চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টকশোতে মিথ্যা তথ্যের বিভ্রান্তি

জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেদিন অসুস্থ অবস্থায় টেলিভিশন টকশোতে গিয়েছিলেন। এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে সেনাপ্রধানকে নিয়ে ভুল এবং অসত্য বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টা এমন নয় যে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই প্রথম কোনো অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। উনি এর আগেও বেশ কিছু ভুল কথা ও কাজ করেছেন। যা গণতান্ত্রিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে না।

আওয়ামী লীগ বা সরকারের বিরোধিতা করে সমালোচনা করার অধিকার তার আছে। যেহেতু বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাই বলে এমন নয় যে, জাফরুল্লাহ সাহেব যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী ও ব্রোকার ডঃ কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের ট্রাইব্যুনাল অবমাননার পক্ষে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিবেন।

আবার নিজেই ট্রাইব্যুনাল অবমাননা করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করবেন। কিংবা টেলিভিশন টকশোতে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী কানাডায় পালিয়ে থাকা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নুর চৌধুরিকে ক্ষমা করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেবেন।

বিজ্ঞাপন

এইসব বক্তব্য বা কর্মকে মোটেও গণতান্ত্রিক অধিকার বলে না। কার্যত এইগুলো হলো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ। কেননা বঙ্গবন্ধুর খুনি নুর চৌধুরি ফাঁসির রায় সরকার দেয়নি। দিয়েছেন আদালত। যেহেতু সর্বোচ্চ আদালতের রায় চূড়ান্ত হয়েছে নুর চৌধুরির ফাঁসি সেহেতু বঙ্গবন্ধুর খুনি নুর চৌধুরিকেকে মাফ করে দেওয়ার জাফরুল্লার আবেদন বা অনুরোধ থাকলে সেটা বলার স্থান টকশো নয়। তিনি আদালতে গিয়ে আবেদন করতে পারতেন।

তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সফল এবং বিশ্বে প্রশংসিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল অবমাননাকারীর পক্ষে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেওয়াও জাফরুল্লাহর কোনো গণতান্ত্রিক বা বাক স্বাধীন অধিকার হতে পারে না।

অতএব ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের আগের দিন বেসরকারি টিভি টক শোতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বর্তমান সেনা প্রধানকে জড়িয়ে যেই বক্তব্য দিয়েছেন তা অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়। পূর্বের সকল ধারাবাহিকতার ইচ্ছাকৃত অসত্য তথ্য প্রদান।

এখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ কে যদি রাষ্ট্রের বয়োজ্যোষ্ঠ নাগরিক হিসেবে এবং একজন বুদ্ধিজীবী, সুশীল, সুনাগরিক হিসেবে ধরে নেই, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিচার করতে হবে। আর যদি জাফরুল্লাহ ভুল স্বীকার করেন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)