চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের ঐতিহাসিক চুক্তি

বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে প্রাণ-প্রকৃতির বিশেষ দিনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করছেন বিশ্ব নেতারা।

বিজ্ঞাপন

এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত ডিসেম্বরে প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে যে সমঝোতা হয়েছিলো তা চুক্তি আকারে সই করছেন বিশ্ব নেতৃত্ব। ১৭১ টি দেশ এই চুক্তিতে সই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে জাতি সংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘প্যারিস সমঝোতা আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন দিনের সূচনা ঘটাবে। প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। তাই আমি সকল রাষ্ট্রকে তাদের নিজ নিজ জাতীয় ক্ষেত্রে চুক্তি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানাচ্ছি। আজ আমরা ভবিষ্যতের জন্য নতুন একটি চুক্তি করছি।’

এর আগে জলবায়ু চুক্তিতে জাতিসংঘের সাফল্য কামনা করে ১৮ এপ্রিল ধর্মীয় নেতারা নিউ ইয়র্কের চ্যাপেল অব দা চার্চ সেন্টারে এক প্রার্থনায় যোগ দেন। ধরিত্রীর পবিত্রতা রক্ষার প্রয়াসের প্রতি তাদের সমর্থন জানান। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তারা সর্বধর্মীয় বিবৃতি দেন জাতিসংঘ সাধারণ সভার প্রেসিডেন্টের কাছে। এতে সই করেন দালাই লামা, সাউথ আফ্রিকার সামাজিক অধিকার নেতা ডেসমন্ড টুটুসহ সারা বিশ্বের ২৫০ জন নেতা।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তারা রাষ্ট্র প্রধানদের দ্রুত প্যারিসের জলবায়ু চুক্তিতে সই করা ও তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার আহবান জানান। এছাড়া ওই চুক্তিতে সই করেন বিশ্বের ৫ হাজার ব্যক্তি ও ৯০টি বিভিন্ন ধরনের সংগঠন।

এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে পরিবেশ সাংবাদিক কামরুল ইসলাম চৌধুরীর মতামত তুলে ধরেছে ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ)।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বাংলাদেশের অন্তরায়গুলো কি কি এ প্রশ্নে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন: বাংলাদেশ চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। দেশের মাটি পানি বাতাস সবই দূষিত। অবিলম্বে তা রোধ না করলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।’

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কি ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে বিষয়ে কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নিলেও সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নেয়া যে সমঝোতা হয় তা বাস্তবায়নে তেমন প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

বাংলাদেশে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়াস বৃদ্ধি এবং এসব কাজে আন্তর্জতিক মহলের পক্ষ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।