চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ধন্যবাদ’ না দেয়ায় বিচ্ছেদ

কোনো সাফল্য অর্জনের পর জীবনসঙ্গীকে আপনার কাছ থেকে ধন্যবাদ আশা করতেই পারে। কিন্তু ভুল করে যদি সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে যাওয়ার খেসারত হয় বিচ্ছেদ? এমনটাই বলে অস্কারের ৩০ বছরের ইতিহাস।

বিজ্ঞাপন

অস্কারের থ্যাংকস স্পিচে যে সব তারকারা তাদের সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানাননি, তাদের অনেকের সম্পর্কই গড়িয়েছে বিচ্ছেদের পথে। হলিউড রিপোর্টারের একটি জরিপে গত ৩০ বছরের অস্কারের অনুষ্ঠানে অভিনয়ে সেরাদের থ্যাংকস স্পিচ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় ১২০ জনের মধ্যে ৯০ জন ছিলেন বিবাহিত। তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ তাদের সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছেন অস্কার মঞ্চে। দেখা গেছে, যারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাদের তুলনায় যারা জানাননি তাদের বিচ্ছেদের হার বেশি। এমনকি এই জরিপের উপর ভিত্তি করে বলেও দেয়া হয়েছে নয় তারকার কথা যারা বিচ্ছেদের ঝুঁকিতে আছেন।

হিলারি সোয়াঙ্ক: ২০০০ সালে ‘বয়েজ ডোন্ট ক্রাই’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতার পর স্বামী চ্যাড লোকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছিলেন হিলারি সোয়াঙ্ক। তাই অভিমান করেছিলেন তার ২০০৫ সালে মিলিয়ন ডলার বেবি সিনেমার জন্য আবারও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। সেবার তিনি মঞ্চে বলেছিলেন, ‘আগের ভুলের থেকে আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। চ্যাড, তুমিই আমার সব।’ দুর্ভাগ্যবশত ২০০৭ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় এই জুটির।

শিন পেন: ২০০৪ সালে মিসটিক রিভার সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার নেয়ার সময় সেই সময়ের স্ত্রী রবিন রাইটকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১০ সালে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছেন। ২০১০ সালেই বিচ্ছেদ হয় এই জুটির।

স্যান্দ্রা বুলক: ২০১০ সালে দ্য ব্লাইন্ড সাইড সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন স্যান্দ্রা বুলক। কিন্তু মঞ্চে স্বামী জেসি জেমসকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেবছরই তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

রাসেল ক্রো: ২০০১ সালে গ্ল্যাডিয়েটস সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতেছিলেন রাসেল ক্রো। কিন্তু তিনি তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ডেনিয়েল স্পেনসারকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছেন। অথচ তিনি দর্শক সারিতেই ছিলেন। ২০০৩ সালে এই জুটি বিয়ে করলেও ২০১২ থেকে আলাদা থাকছেন তারা।

ইমা থম্পসন:১৯৯২ সালে অস্কার জেতার পরে ইমা থম্পসন অনেক মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু স্বামীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছেন। এই জুটির বিচ্ছেদ হয় ১৯৯৫ সালে।

ক্যাথি বেটস: ১৯৯১ সালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার নেয়ার পর তার প্রেমিক এবং হলিউড অভিনেতা টনি ক্যামপিসিকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছিলেন। একই বছরে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু ১৯৯৭ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

জো পেসকি: সেরা পার্শ্ব অভিনেতার অস্কার জেতার পরে মডেল, অভিনেত্রী এবং তার স্ত্রী কাওডিয়া হারোকে ধন্যবাদ জানাননি জো পেসকি। পরের বছরেই বিচ্ছেদ হয় তাদের।

মরগান ফ্রিম্যান: ২০০৫ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার ক্যাটাগরিতে অস্কার জেতার পর মরগান ফ্রিম্যান তার স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে বেমালুম ভুলে গেছেন। ২০০৭ থেকে তারা আলাদা থাকা শুরু করেন এবং ২০১০ সালে তাদের ২০ বছরের দাম্পত্যের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়।

র‍্যাচেল ওয়েজ: র‍্যাচেল ওয়েজ এবং ড্যারেন আরোনোফস্কি বিবাহিত ছিলেন না। তবে বাগদান করেছিলেন ২০০৫ সালে। ২০০৬ সালে র‍্যাচেল যখন দ্য কনস্ট্যান্ট সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন, তখন তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু তিনি স্বামীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছিলেন। ২০১০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। -হলিউড রিপোর্টার।