চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাটক দেখে মানুষ কাঁদতে কাঁদতে ফোন দিয়েছে: চয়নিকা চৌধুরী

ছোট পর্দার ঈদ:

শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় চয়নিকা চৌধুরীর টেলিফিল্ম ‘একদিন খুঁজেছিনু যারে’

নব্বই দশকের শেষের দিকের ঘটনা। তখন তিনি কেবল নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করেছেন। তার রচিত প্রথম স্ক্রিপ্ট থেকে প্রযোজনা সংস্থা ‘বাণীচিত্র’ নির্মাণ করে ‘বোধ’ নামের একটি নাটক। যা নির্মাণ করেছিলেন অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। এতে অভিনয় করেছিলেন শমী কায়সার ও মাহফুজ আহমেদ। এরপর শুধু আর স্ক্রিপ্ট লেখায় নয়, নিজেই নেমে পড়েন নির্মাণে। টানা দুই দশক ধরে টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে নির্মাতা হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করেছেন। সৃষ্টিশীলতার জগতে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার যুদ্ধেই যেনো শামিল হয়েছেন বারবার। বলছিলাম ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় ও মেধাবী নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর কথা।

বিজ্ঞাপন

মেধা ও পরিশ্রম, এই দুইয়ের যুগপৎ মিলনের কারণেই নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বেও প্রায় চার শতাধিক টিভি নাটক নির্মাণ করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। মানুষের রুচি, মধ্যবিত্তের আবেগ খুব সহজেই ছুঁয়ে যেতে পারেন বলেই এখনো হাজার নির্মাণের ভিড়ে তার কাজগুলো আলাদা মর্যাদা পায়। ঈদ কিংবা বিশেষ দিনের নাটক, টেলিফিল্ম মানেই চয়নিকা নামটি পরিচিত। চলতি ঈদেও হয়নি তার ব্যতীক্রম।

‘একদিন খুঁজেছিনু যারে’ টেলিফিল্মের একটি দৃশ্যে সুবর্ণা মুস্তাফা ও মাহফুজ আহমেদ

অসংখ্য টেলিভিশন। অসংখ্য নাটক, টেলিফিল্ম। আর অসংখ্য নির্মাতার ভিড়ে নিজের গুটি কয়েক কাজ নিয়েও ভাস্বর চয়নিকা চৌধুরী। ঈদকে কেন্দ্র করে যেখানে উঠতি কোনো নির্মাতা হিসেব ছাড়া প্রোডাকশন নামাচ্ছেন, সেখানে চারশো নাটকের গুণী নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী ঈদের জন্য মাত্র নয়টি কাজ করেছেন! তার মতে: ভালো ও গ্রহণযোগ্য কাজের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন। ভালো স্ক্রিপ্ট, সিনসিয়ার পারফর্মার এবং অভার অল পুরো টিমের যদি কাজটার প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে অটোমেটিক প্রোডাকশানটাও ভালো হবে। আমি এই নীতিতেই কাজ করি। কোয়ান্টিটির চেয়ে সবসময় কোয়ালিটি আমার কাছে ইম্পোর্টেন্ট।

এবারের ঈদে বিভিন্ন টেলিভিশনের জন্য মোট নয়টি প্রোডাকশন নির্মাণ করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। প্রতিটি কাজই ছিলো অসাধারণ, এমনটা জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে নির্মাতা বলেন, আমরা যারা নির্মাতা তাদের কাছে গল্পটাই মূল। একটা ভালো গল্পের জন্য আমাদের হাহাকার করতে হয়। কিন্তু এবার আমি খুব ভাগ্যবান। কারণ এবার আমার নির্মিত প্রতিটি নাটক, টেলিফিল্মের গল্প ছিলো অসাধারণ। বদরুল আনাম সৌদ, মাসুম শাহরিয়ার, ইফফাত আরেফিন তন্বী, রুম্মান রশিদ খানের গল্পে আমি এবার কাজ করেছি।

এরমধ্যে মাসুম শাহরিয়ার গল্পে চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত ‘একদিন খুঁজেছিনু যারে’ টেলিফিল্মটিকে অন্যসব কাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলছেন চয়নিকা। কিন্তু কেন? প্রশ্ন নির্মাতা বলেন, এটার গল্প খুব ডিফারেন্ট। তাছাড়া এই টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন গুণী সব অভিনয় শিল্পী। সবুর্ণা মুস্তাফা, মাহফুজ আহমেদ জুটির নাটক এটি। নতুন একটি মেয়ে অভিনয় করেছে নীলাঞ্জনা নীলা এবং আজম খান নামে একজন আছেন। এবার ঈদের জন্য নির্মিত মাহফুজ আহমেদ অভিনীত এটাই একমাত্র কাজ বলেও জানালেন নির্মাতা।

