চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নকলের অভয়াশ্রম পটুয়াখালীর কৃষি কলেজ (ভিডিওসহ)

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো প্রয়োজন নেই। পরীক্ষা কেন্দ্রে আছে অবাধে নকলের সুবিধা। পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতে উত্তরপত্র লিখে দিচ্ছে আরেকজন। পরীক্ষা কক্ষ থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সকল কর্মকর্তা ও পরিদর্শকের নিবিড় সহযোগিতায় চলছে এসব। এভাবেই পটুয়াখালী সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে কৃষি কলেজের শিক্ষার্থীদের কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের ষষ্ঠ সেমিস্টার পরীক্ষা।

বিজ্ঞাপন

গত ক’বছরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কারিগরি ও কৃষি কলেজ। এসব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐ কলেজে এ পর্যন্ত প্রতিটি সিমেস্টার পরীক্ষায় পাশের হার প্রায় শতভাগ। এখন চলছে ষষ্ঠ সেমিস্টার পরীক্ষা। কিন্তু নামেই পরীক্ষা। উপজেলার পরীক্ষা কেন্দ্রে এ দৃশ্য ধরা পড়ে চ্যানেল আই’র ক্যামেরায়। কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র খাসের হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অভিনব পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি।

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষার্থীরা নকল করছে, কক্ষের পরিদর্শকরা বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও উপস্থিত নেই ভিজিলেন্স টিমের সদস্যদের। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর কাছে ছবি সম্বলিত প্রবেশপত্র না থাকায় কে কার পরীক্ষা দিচ্ছে বোঝার উপায় নেই। প্রবেশপত্র যাচাই করে পাওয়া গেলো ছেলে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে নিয়মিত প্রক্সি দিচ্ছে বহিরাগত মেয়েরা।

এমন অবস্থায় সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে কক্ষে আসেন সবাই। এমন অনিয়ম হাতেনাতে ধরা পড়ায় এর কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না সংশ্লিষ্টরা। একে অপরের প্রতি দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন তারা। কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে আসা বহিরাগত ২ মেয়েকে আটকের পর ১ মাস করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত।

জানা গেছে, বড় বিঘাই ইউনিয়ন কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির এসব অনিয়মের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তদারকি কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এভাবে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিশ্চিত পাশের ব্যবস্থা করে থাকেন তিনি।

এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্যক্রম ও এমন পদ্ধতির পরীক্ষায় উত্তীর্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

ভিডিওচিত্রে কৃষি কলেজের পরীক্ষায় অবাধ নকলের চিত্র: