চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নগরবাসী, আর চিন্তা নাই

এতোবার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে কার ভাল লাগে বলেন! আপনি তো বৈধ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ী রাস্তায় নামিয়েছেন। বাচ্চাগুলোকে মোড়ে মোড়ে লাইসেন্স দেখাতে হচ্ছে। সময় নষ্ট হচ্ছে। সময়ের দাম নাই! আসলে লাইসেন্স দেখিয়ে চলার অভ্যাস নাই তো তাই বেশী বিরক্ত লাগছে।

বিজ্ঞাপন

ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে পারি না, কারণ ফুটপাথ দখলে। আমরা গাড়ীর ফাঁকফোকর দিয়ে রাস্তায় চলতে অভ্যস্ত। ফুটপাথ দখলকারীরা প্রভাবশালী। দখলবাজদের কিছু না বলে চলতেই আমরা অভ্যস্ত। চলুক না, দোকানের সামনের জায়গায় মালপত্র রেখে বেচারা দু পয়সা আয় করে পরিবার নিয়ে বেঁচে বর্তে আছে!

বিজ্ঞাপন

ওভারব্রিজ দিয়ে পার হতে কষ্ট লাগে তাই ব্রিজের নীচ দিয়ে ডিভাইডার টপকে যেতে আমরা অভ্যস্ত। বাচ্চারা রাস্তায় থাকলে ওভারব্রিজ দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করবে। এতো নিয়মকানুন মেনে রাস্তায় চলা যায় নাকি! রাস্তা কারো বাপের!

যেখানে খুশি দাঁড়িয়ে হাত তুলবো, বাস দাঁড়িয়ে যাবে আমাকে তুলতে। আবার বাসার গলির সামনে দাঁড়াতে বলবো। বাসস্টপে নেমে বাসায় যেতে অনেকখানি হাঁটতে হয়। হাঁটা হলো বড্ড কষ্টের কাজ। থামতে বলামাত্র বাস গতি কমিয়ে দিবে। হেলপার বলবে, বাঁ পা আগে দিয়ে নাইমেন। ভুল করে ডান পা আগে নামালে তো হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় পড়ে মরবো। চাকার নীচে গেলে বেহুদা বাস চালকের দোষ হবে।সড়ক দুর্ঘটনা-বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাস্তায় বাস না পেলে লেগুনায় চড়বো। বেপরোয়া গতির লেগুনা যতক্ষণ না গন্তব্যে পৌঁছাবে, নিজের জানটা হাতে নিয়ে বসে থাকবো। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক গাড়ি চালাবে, তাতে কী, ওই বাহনই সই। কারণ এই ১৭ কোটি মানুষের দেশে  সবাই যানবাহন পেল কী পেল না সেটা নিশ্চিত করা সম্ভব না। নেতাদের আরো অনেক বড় বড় কাজ আছে।লেগুনা-শিশুশ্রম

বেয়াড়া বাচ্চাগুলো রাস্তায় নেমেছে সব ঠিক করার দায়িত্ব নিয়ে। এক/দু দিনে সব ঠিক হয় নাকি! আর দিনের পর দিন রাস্তা অবরোধ করে রাখলেই সব সমাধান হবে! গ্রামের কৃষি পণ্যের অবদানে বেঁচে থাকে ঢাকা শহরের মানুষ। দিনের পর দিন এসব চলতে থাকলে গ্রাম থেকে কিছুই রাজধানীতে আসবে না। ঢাকার মানুষ না খেয়ে মারা পড়বে তো! পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাচ্চাদের সরাতে পুলিশের সঙ্গে সাহায্যকারীরা লাঠি হাতে নেমেছেন রাস্তায়। আর কোন চিন্তা নাই।