চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনস্বার্থে যা করার দরকার তাই করবো: মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর জন্ম ১২ আগষ্ট ১৯৪৯। তিনি বাংলাদেশি একজন তথ্য প্রযুক্তিবিদ। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস, বেসিস এর সভাপতি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, বিসিএস এর সাবেক সভাপতি। তাকে কম্পিউটারে বাংলা ভাষা যুক্ত করার পথ প্রদর্শক মনে করা হয়। তার প্রতিষ্ঠানের বিজয় বাংলা কিবোর্ড ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়। যা প্রথম বাংলা কিবোর্ড এবং ইউনিকোড আসার পূর্ব পর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ও সাধারণ বিষয়ের ওপর অনেকগুলো বইয়ের লেখক মোস্তাফা জব্বার। তার পৈতৃক নিবাস নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামে। ১৯৪৯ সালের ১২ই আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চর চারতলা গ্রামে নানা বাড়িতে তাঁর জন্ম। মোস্তাফা জব্বারের বাবা আব্দুল জব্বার তালুকদার পাটের ব্যবসায়ী ও অবস্থা সম্পন্ন কৃষক ছিলেন। দাদা আলিমুদ্দিন মুন্সি ছিলেন বিশাল ভূ সম্পত্তির মালিক।  তাঁর উপাধি ছিলো তালুকদার। মা রাবেয়া খাতুন সমগ্র জীবন গৃহিনী হিসেবেই জীবন যাপন করেছেন। মোস্তাফা জব্বার  ১৯৬০ সালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সম্পন্ন করেন দাদা ও বাবার প্রতিষ্ঠা করা নিজ গ্রামের প্রাইমারি স্কুল থেকে। কিন্তু তাঁর গ্রামে বা গ্রামের আশেপাশে এমনকি পঁচিশ কিলোমিটারের মধ্যে কোন উচ্চ বিদ্যালয় ছিলো না বলে তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। বাবা মা এবং নিজের কঠোর ইচ্ছাশক্তির কারণে গ্রামের বাড়ির ২৫ কিলোমিটারের বেশি দূরের তৎকালীন সিলেট জেলার বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিরাট নামক একটি গ্রামের উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হবিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে মানবিক শাখায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন। এরপর তিনি মানবিক শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন। সেই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এই পরীক্ষাটি ১৯৭১ সালে হবার কথা ছিলো। ৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষা হলেও মুক্তিযুদ্ধের কারণে পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালের পরীক্ষা ১৯৭৪ সালে সম্পন্ন করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য চর্চা, সাংবাদিকতা, নাট্য আন্দোলন এসবের সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। ৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার লেখা বাংলাদেশের প্রথম গণনাট্য ‘এক নদী রক্ত’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রে মঞ্চস্থ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে নির্বাচন করে সূর্যসেন হলের নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার আগে তিনি সাপ্তাহিক জনতা পত্রিকায় লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে মোস্তাফা জব্বার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজিব বাহিনীর খালিয়াজুরী থানার সহ অধিনায়ক ছিলেন। তার বাড়ীর পাশের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১৬১ জন রাজাকার যুদ্ধোত্তরকালে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করে যার মধ্যে ১০৮ জনকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করে।

ছাত্র থাকাকালেই মোস্তাফা জব্বারের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে। সেই সময়ে তিনি সাপ্তাহিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে কাজে যোগ দেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ পত্রিকাটি দৈনিকে পরিণত হয়। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গণকণ্ঠ পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হতো এবং সেই সময়ে প্রকাশিত পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা পর্যন্ত তিনি তাতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। গণকণ্ঠ বন্ধ হয়ে যাবার পর তিনি ট্রাভেল এজেন্সি, মুদ্রণালয়, সংবাদপত্র ইত্যাদি ব্যবসায় যুক্ত হন। ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ- এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ২৮শে এপ্রিল মেকিন্টোস কম্পিউটারের বোতাম স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে কম্পিউটার ব্যবসায় প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে তিনি কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি প্রকাশ করেন বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার। সেটি প্রথমে মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রণয়ন করেন। পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ উইন্ডোজ অপারেটিং সিষ্টেমের জন্যও বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন।

