চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘নারীকে আপন আলোয় উদ্ভাসিত হতে দিন’

‘‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব নারী দিবস।

বিজ্ঞাপন

নতুন বিশ্ব গড়তে নারী ও পুরুষের সমতা একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন সমাজ সেবক ও নারী উদ্যোক্তা নেলি ইসলাম।

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীকে খাটো করে দেখার এখন আর কোনো সময় নেই, দিন বদলের পালায় নারীদের মধ্যে চেতনা জাগ্রত হয়েছে। সময় এসেছে নারীকে আপন আলোয় উদ্ভাসিত হতে দিন।

অসহায় নারী, সুবিধা বঞ্চিত শিশু, প্রতিভাবান নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এন্ড মোটিভেশনের চেয়ারম্যান নেলি ইসলাম।

অসহায় এসব মানুষদের বাসস্থান, শিক্ষা এমন কি কারিগরী শিক্ষার প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন তিনি। রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি।

এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে নেলি ইসলাম বলেন, কর্মসংস্থানে কাজের গতি বাড়াতে নারী পুরুষের সমতা দরকার।  আবার সমতা শুধু কর্মক্ষেত্রে হবে তা নয়, পরিবারেও বিষয়টি দেখতে হবে। একজন কর্মজীবি নারী অফিস শেষে বাসায় রান্নাসহ নানা কাজ করতে হয়, কিন্তু একজন কর্মজীবি পুরুষ কখনোই অফিস শেষে বাসায়  স্ত্রীকে সাহায্য করে না, যারাও করে তারা হাতে গোনা কয়েকজন।

তিনি আরো বলেন, নারীও যে মানবসম্পদ এবং অর্ধেক নারী সমাজের কাছে মেধা, মনন, প্রজ্ঞা. দক্ষতা, প্রতিভার অর্ধেক সঞ্চিত আছে এবং এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার নারী শিক্ষা উন্নয়নে বিভিন্ন ভূমিকা রেখেছে , শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে, পৌরসভার বাইরে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা ব্যবস্থা করা হয়েছে। মফস্বলের বাইরে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন আর কোনো নারী আগের মতো চুপ করে বসে থাকে না। দেশের নারীরা বুঝতে শিখেছে পড়াশুনা শিখতেই হবে।

শহুরে কিংবা নাগরিক জীবন নয়, দেশের সর্বত্রই নারীর গুরুত্ব আজ স্বীকৃত জানিয়ে নেলি ইসলাম বলেন: অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অনেক বেড়েছে। সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক সূচকে, সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশের যে বিস্ময়কর উত্থান, তার পেছনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে নারী।

নেলি ইসলামকে দুস্থ মানুষরা বিগত ১৫ বছর যাবৎ পাশে পাচ্ছেন

আমরা একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, এ দেশে ডাকসুর ভিপি ছিলেন একজন নারী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তো বটেই, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও বাঙালি নারী পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন, শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশের একজন নারী আন্তর্জাতিক দাবায় গ্র্যান্ড মাস্টার খেতাব পেয়েছেন। এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের নারী।

এত কিছুর পরও স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, বৈষম্য একেবারে দূর করা যায়নি। সমাজে এখনো নারীকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। সম্প্রতি একশনএইড বাংলাদেশের “সেইফ সিটিজ ফর উইমেন” ক্যাম্পেইনের একটি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে বাংলাদেশের শতকরা ৮৮জন নারী রাস্তায় চলার পথে অপমানজনক মন্তব্যের মুখোমুখি হন। এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ চালক ও চালকের সহকারীর দ্বারা এবং শতকরা ৬৯ জন দোকানদার এবং বিক্রেতার মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হন।

এ উপেক্ষা দূর করতে করণীয় কী জানতে চাইলে নেলি ইসলাম বলেন: সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। পুরুষের মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে। এখন প্রয়োজন নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে সাহসী ও অভিনব সামাজিক নীতির যোগসূত্র ঘটানো।

রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে নেলি ইসলাম

নিজের বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থায় সমাজের সুবিধা বঞ্চিত নারী ও শিশুদের কি ধরণের সুবিধা দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: সুবিধা বঞ্চিত নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখাচ্ছে, তাদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষাসহ স্বাবলম্বী হওয়া জরুরী। তাইতো কোন অবহেলিত নারী যেন নিজেকে ফেলনা মনে না করে তাই তাদের আমরা কাউন্সেলিং করে থাকি।

বর্তমানে আমি ত্রিশজন নারীদের একটি কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করছি। তাদের জন্য তিনজন শিক্ষক নিয়োজিত আছে।