯, গুনাথিলাকা ১৩, রোশেন ৫৬, দিলরুয়ান ৩১, আকিলা ২০; মিরাজ ০/৫৪, রাজ্জাক ৪/৬৩, তাইজুল ৪/৮৩, মোস্তাফিজ ২/১৭।)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৫.৪ ওভারে ১১০
(তামিম ৪, ইমরুল ১৯, মুমিনুল ০, মুশফিক ১, লিটন ২৫, মিরাজ ৩৮*, মাহমুদউল্লাহ ১৭, সাব্বির ০, রাজ্জাক ১, তাইজুল ১, মোস্তাফিজ ০; লাকমাল ১২-৪-২৫-২, দিলরুয়ান ১১.৪-৪-৩২-২, ধনঞ্জয়া ১০-২-২০-৩, হেরাথ ১২-১-৩১-০)
শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ৭৫.৩ ওভারে ২২৬ (লিড ৩৩৮।)
(করুনারত্নে ৩২, চান্দিমাল ৩০, রোশেন ৭০*; মোস্তাফিজ ৩/৪৯, তাইজুল ৪/৭৬, ,মিরাজ ২/৩৭, রাজ্জাক ১/৬০। )
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২৯.৩ ওভারে ১২৩
(তামিম ২, ইমরুল ১৭, মুমিনুল ৩৩, মুশফিক ২৫, লিটন ১২, রিয়াদ ৬, সাব্বির ১, মিরাজ ৭, রাজ্জাক ২, তাইজুল ৬, মোস্তাফিজ ৫*)
২১৫ রানে জয়ী শ্রীলঙ্কা।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোশেন সিলভা।
ম্যান অব দ্য সিরিজ: রোশেন সিলভা।