তিনি দেশের সংবাদপত্র, প্রকাশনা ও মুদ্রণ শিল্পের ডিটিপি বিপ্লবের অগ্রনায়ক। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা। তার হাতেই গড়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা নিউজ সার্ভিস আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ বা আবাস। তিনি এর চেয়ারম্যান ও সম্পাদক। তিনি এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ বা আটাব এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বেসিস এর প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮-০৯ সময়কালে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০-১১ সালে তিনি তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২- মে, ১৩ সময়কালে তিনি এই সমিতির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১লা জুন ২০১৩ থেকে ৩১ মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত তিনি আবার চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ২০১৪-১৫-১৬ তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির উপদেষ্টা।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল বাংলাদেশ টাষ্কফোর্সসহ বিভিন্ন সংস্থায় যুক্ত আছেন। তিনি ২০১৪-১৫-১৬ সময়কালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোণা জেলা সমিতির উপদেষ্টা। তিনি নেত্রকোণা যুব সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে কম্পিউটারের শুল্ক ও ভ্যাট মুক্ত আন্দোলনের অগ্রণী নেতা ও শিক্ষায় কম্পিউটার প্রচলনের একনিষ্ঠ সাধক মোস্তাফা জব্বার এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক কমিটির সদস্য। তিনি কপিরাইট বোর্ড এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির সদস্য। ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা সম্পর্কে প্রথম নিবন্ধ লেখেন এবং তাঁর দ্বারাই ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ হয়।

এই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর ২০০৮ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশ সরকার এখন সেই প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণা বাস্তবায়ন করছে। তিনি কম্পিউটার বিষয়ে অনেক বই লিখেছেন। দেশের কম্পিউটার বিষয়ক পত্রিকাসমূহে ব্যাপকভাবে লেখালেখিতে ব্যস্ত মোস্তাফা জব্বার নবম ও দশম শ্রেণির কম্পিউটার বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা বইটির লেখক। তার লেখা “কম্পিউটার ও ইনফরমেশন টেকনোলজি” এবং “একাউন্টিং ইনফরমেশন সিষ্টেম” স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্য বই। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বই এর লেখক তিনি। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা, প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ছাড়াও তার লেখা কম্পিউটারে প্রকাশনা, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল ও তার সম্পাদিত কম্পিউটার অভিধান ব্যাপক প্রচলিত কম্পিউটার বিষয়ক বই। তার প্রথম উপন্যাস নক্ষত্রের অঙ্গার ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে। সুবর্ণে শেকড় নামে আরেকটি উপন্যাস তিনি লিখছেন। এছাড়াও কম্পিউটার কথকতা, ডিজিটাল বাংলা, একুশ শতকের বাংলা, বাঙ্গালী ও বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং একাত্তর ও আমার যুদ্ধ তার লেখা বইগুলোর অন্যতম।

