চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের এশিয়া কাপ

উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের দেয়া ২৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কানরা গুটিয়ে গেছে মাত্র ১২৪ রানে।

এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ১২১ রানের জয়টি ছিল আগের বড়। ওয়ানডেতে লাল-সবুজদের সবচেয়ে বড় জয়ও অবশ্য লঙ্কানদের বিপক্ষে। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এবছরের জানুয়ারিতে তাদের ১৬৩ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা। লঙ্কানরা এর আগে এত কম রানে বাংলাদেশের বিপক্ষে অলআউট হয়নি। শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে কম রানে আউট হওয়ার আগের রেকর্ডটি ১৪৭।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬২ রান খুব বড় সংগ্রহ নয়। দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তো সেটি আরও নয়। শনিবার টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে শ্রীলঙ্কার নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যটাকেই পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা।

টাইগারদের নিখুঁত বোলিংয়ে লঙ্কানদের ইনিংস থেমে যায় ৩৫.২ ওভারে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলরুয়ান পেরেরা সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন। উপুল থারাঙ্গা করেন ২৭ রান।

আগে টস জিতে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে সওয়ার হয়ে বাংলাদেশ পায় আড়াইশ পেরোনো পুঁজি। মুশফিকের ১৪৪, মোহাম্মদ মিঠুনের ৬৩ ও শেষটায় তামিম ইকবালের স্পোর্টসম্যানশিপের অনন্য নজিরের পর বোলাররা হয়ে ওঠেন আগ্রাসী।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। টানা ম্যাচ খেলায় সম্প্রতি চিরপ্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠেছে দল দুটি। এবার বড় মঞ্চে লঙ্কানদের বিপক্ষে বড় জয় এশিয়া কাপে নিজেদের ঘিরে অন্যতম ফেভারিটের বার্তাই দিয়ে রাখল মাশরাফীবাহিনী।

তামিম ইকবাল শুরুতে আঙুলে চোট পেয়ে ২২ গজ ছেড়ে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। ব্যাটিং করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে নেমে যান সেঞ্চুরি করা মুশফিককে সঙ্গ দিতে। আর তাতে শেষ উইকেটে যোগ হয় ৩২ রান।

মরুর বুকে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। শুরুতেই লিটন দাস ও সাকিব আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। তখন তামিম ইকবাল আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বিপদ আরও বাড়ে। বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তাতে মেলে লড়াকু সংগ্রহের ভিত।

২২৯ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে তামিম শেষ জুটিতে না নামলে ওখানেই থামত ইনিংস। ঝুঁকি নিয়ে এ ওপেনার শেষে নামায় যোগ হয় আরও ৩২ রান। তাতে বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি।

১৪৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে মুশফিক দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হন তখন বাকি ইনিংসের ৩ বল। ৪৯.৩ ওভারে থামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের (৬৩) সঙ্গে মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি, আর শেষটায় মুশফিকের মারমুখী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পায় লড়াকু সংগ্রহ। জয়ের জন্য সেটাই যথেষ্ট হয়ে যায়।