চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডাকসু নির্বাচন কি উৎসবমুখর হবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দ্বারপ্রান্তে। সুদীর্ঘ ২৮ বছর পর ছাত্র-ছাত্রীরা পাচ্ছে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। মিটিং মিছিল প্যানেল পরিচিত সব মিলিয়ে হল আর ক্যাম্পাসের মুখরিত অতীতের নির্বাচনের মত নয় এবারের নির্বাচন। তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে জন্য হল সংসদ আর ডাকসু কাজ করবে এ প্রত্যাশা সকলের।

বিজ্ঞাপন

৭৩১ জন প্রার্থী ৪৩ হাজার ভোটারের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে মাঠে নেমেছে। স্বতন্ত্র এবং দলীয় প্রার্থীদের প্যানেলের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আসবে ছাত্র রাজনীতিতে এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। যাদের ভাবনাতে প্রাধান্য পাবে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা নিরসনের উপায়।

তবে বর্তমান সময়ে রাজনীতি বিমুখ তরুণ সমাজ এ নির্বাচনে কতটা অংশগ্রহণ করে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের কাছে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন আছে। অন্যদিকে এবারের জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে হলে অবস্থানকারী ছেলে মেয়েদের ভোট হলো মূল ফ্যাক্টর। তাই রাজনৈতিকভাবে দলগত অবস্থানের হিসাবে ভোটের অংক কষে এ নির্বাচনে। এখন দেখার অপেক্ষার পালা ১১ মার্চ ছাত্র রাজনীতির নতুন মেরুকরণ কোন পথে হাঁটে।

এ নির্বাচনকে ঘিরে শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ডাকসুর অতীতের নির্বাচনের আলোকে বলা যায়, হলের বাইরে অবস্থানকারী ছাত্র ছাত্রীরা ভোটের পরিবেশ নিয়ে আতংকিত থাকে। যার ফলে তাদের উপস্থিতির হার থাকে কম। তাই নিরাপত্তার নামে শংকামূলক পরিবেশের আবহ যেন সৃষ্টি না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে ভোটে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে।

এছাড়া ২৮ বছরে দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে ক্ষমতার পালা বদলে অনেক ইতিহাস রচিত হয়েছে। আর এ সময়টাতে ছাত্র রাজনীতির মূল সূতিকাগার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজ সংসদগুলোর দুয়ার ছিল রুদ্ধ। সকল দলের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে ছাত্র রাজনীতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে নানাভাবে। এতে করে ছাত্র রাজনীতিতে বিত্ত বৈভব আর ক্ষমতার দাপটের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যা সন্দেহাতীতভাবে সংকট সৃষ্টি করেছে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রে। এতে করে ছাত্র রাজনীতি অনেকটাই দূর সরে গিয়েছে ছাত্রদের শিক্ষা ভিত্তিক অধিকার দাবি আদায়ের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করার ক্ষেত্রে।

সুতরাং দেশের মূলধারার রাজনীতির প্রভাবে ডাকসু নির্বাচন প্রভাবিত হলে সাধারণ ছাত্ররা আরো বেশি রাজনীতি বিমুখ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবাইকে অত্যন্ত মনে রাখতে হবে ৭১ এর মূল চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাসে উজ্জীবিত জাতি এখন। তাই ২৮ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনটি বিংশ শতকের তরুণদের পদচারণতে মুখরিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের প্রচেষ্টা থাকবে ১১ মার্চ এমন আশা দেশ ও জাতির।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।