চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই বাংলায় হামলার ইঙ্গিত আইএসের

শ্রীলঙ্কার একাধিক গীর্জা ও হোটেলে ভয়াবহ হামলায় আড়াই শতাধিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার দায় স্বীকারের পর এবার বাংলাদেশে অথবা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট আইএস।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, আইএস সমর্থক টেলিগ্রাম চ্যানেল- এ ‘শীঘ্রই আসছি’ লেখা একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত ওই পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ।’ পোস্টারে ‘আল মুরসালাত’ নামে একটি সংগঠনের লোগোও দেয়া রয়েছে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নিশ্চিত করেছে, তারা এই পোস্টারটি দেখেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছে তারা।

শ্রীলঙ্কায় গত রোববার ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে চালানো হামলায় স্থানীয় জঙ্গি দল তৌহিদ জামাতের মাধ্যমে সিরিজ বোমা হামলা চালায় আইএস।

জঙ্গিবাদ বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা আছে।

পৌনে ৩ বছর আগে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর তার দায় স্বীকার করে বার্তা প্রকাশ করেছিল আইএস। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই চালানো ওই হামলায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। আর অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরেরদিন ভোরে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে বাকি জিম্মি উদ্ধার করা হয়। তবে হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি এবং ওই রেস্তোরাঁ কর্মী সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হয়।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন জেএমবি সদস্যকে আটক করে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেএমবির ভারত শাখা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেএমবি সদস্য আরিফুল ইসলামকে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ২০১৮ সালের বুদ্ধগয়া হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

এছাড়াও ভারতের আরেক রাজ্য আসামেও জেএমবির উপস্থিতির খবর জানতে পেরেছে ভারতের গোয়েন্দারা। সেখানকার চিরাং এলাকাকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে জঙ্গিরা।

ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার পর ইসলামিক স্টেট (আইএস) একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার দায় স্বীকার করে। ওই ভিডিওতে হামলায় অংশ নেওয়া সাত জনসহ জাহরান হাশিমকে আইসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা যায়।

তবে ভিডিওতে একমাত্র জাহরান হাশিম ছাড়া অন্যদের মুখ ঢাকা ছিল। তাদেরকে সেদিনের আত্মঘাতী হামলাকারী বলে মনে করা হচ্ছে।

২১ এপ্রিল সকালে শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে ৩টি গির্জা ও ৩টি পাঁচ তারকা হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয় ২৫৩ জন। এ ঘটনায় আহত হন ৫শ’রও বেশি।

হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail