চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাম হইলো রানা, শহরের অলি-গলির গল্প তার জানা

রণবীর ফেল, সবার মুখে মুখে এখন ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’-এর প্রশংসা…

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বলিউডে মুক্তি পেয়েছে মুম্বাই শহরের এক তরুণ র‌্যাপারের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘গাল্লি বয়’ নামের একটি ছবি। জয়া আখতারের পরিচালনায় ছবিতে ‘গাল্লি বয়’ চরিত্রে অভিনয় করে বাজিমাৎ করেছেন রণবীর সিং। ছবিটি যে শুধু লোকের মুখে মুখে প্রশংসা কুড়িয়েছে তা নয়, বক্স অফিসেও চলতি বছরের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ছবিটি।

ভারতীয় ‘গাল্লি বয়’-এর যখন মুগ্ধতা চারদিকে, তখন সন্ধান পাওয়া গেল এক ক্ষুদে ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’-এর! যে র‌্যাপ সংগীতে তালে তালে নিজের জীবনের ধারা বর্ণনা করে গেছেন। তার জীবনের গল্প, দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং আশাবাদের কথা ফুটে উঠেছে পুরো সংগীত জুড়ে।

ভারতীয় ছবি ‘গাল্লি বয়’-এর তুমুল জনপ্রিয় গান ‘আপনা টাইম আয়েগা’র মতো করে গাওয়া ঢাকাইয়া গাল্লি বয়ের নাম রানা। ইতোমধ্যে সে খ্যাতি পেয়েছে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে। তবে তাকে সারা দেশে পরিচিতি পাইয়ে দেয়ার কাজটি করেছেন মাহমুদ হাসান তবীব নামের এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ক্ষুদে রানার গাওয়া ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’ গানটির কথা ও সুরও করেছেন তিনি। বর্তমানে তবীব পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে।

তবে গানের কথা তিনি লিখলেও সেটা রানার জীবনেরই কথা। কারণ তিনি রানার জীবনের গল্প শুনে গানটি বেঁধে তার মুখে সুরারোপ করে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে রানাকে খুঁজে পেলেন তবীব?

তার পেছনে রয়েছে ছোট্ট একটি ঘটনা। তবীব বলেন, একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের সামনে আমার কাছে বাইকে ঘুরার আবদার করে বসে রানা। তার আবদার রাখতে ওকে বাইকে নিয়ে ঘুরি। ঘুরতে ঘুরতে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে গান গাইতে পারে কিনা! তখন রানা আমাকে আপটাউন লোকলজের একটি র‍্যাপ গান গেয়ে শোনায়! শুনে আমি শুধু মুগ্ধ হইনি, বিমুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।

ঢাকাইয়া গাল্লি বয়কে সোশাল মিডিয়ায় পরিচয় করিয়ে দেয়া তবীব…

তবীব বলেন, সেই র‌্যাপ গান শুনেই রানার বিষয়ে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তার জীবনের গল্প শুনেন, জানতে পারেন কেনো ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সে আর দশটা পাঁচা ছেলে-মেয়ের মতো স্কুলে যেতে পারে না! রানার দারিদ্রতার গল্প শুনে এবং একই সঙ্গে তার বিরল প্রতিভা সবার সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেন তবীব।

তবীব মনে করছেন, রানা ভবিষ্যতে র‌্যাপ সংগীতে ভালো করবে। তাই তাকে যেভাবেই হোক স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা তিনি করছেন বলেও জানান। তবীব বলেন, রানার জীবনের কথাগুলো নিয়ে ‘ঢাকাই গাল্লি বয়’-এর লিরিক লিখি। তারপর ওকে চর্চা করিয়ে রেকর্ড করি এই গান। সে অসম্ভব দ্রুত সব আয়ত্তে নিয়ে ফেলে। রানা অসম্ভব প্রতিভাধর একটি ছেলে। যে করেই হোক আমি ওকে স্কুলে পাঠাবো। এমন প্রতিভা নষ্ট করা উচিত হবে না।

এদিকে গানের লিরিক শোনে জানা যায়, রানার বাড়ি রাজধানীর অদূরে কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসূলপুর এলাকায়। মা লোকের বাড়িতে কাজ করেন, বাবা পেশায় একজন পলো (মাছ ধরার যন্ত্রবিশেষ) কারিগর। তারা দু’ ভাই। অভাবের তাড়নায় রানার পড়াশোনা করা হয়নি। সারাদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ করে টিএসসিতে ফুল বিক্রি করে দিন পার করে সে।
ঢাকাইয়া গাল্লি বয়: