চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জয়ার কণ্ঠে রাজ্জাকের নায়িকা হতে না পারার আক্ষেপ!

বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসের অঘোষিত রাজা নায়করাজ রাজ্জাক। পর্দার সামনে তিনি যেমন ছিলেন দাপুটে একজন অভিনেতা, তেমনি পর্দার বাইরে ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন অতুলনীয়। তাইতো সব শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সর্বশ্রদ্ধেয়। ২৩ জানুয়ারি চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। মৃত্যুর পর কিংবদন্তি প্রথম জন্মদিনে সাধারণ ভক্ত অনুরাগী ছাড়াও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ঠ তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী স্মরণ করছেন তাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নায়করাজকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণও করছেন কেউ কেউ। এই তালিকায় যুক্ত হলেন দেশের মেধাবী অভিনেত্রী জয়া আহসান।

বিজ্ঞাপন

নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে স্মৃতি বর্ণনা ছাড়াও লম্বা একটি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে তরুণ বয়সী রাজ্জাকের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কাজ করতে না পারার আক্ষেপও দেখা ফুটে ওঠে তার কথায়। জয়া আহসানের দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো এখানে:

বিজ্ঞাপন

‘‘বেশ আগের কথা। লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলাম আমরা। লম্বা সফর। ফ্লাইটে হঠাৎ খেয়াল করলাম তিনি একটি উপন্যাস পড়ছেন। নাম ‘হিরে বসানো সোনার ফুল’; সমরেশ মজুমদারের লেখা। বইটি পড়া শেষ করে তিনি আমাকে সেটি উপহারও দিয়েছিলেন। সঙ্গে দুই লাইনের শুভেচ্ছা স্বাক্ষর। স্পষ্ট মনে আছে, তিনি লিখেছিলেন-‘খুব ভালোবাসি’। আজ বলতে দ্বিধা নেই, আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, ওই দুই শব্দের শুভেচ্ছা স্বাক্ষর আমার জীবনের অন্যতম বড় উপহার হয়ে থাকবে। কারণ উপহারটি আমাকে সাধারণ কেউ দেননি। দিয়েছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব।

হলফ করে বলতে পারি, তরুণ রাজ্জাকের ছবি দেখেছে অথচ তার প্রেমে পড়েনি-এমন তরুণী খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমিও সেই লাখো কোটি তরুণীদের একজন; এ কারণেই হয়তো বরাবরই ঈর্ষ্বানিত হয়েছি কবরী, ববিতা, শাবানা, সুচন্দা, শবনম, সুজাতাসহ নায়ক রাজের সব নায়িকাদের ওপর। আরেকটু আগে জন্ম হলে আমিও তো বেহুলা, আবির্ভাব, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, পীচ ঢালা পথ, দর্পচূর্ণ, টাকা আনা পাই, দীপ নেভে নাই, আলোর মিছিল, অনন্ত প্রেম, অবুঝ মন, জীবন থেকে নেয়া, অশিক্ষিত, ছুটির ঘন্টা, রংবাজ-এরকম আরো অনেক কালজয়ী ছবির নায়িকা হতে পারতাম। খুব আফসোস হয়, ‘রংবাজ’ ছবির রিমেক করতে চেয়েছিলেন তিনি আমাকে নিয়ে। ফোন করে প্রস্তাব-ও দিয়েছিলেন। আমার দুর্ভাগ্য, তার পরিচালনায় কাজ করা হয়নি। তার আগেই তিনি চলে গেছেন। তবে ২০১২ সালে সহশিল্পী হিসেবে নায়ক রাজের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ ছবিতে।

এখনো স্পষ্ট মনে আছে, তিনি যখন সেটে দাঁড়াতেন, তখন সবার সঙ্গে ওনার পার্থক্য খুব সহজেই ধরা পড়তো। তার বাচনভঙ্গি থেকে শুরু করে সবকিছুতে শিক্ষার ছাপ ছিল। রুচির ছাপ ছিল। শুটিংয়ের ফাঁকে আমার সঙ্গে অনেক ব্যক্তিগত গল্প করতেন তিনি। এ কারণেই একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে কাজ করার চেয়ে তার সঙ্গে ক্যামরার পেছনের মুহূর্তগুলো আমি খুব উপভোগ করতাম। অপেক্ষা করতাম তার কথা কখন শুনতে পারবো। মাছ ধরার ভীষণ নেশা ছিল তার। আমাদের নিজের বড়শি দিয়ে তোলা মাছ খাওয়াতেও চেয়েছিলেন। এছাড়া কলকাতা থেকে কিভাবে তিনি ঢাকায় এসেছেন-সেসব গল্পও শুনেছি তার মুখে।

আজ নায়ক রাজ রাজ্জাকের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে কেন জানি প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রতিটি স্মৃতি একটার পর একটা মনে পড়ছে। এটা ঠিক, আজ তিনি নেই। কিন্তু আধুনিক অভিনয়ের শিক্ষা আমরা যার কাছ থেকে পেয়েছি, তাকে কি আমরা খুব সহজে ভুলে যেতে পারবো? কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, রঙ যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে। আমি নিশ্চিত, বাংলা চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, দুই বাংলাতেই নায়ক রাজ রাজ্জাকের নাম এবং তার কর্ম রঙিন হয়ে বেঁচে থাকবে। শুভ জন্মদিন, নায়ক রাজ!!!’’