এই টেলিফিল্মটি করতে যেয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করেননি জানিয়ে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, আমরা যখন হাতে স্ক্রিপ্ট পাই তখন নিজেদের সাধ্যের কথা চিন্তা করে প্রচুর কম্প্রোমাইজ করি। স্ক্রিপ্টে যদি আউটডোর ডিমান্ড করে সেটাকে আমরা খরচ কমানোর জন্য ইনডোরে নিয়ে আসি। আসলে আমাদের বাজেট কম থাকায় খুব লিমিটেশনের মধ্যে কাজ করতে হয়। কিন্তু চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত ‘একদিন খুঁজেছিনু যারে’ করতে যেয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করিনি। আমরা তিনদিনে চারটি লোকেশনে কাজ করেছি। উত্তরা, ঢাকার বাইরেও সুন্দর একটি লোকেশনে যেয়ে কাজ করেছি। বাজেট কিংবা সময় নিয়ে বিন্দুমাত্র কম্প্রোমাইজ করিনি এটা করতে গিয়ে।

‘একদিন খুঁজেছিনু যারে’ টেলফিল্মের গল্প নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথাও বলেন চয়নিকা চৌধুরী। জানান, ভিন্ন ধরনের কিনা জানি না কিন্তু ভালো ও নিখাদ একটি গল্প দেখতে পারবেন দর্শক এটা গ্যারান্টি দিতে পারি। দর্শক গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, মাহফুজ আহমেদ ও নীলাঞ্জনা নীলার অভিনয়েরও প্রেমে পড়বেন বলে বিশ্বাস নির্মাতার।

ঈদে নির্মিত নাটকগুলোর বেশীর ভাগই প্রচার হয়ে গেছে। কথায় কথায় নাটকগুলোর ফিডব্যাক কেমন পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাক্স প্রযোজিত দুটি নাটক করেছি এবং বিকাশ প্রযোজিত একটি নাটক করেছি। লাক্সের জন্য নির্মিত বদরুল আনাম সৌদের লেখা নাটকটির নাম ‘দুপুর বেলার গল্প ছোট’। দারুণ সাড়া পেয়েছি নাটকটি দিয়ে। এই নাটকের গল্পও দুর্দান্ত। এছাড়া আরেকটি নাটকের দারুণ ফিডব্যাক পেয়েছি, মানুষ কাঁদতে কাঁদতে ফোন দিয়েছে। নাটকের নাম ‘পরশ পাথর’। বিকাশ প্রযোজিত এই নাটকটি ইফফাত আরেফিন তন্বীর লেখা। গল্পটা খুব টাচি ছিলো। মানুষকে খুব ছুঁয়ে গেছে। আরেকটি নাটক খুব ভালো সাড়া পেয়েছি, এটাও ইফফাত আরিফিন তন্বীর লেখা। নাটকটির নাম ‘দ্বিতীয় যাত্রার আগে’। এই নাটকে এই প্রথম মেহজাবিন ও শবনম ফারিয়া এক ফ্রেমে কাজ করলেন। এটাতে এই দুজন ছাড়াও অভিনয় করেছেন অভিনেতা সজল।

ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজে ঈদে মানুষ টিভিতে নাটক এবার খুব কমই দেখছে। মানুষ তার পছন্দ ও রুচি অনুযায়ি সময় করে পরে ইউটিউবে নাটক দেখে নিচ্ছে বলে মনে করেন চয়নিকা।

ফুটবল প্রসঙ্গ আসতেই এই নির্মাতাকে প্রশ্ন, কোন দল সাপোর্ট করেন? এমন প্রশ্নে যেনো কিছুটা উচ্ছ্বসিত চয়নিকা। বললেন, ছোটবেলায় ব্রাজিল বলে কিছু জানতাম না। আমাদের একটা পাঠ্য বই ছিলো, সেখানে পেলের কথা লেখা ছিলো। পেলে পড়তে পড়তে বড় হয়েছি। মাথার মধ্যে কিন্তু পেলে গেঁথে ছিলো। সেই থেকে পছন্দ হলো ব্রাজিল। আর এখনতো আমি ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত। আমার বাসার সবাই ব্রাজিল। স্বামী, সন্তান সবাই ব্রাজিল।

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলতো তুলনামূলক ছোট দলের সাথে ড্র করলো। এতে কি আশাহত হয়েছেন? না, আমি একটুও আশাহত হয়নি। আমি সব সময় আশাবাদীর দলে। যে যতো বড় দলই হোক না কেন, শুরুতেই যখন হোঁচট খেয়ে ফেলে তখন সেটা তার জন্য এক বিরাট শিক্ষাও বয়ে আনে। মানে সামনের ম্যাচ গুলো নিয়ে ব্রাজিল এখন অ্যালার্ট হবে।