চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব হয়নি: জব্বার

ডিজিটাল নিরাপত্তা অাইন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, এতে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা কোনোভাবেই খর্ব করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ, ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের সফলতার নানা দিক নিয়ে বুধবার চ্যানেল চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সাংবাদিকদের কাজের সাথে এই আইন সাংঘর্ষিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া যদি ডিজিটাল পৃথিবী সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে, তাহলে তা অনেক ফলপ্রসু হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপরাধ দমনের সাথে যুক্ত। মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে নয়। সেখানে শুধুমাত্র অপরাধ দমন করা হবে। এই আইনে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা কোনেভাবেই খর্ব করা হয়নি। এর কারণে অফিসিয়াল বিভিন্ন তথ্য পেতে তাদের কোনো বেগ পেতে হবে না।

সম্প্রতি গুজব ছড়িয়ে দেশে যে অস্থিরতার চেষ্টা করা হয়েছিলো সে বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন: ‘সামনে সুখবর আসছে। কোনো ধরনের গুজব বা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে সাথে সাথে তা প্রতিহত করার মতো প্রযুক্তি আসছে।’

এমনকি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদেরকে এই আইনের অাওতায় দমন করা হবে বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল যুগে সরকারের পদার্পণ ও উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন: ‘প্রধানমন্ত্রী দেশকে ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেজন্য সরকার সাড়ে নয় বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল স্বপ্ন এখন রূপান্তরের পথে।’

বিজ্ঞাপন

তবে সব ভালোরই যেমন একটা মন্দ দিক থাকে তেমন ডিজিটাল বাংলাদেশের অপরাধগুলোও ডিজিটাল হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন: ‘সবকিছু যখন ডিজিটাল হচ্ছে। তখন অপরাধটাও ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। আজকের এই যুগে আমরা নিজেদেরকে আধুনিক ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারি না। যে ডিজিটাল অপরাধচক্র কাজ করে তারা বিশ্বব্যাপী কাজ করে।’

‘আমাদের শৈশব থেকে শুরু করে পুরোটাই এখন ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন অপরাধ দমনে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বাস করা সম্ভব নয়। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ সমগ্র পৃথিবীকে ডিজিটাল হবার পথ দেখাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ডিজিটাল নিরপত্তা আইন পাস করেছে।’

সফলতার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলন: ‘যেখানে ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টি থাকে বাংলাদেশ এখন সেখানেই নেতৃত্ব দেয়।’

বিশ্বে ডিজিটাল নিরাপত্তায় জাতিসংঘ বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন: এখানে জাতিসংঘের ভূমিকাটাও অনেক। বিশ্বের সকল দেশকে সমন্বিত করার জন্য জাতিসংঘ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতিসংঘকে এ বিষয়ে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে। কোনো দেশ যখন সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিপদে পড়ে তখন জাতিসংঘ পাশে থাকতে পারে। তাদের সহায়তা করতে পারে। পৃথিবীর কাছে যথাসময়ে যথাযথ তথ্য তুলে ধরতে পারে। ডিজিটাল যুগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।’

শূন্য থেকে শুরু করা বাংলাদেশ সাইবার জগৎকে নিরাপদ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন: ‘প্রযুক্তির নিরাপত্তায় আমরা আরও প্রযুক্তি গ্রহণ করছি যাতে প্রযুক্তি দিয়ে প্রযুক্তিকে নিরাপদ করা যায়। এ লক্ষ্যে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট সহ আরও আলাদা আলাদা ইউনিটও গড়ে তুলেছেন।’

ব্যক্তির শারীরিক নিরাপত্তা প্রদানে রাষ্ট্রের যেমন সক্ষমতা দরকার তার চেয়ে বেশি সক্ষমতা দরকার ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বলে মনে করেন মোস্তাফা জব্বার।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা অাইন সেক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তির প্রযুক্তিগত কাজে নিরাপদভাবে কাজ করার এক আইনগত কাঠামো।’

তবে এ  বিষয়ে শুধু আইন থাকলেই হবে না। আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।