চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশে কোনো দিন স্বৈরাচার চিরস্থায়ী হতে পারেনি: ড. কামাল

এদেশে কোনো দিন স্বৈরাচার চিরস্থায়ী হতে পারেনি মন্তব্য করে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন: আমরা কোনো দিন স্বৈরাচারী সরকারের শাসন মেনে নেইনি।

শুক্রবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত গণশুনানিতে অংশ নেন ড. কামাল।

সকাল ১০টা থেকে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কামাল হোসেন বলেন: আজ সকল প্রার্থীর দাবি ছিল খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি হওয়া উচিৎ। আমিও মনে করি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি এই ফোরাম থেকে যাওয়া উচিত।

গণশুনানির বক্তব্যে বিভিন্ন আসনে ধানের শীষ প্রার্থীরা নির্বাচন বাতিল ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দিতে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির বর্ণনা দিয়ে লালমনিরহাট-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন: এই নির্বাচনের ভোট ডাকাতির চিত্র আমার কাছে রয়েছে। ভোটের আগে ছাত্রলীগের এক ছেলে আমাকে ফোন করে বললো, ছাত্রলীগের ১৪ জনকে বাছাই করে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। ভোট ডাকাতির জন্য।

তিনি বলেন: নির্বাচনে ৭টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। আমি জানতে চাই যে কেন্দ্রে ভোটার যায়নি সে কেন্দ্রগুলোতে কীভাবে শতভাগ ভোট পড়ে?

হবিগঞ্জ-১ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রেজা কিবরিয়া বলেন: আমরা নির্বাচনের পূর্বেই ধারণা করেছিলাম, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হয়তো আমাদের থাকবে না। নির্বাচনের সময়কালে নিজের বাড়িতে মিটিং শেষে নেতারা যখন ঘর থেকে বের হয় সাদা পোশাকধারী লোক তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মিথ্যা মামলার যে প্রক্রিয়া সরকার করেছে তা বুঝতে পারলাম। আমার এলাকায় নির্বাচনের এক মাস পূর্বেই তারা বাড়ির বাইরে পলাতক

তিনি বলেন: নেতাদের না পেয়ে ১৬ বছরের ছেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নির্বাচনের রাতে প্রায় ২০টা ফোন আসলো ভোট তো অর্ধেক হয়ে গেছে। এই সময়ে আমরা চাই, মানুষ সরকারকে ভয় পাবে না, সরকার মানুষকে ভয় পাবে। এমন সরকার আমরা চাই।

পাবনা-৪ আসনে অংশ নেয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন: আমার অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। কেন্দ্র থেকে পিটিয়ে তাদের বের করে দেয়া হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর মোটরসাইকেলে করে আমার ওপর পৈশাচিক হামালা করা হয়। বোমা ফাটিয়ে গুলি করতে করতে আমার সামনে আসে। তারপর পেছন থেকে একট ছেলে আমাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এই কী হয়েছে তোমরা এমন করছো কেন? আমাকে পাবনা জেলার এসপি ও ডিসি সাহেব বললো, আপনার আসনে সিল মারা হবে। আমি বললাম কত পারসেন্ট। তারা বললো ৩৫ পারসেন্ট। আমি বললাম সমস্যা নেই তবুও আমি জয়ী হবো। কিন্তু যখন রাতে সীল মারা শুরু হলো, আমি প্রিসাইডিং অফিসারকে জানালাম, না হচ্ছে না।

গণশুনাতিতে বিগত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে না পারার জন্য ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেক প্রার্থী। ২৯ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির পরও কেন কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েছে?

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন: ৫২ বছর রাজনীতি করেছি। আমি কখনো জেল খাটিনি। এই নির্বাচনের সময় মাত্র প্রথম জেল খাটতে হয়েছে৷ সদ্য জেল খেটে বের হয়েছি। আমার দীর্ঘ রাজনীতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, আমাদের প্রতি জনসমর্থন ছিলো শতভাগ। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা কিছু করতে পারেনি কেন? তা জানা দরকার। তার জন্য আরেকটি গণশুনানি বা সমাবেশ দরকার। আমি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, ড. কামাল হোসেন, মান্না, আ স ম আব্দুর রব, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর কাছে জানতে চাই, কেন পারলাম না কিছু করতে?

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন: এই বিষয়ে একটি জবাবদিহীতা দরকার বলে মনে করি। আগে কেন্দ্রীয় নেতারা কেন পারলেন তা জানার জন্য একটি সমাবেশ দরকার।

তিনি বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবরা যদি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সমাবেশ দেন। যারা প্রোগ্রাম দেবেন তারা যদি বলেন প্রোগ্রাম দেন, তাহলে প্রোগ্রাম দেবেন কে? বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কিছুই সম্ভব হবে না। আর কিছু না করে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করুন।

নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন: আমি ড. কামালকে বিশ্বাস করি, আমি আমার দলকে বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার মা, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কেন কোনো কিছু করতে পারছি না? নির্বাচনে এতো বড় ডাকাতি হলো। সব জানার পরও কেন আমরা কিছু করলাম না? ৩১ ডিসেম্বর কেন খালেদার জিয়ার মুক্তির জন্য সমাবেশ করলাম না?

গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদিন, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারসহ প্রার্থীরা।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail