চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘দুদকও দুর্নীতির বাইরে নয়’

দুদকের সমালোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমালোচনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, দুদকও দুর্নীতির বাইরে নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে দুদকেরও অনেক দুর্নীতি বের হবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার বিকেলে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ‘আয়কর মেলা-২০১৮’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আয়কর বিভাগের দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ২৩ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশের একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বরাবর পাঠিয়েছে দুদক। ওই পত্রে আয়কর বিভাগে দুর্নীতির কারণ হিসেবে ১৩টি উৎস দেখানো হয়েছে।

আয়কর বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের করা ওই রিপোর্ট সম্পর্কে এনবিআর চেয়ারম্যানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি দুদকের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। দুদকের এমন দুর্নীতির অনেক ক্ষেত্র আছে।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সবারই দুর্নীতি আছে। সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন কম হলে দুর্নীতি হয়। তবে নতুন বেতন কাঠামো গঠন করার পর দুর্নীতি অনেক কমেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দুদক যদি শুধুমাত্র কর ও কাস্টমস অফিসকে টার্গেট করে কাজ করে এবং এখানে অফিস স্থাপন করার চিন্তা করে তাহলে আমি বলবো এটা দুদকের পক্ষে কোনো দিনই সম্ভব হবে না। কারণ আয়কর ও কাস্টমস আইনে না চাইলে এখানে কারো পক্ষে অফিস স্থাপন করা সম্ভব নয়।

এর আগে আয়কর বিভাগের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের রিপোর্ট অনুমোদন করে দুদক।

প্রাতিষ্ঠানিক টিম বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে, আয়কর বিভাগ, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি/রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করেছে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে দুদক।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে সার্টিফিকেট লাগবে না। নির্বাচন কমিশন যে ঘোষণা দিয়েছে এরপর আমার আর কিছু বলার নেই। তবে এ নির্বাচনের পর কোনো কর খেলাপি যাতে প্রার্থী না হতে পারেন সে বিষয়ে এনবিআর পদক্ষেপ নিবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আইন করবে।

এ সময় জানানো হয়, আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে করমেলা শুরু হবে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী মেলা চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজধানীর কর মেলা হবে মিন্টো রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে।

এ ছাড়া সব জেলা শহরে চার দিন এবং ৩২টি উপজেলায় দুই দিন মেলা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ৭০টি গ্রোথ সেন্টারে এক দিন ভ্রাম্যমাণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।