চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসছে আওয়ামী লীগ

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের পক্ষে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কাদের আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কারো কাছে নতিস্বীকার করে না। সংলাপের জন্য কোনো পূর্বশর্তও নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যার দরজার কারও জন্য বন্ধ থাকে না। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

‘‘এ সংলাপ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেও হতে পারে।’’

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত এক আলোচনায় ড. কামাল হোসেনের চিঠি নিয়ে কথা হয়।

এ নিয়ে ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ঐক্যফ্রন্ট একটি চিঠি দিয়েছে। দলের পক্ষে সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই  চিঠিতে কি আছে তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

‘‘আমি সে বিষয়ে না গিয়ে বলতে চাচ্ছি, আজকে আমাদের মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। বৈঠকের পর আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে ডাকেন এবং এ বিষয়ে আমাদের মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত ওই বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘অল পার্টি সেক্রেটারী হিসেবে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বলতে চাই তিনি কারো জন্য দরজা বন্ধ করেন না। এর মধ্য দিয়ে আপনারা বুঝতে পারছেন, আমরা আমাদের নেত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত; এর মধ্য দিয়ে আমরা সংলাপে বসার ব্যাপারে সম্মতি জানাচ্ছি ‘

‘‘তাদের চিঠিতে কিছু বিষয় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুষ্ঠানের লক্ষ্যের জন্য উল্লেখ করেছে, সেই সঙ্গে তাদের কিছু সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য জুড়ে দিয়েছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে সংলাপে ডাকিনি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপ করতে চান।’’

আগের দিন রোববার নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচনসহ ঘোষিত ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য সম্বলিত একটি চিঠি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছে দেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার কাছে দেয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়।

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ চারটি দলের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করে।

নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্যও ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।