চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তাইজুলের ক্লান্তিকর পথের শেষ ২০০ লিডের বোঝায়

বল করাই তাদের কাজ। স্পিনার বলে হয়ত একটু লম্বা সময় ধরেই বল করতে পারেন। কিন্তু এক ইনিংসে ৬৬ ওভার? একটু ক্লান্তিকরই! বাংলাদেশের হয়ে সেই কাজটা করে শীর্ষে ছিলেন সাকিব, শনিবারের পর এক ইনিংসে তারচেয়ে বেশি ওভার বল করার ক্লান্তিময় পথচলার রেকর্ডটি এখন তাইজুলের।

বিজ্ঞাপন

তাইজুলের এমন রেকর্ডের দিনে ৯ উইকেটে ৭১৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। ঠিক ২০০ রানে এগিয়ে তারা। প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রান করা বাংলাদেশ বড় লিডের বোঝা নিয়েই প্রয় চার সেশন লড়াই করতে হবে।

জহুর আহমেদে প্রথম চেস্টের চতুর্থ দিনের চা বিরতির পর নিজের ৬৭তম ওভারটি করতে আসেন তাইজুল। সেটি দিয়েই টপকে যান সাকিবকে। পরে তার ৬৭.৩ ওভারের সময় ইনিংস ঘোষণা করে লঙ্কানরা।

বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ওভার বোলিংয়ের রেকর্ডটি সাকিব গড়েছিলেন ২০১০ সালে। মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৬ ওভার হাত ঘুরিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। রান দিয়েছিলেন মাত্র ১২৪।

বিজ্ঞাপন

সেটা টপকানোর পথে তাইজুল ইসলাম রান দেয়ার ডাবল ছুঁয়ে লজ্জার রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন। দ্বিতীয় সেশনে ডাবল হয়েছে তার। তার করা ৬৪তম ওভারে একটি রান নিয়ে রেকর্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরা। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে এক ইনিংসে দুইশ রান খরচের প্রথম নামটিও এখন এ বাঁহাতি স্পিনারের।

টাইগারদের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান খরচের আগের রেকর্ডটি ছিল যৌথ মালিকানায়, মোহাম্মদ রফিক ও সোহাগ গাজীর। রফিক ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১৮১ রান খরচ করেছিলেন ৪৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে। আর গাজী ২০১৪ সালে এই জহুর আহমেদেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সমান রান বিলিয়েছিলেন ৪৫ ওভার বল করে।

মূর্তিকারিগর

তাইজুলের আগের সর্বোচ্চ খরচের খাতা ছিল ২০১৫ সালে। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৯ রান দিয়েছিলেন ৫১ ওভারে। সবশেষ সাউথ আফ্রিকা সফরে পচেফস্ট্রম টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৬ ওভার বল করে ১৭৮ দিয়েছিলেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৬ ওভারে ১৭০ রান দিয়ে নিজের সেই রেকর্ডের খুব কাছে আছেন মিরাজ।

অবশ্য রান খরচের বিশ্বরেকর্ড হয়নি। সেটি অস্ট্রেলিয়ার চাক ফ্লিটউড-স্মিথের দখলে আছে। ১৯৩৮ অ্যাশেজের ওভালে দুই রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি হয়নি তার, ২৯৮ রান দিয়েছিলেন ৮৭ ওভার হাত ঘুরিয়ে।