চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডিডি যখন ডেঞ্জার দুলু

এই প্রজন্মের দুর্ভাগ্যই বলবো। ওরা জাহাংগীর আলম তালুকদার দুলু’র খেলা দেখেনি! বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেট ইতিহাসে মনে হয় সবচাইতে এক্সাইটিং ক্রিকেটার ছিলেন দুলু। জাতীয় দলেও খেলেছেন তিনি কয়েক বছর।

বিজ্ঞাপন

দারুণ হ্যান্ডসাম, দুর্দান্ত ফিল্ডার, আগ্রাসী বোলার, ব্যাট হাতে টেরিফিক রিভার্স সুইপার (৮, ৯, ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রচুর রিভার্স সুইপ খেলতেন! যার বেশিরভাগই ‘রিভার্স ড্রাইভ’ হয়ে যেতো)।

ক্লাব বলেন আর জাতীয় দল বলেন, জীবন বাজী রেখে খেলতে নামতেন দুলু। সাংবাদিকেরও নিউজ ফেভারিট ছিলেন এই ডেডিকেটেড ক্রিকেটার। দুলু মানেই স্কুপ। দুলু মানেই নিউজ। জনপ্রিয়তায়ও দুলুর সমকক্ষ ছিলেন কম ক্রিকেটার।

বিজ্ঞাপন

মাঠে ক্ষ্যাপাটে স্বভাব (অভদ্রতা না), লম্বা গঠন, লম্বা চুলে বোম্বের সঞ্জয় দত্ত স্টাইলের লুক, ফুটফাট ‘yes- no-very good’ ইংলিশ বলায় অসংকোচ দুলু’র অনেকগুলো ডাক নাম ছিলো। এর সবই গ্যালারি থেকে, দর্শকের মুখ থেকে জন্ম নেয়া।

তার সবচাইতে জনপ্রিয় নিক নেইম ছিলো “ডেঞ্জার দুলু “। আদর করে অনেক দর্শক তাকে ডাকতেন “DD” (Danger Dulu’র সংক্ষেপ)। হাজারো থেকে লাখো দর্শক আবার “পাগলা দুলু” ডাকতে ভালোবাসতেন তাদের পছন্দের এই ক্রিকেটারকে। “PD” (পাগলা দুলু) নামেও দুলুকে চিনতো অনেক ক্রিকেট ফ্যান।

নব্বই দশকের শুরুটায় অসংখ্য কিশোর-তরুণ তাকে কপি করতে চাইতো। এর ক’জন দুলু’র মতো হতে পেরেছিলো পরবর্তী কালে জানি না। তবে মোহাম্মদ রফিক পেরেছিলেন অনেকটাই। রফিকের আইডল ছিলেন ডেঞ্জার দুলু।

ক্যারিয়ারের শুরুতে দুলুর মতোই মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ছিলেন রফিক। লম্বা চুলও রেখেছিলেন দুলুর মতো, মাঠে নেমে রফিকও খেলতেন Never say die ক্রিকেট। দলের সবাই যখন হার মেনে নিতেন, একলা লড়ে যেতেন রফিক, ঠিক দুলুর মতোই।

ফরহাদ টিটো: বাংলাদেশে আধুনিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার পথিকৃৎদের একজন। এখন কানাডাপ্রবাসী।