চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ডুব’ এর প্রচার কৌশল ভুল: আনিসুল হক

২৭ অক্টোবর, শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ডুব’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের সাড়া পেয়েছে ফারুকীর পঞ্চম চলচ্চিত্র। ‘ডুব’ দেখে এসে নানা রকম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন দেশি তারকারা। শনিবার ‘ডুব’ দেখে এসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক।

বিজ্ঞাপন

‘ডুব’ এর নানা সমালোচনার জন্য ফারুকীকে দায়ী করলেন তিনি। আনিসুল হকের মতে, ‘ডুব’ এর প্রচার কৌশল ভুল। এটি নাবালকদের জন্য বানানো নয়, ‘ডুব’কে প্রাপ্তমনস্কদের ছবি বলে উল্লেখ করেন আনিসুল হক। কারও জীবনের সাথে ‘ডুব’ এর গল্পের মিল না খুঁজে একে ইরফান খানের জীবনের গল্প ভেবে দর্শকদের ‘ডুব’ দেখার অনুরোধ করেছেন আনিসুল হক। তার মতে, ‘শিল্পের প্রেক্ষিতে আমি বলব, আমাদের কালের একটা সেরা চলচ্চিত্রের নাম ‘ডুব’। উদ্যোক্তাদের ভুল প্রচারণার দায়ে যাকে ভুগতে হচ্ছে। ‘ডুব’-এর তা প্রাপ্য ছিল না’। ‘ডুব’ দেখার আগে কেন এত অপপ্রচার শুনেছেন তা নিয়েও বিস্মিত তিনি। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন-

আমি এই মাত্র ‘ডুব’ দেখে এলাম। আমার প্রতিক্রিয়া এই:

বিজ্ঞাপন

এত ভালো একটা ছবি! অথচ ফেসবুকে এত নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া। এ জন্য ফারুকীই দায়ী।

ফারুকীর দায় নম্বর ১: এই ছবির প্রচার কৌশল ভুল। এটা নাবালকদের জন্য বানানো ছবি নয়। এটা প্রাপ্তমনস্কদের ছবি। ‘ব্যাচেলর’ কিংবা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এমনকি ‘টেলিভিশন’ দেখে যে মজা পাওয়া যাবে, এই ছবি সে ধরনের নয়। এই ছবি কথা বলে কম, মনের ওপরে পাথর চেপে ধরে। এই ছবি আরাম দেয় না, বেদনা জাগায়। কিন্তু দুই ঘণ্টা কোন দিক দিয়ে কেটে যায়, টের পাওয়া যায় না। যখন ছবি শেষ হয়, চোখে তখনো অশ্রু লেগে থাকে। ফলে প্রশ্ন জাগে, ব্যাচেলরের দর্শকদের টার্গেট করে ফারুকী কেন এই ছবির প্রচার করল। খুব ভালো হতো, ছবিটার যদি কোনো প্রচারণাই না থাকত। দর্শক ঢুকত, আবিষ্কার করত একটা অপরূপ চলচ্চিত্রকে, তখন আর কেউ শোরগোল করত না।
দুই. ফারুকীর উচিত ছিল গল্পটা পেন্সিলে এঁকে কালি লাগিয়ে পেন্সিলের দাগগুলো রবারে ঘষে মুছে ফেলা। যেন মনে না হয় এটা অমুকের জীবনের ছবি। পৃথিবীর এত এত পত্রিকা এত এত ফেস্টিভাল যে ছবিটাকে ভালো বলেছে, তার কারণ তারা কারো জীবনের সঙ্গে এর মিল আর অমিল খুঁজতে যায়নি। তারা ছবিই দেখেছে। আর বাংলাদেশের দর্শকেরা তা করতে গিয়ে এই ভালো ছবিটার প্রতি অবিচার করছে। আর এ জন্য দর্শকদের দায়ী করা যাবে না, ফারুকীকেই দায়ী করতে হবে। সে সতর্কতার সঙ্গে মিলগুলোকে মুছে না দিয়ে অনেকগুলো পেন্সিলের দাগ রেখে দিয়েছে। এটা না করলেই সে বেশি ভালো করত।
ফারুকীর এই সব ভুলের কারণে আমরা একটা ভালো ছবির প্রতি অবিচার করছি। ছবিটা কিন্তু ছবি হিসেবে ভালো হয়েছে।
কাজেই আমি বলব, বন্ধুগণ, কোনো পূর্ব ধারণা না নিয়ে ছবিটা দেখতে যান। কারো জীবনের সঙ্গে মিল না খুঁজে এটা ইরফান খানের জীবনের ঘটনা হিসেবে দেখুন।
বহুদিন আগে, ১৯৮৪ সালে, রংপুরের এক বালক সৈয়দ শামসুল হককে প্রশ্ন করেছিল, সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতা সম্পর্কে কী বলবেন? আপনার লেখা অনেকেই অশ্লীল বলে মনে করে। সৈয়দ হক উত্তর দিয়েছিলেন, শ্লীলতা অশ্লীলতার প্রশ্নটি সামাজিক, সাহিত্যিক নয়।
বালক তার এ উত্তরে খুশি হয়েছিল। কিন্তু নাগরিকেরা বালককে বলল, তুমি পাল্টা প্রশ্ন করলে না কেন যে, সাহিত্য কি সমাজের বাইরে?
কিন্তু বালক তখনই জানত, সামাজিকের বিচার্য আর সাহিত্যিকের বিচার্য এক নয়।
ডুব নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে তা প্রধানত আইনগত বা সামাজিক, শৈল্পিক নয়। শিল্পের বিচার যে সামাজিকের বা রাষ্ট্রের আইনে হয় না, এটা কাউকে বোঝানো আসলেই মুশকিল।
শিল্পের প্রেক্ষিতে আমি বলব, আমাদের কালের একটা সেরা চলচ্চিত্রের নাম ‘ডুব’।
উদ্যোক্তাদের ভুল প্রচারণার দায়ে যাকে ভুগতে হচ্ছে। ‘ডুব’-এর তা প্রাপ্য ছিল না।

আমরা অনেকেই একসঙ্গে ছবিটা দেখেছি। ছবির বিরতিকালে আর শেষে সবাই সবাইকে একই প্রশ্ন করছে, এত সুন্দর একটা ছবি দেখতে আসার আগে এত অপপ্রচার শুনে এলাম কেন। এ কী। এত সুন্দর একটা ছবি।

'ডুব' দেখার পর আনিসুল হকের প্রতিক্রিয়া
‘ডুব’ দেখার পর আনিসুল হকের প্রতিক্রিয়া