বাংলাদেশ টেলিভিশন এ রাজু আলীম এর পরিচালনায় ‘তথ্য প্রযুক্তি ও বাংলাদেশ’, ‘ব্যবসায় তথ্য প্রযুক্তি’ অনুষ্ঠান এবং ‘কম্পিউটার’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ টক শো-এর মাধ্যমে তিনি কম্পিউটার প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে চলেছেন। এটিএন বাংলার ‘কম্পিউটার প্রযুক্তি’ এবং চ্যানেল আই এ ‘একুশ শতক’ এবং রাজু আলীম এর পরিচালনায় ‘শিল্পলোক’ ও ‘খোলা আকাশ’ অনুষ্ঠানের সহায়তায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি কম্পিউটারকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেন। তথপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখা এবং বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার আবিষ্কার করার জন্য তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সেরা সফটওয়্যারের পুরষ্কার, পশ্চিমবঙ্গের কমপাস কম্পিউটার মেলার সেরা কমদামী সফটওয়্যারের পুরষ্কার, দৈনিক উত্তরবাংলা পুরষ্কার, পিআইবির সোহেল সামাদ পুরষ্কার, সিটিআইটি আজীবন সম্মাননা ও আইটি এওয়ার্ড, বেসিস আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার, বেষ্টওয়ে ভাষা সংস্কৃতি পুরষ্কার, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমন্বয় পরিষদ সম্মাননা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি ও সিলেট শাখার সম্মাননা বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থার আবিষ্কারক উদ্যোক্তার স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থার নেত্রকোণার গুনীজন সম্মাননা, রাহে ভান্ডার এনোবল এওয়ার্ড ২০১৬ প্রযুক্তিবিদ হিসেবে এবং এসোসিও ৩০ বছরপূর্তি সম্মাননাসহ ২০টি পুরষ্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তাঁর রয়েছে অসংখ্য শুভেচ্ছা সম্মাননা।

শিক্ষানুরাগী মোস্তাফা জব্বার তার নিজ গ্রামে বাবা প্রতিষ্ঠিত হাইস্কুলের সম্প্রসারণ করেছেন, বাবা মার নামে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং গ্রামের হাজী আলী আকবর পাবলিক ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কম্পিউটার শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন ও কম্পিউটার স্বাক্ষরতা প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন। দেশজুড়ে মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা ছাড়াও তিনি বিজয় ডিজিটাল স্কুল এবং আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের সাহায্যে শিক্ষাব্যবস্থার নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। কম্পিউটারকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে একুশ শতকের নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা তাঁর জীবনের লক্ষ্য। তিনি এখন প্রধানত কম্পিউটারে বাংলা ভাষার প্রয়োগ এবং শিক্ষামূলক সফটওয়্যার তৈরিতে ব্যস্ত আছেন। কম্পিউটারে বাংলা লেখার বাণিজ্যিক ক্লোজ সোর্স সফটওয়্যার ‘বিজয়’ এর স্বত্বাধিকারী এবং ‘আনন্দ কম্পিউকার্স’ এর প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার ৪ঠা এপ্রিল ২০১০ তারিখে দৈনিক জনকন্ঠের একটি নিবন্ধে অভ্রর দিকে ইঙ্গিত করে দাবী করেন যে হ্যাকাররা তার ‘বিজয়’ সফটওয়্যারটি চুরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি অভ্র কিবোর্ডকে পাইরেটেড সফটওয়্যার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ইউএনডিপি হ্যাকারদের সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ইউএনডিপির প্ররোচনাতেই জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে অভ্র কিবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। মেহেদী হাসান খান জানান যে, ক্লোজড সোর্স প্রোগ্রাম হ্যাক করা সম্ভব নয় বিধায় বিজয়ের সিষ্টেম হ্যাক করা সম্ভব নয়। অপরদিকে, অভ্র’র পক্ষ থেকে মেহদী হাসান খান সকল নালিশ অস্বীকার করেন এবং অভিযোগ করেন যে, জব্বার সাহেব বিভিন্ন পর্যায়ে ও গণমাধ্যমে তাদেরকে চোর বলেন এবং তাদের প্রতিবাদ সেখানে উপেক্ষিত হয়। কম্পিউটারে বাংলা নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য উকিল নোটিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে আক্রমণের হুমকি উপেক্ষা করে কাজ করা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। তিনি আরো বলেন যে, নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পে বাণিজ্যিক বিজয় এর পরিবর্তে বিনামূল্যের অভ্র ব্যবহার করাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় জব্বার সাহেব এমন অভিযোগ করেছেন। অভ্র ৪.৫.১ সফটওয়্যারের সাথে ইউনিবিজয় নামে একটি কিবোর্ড লে আউট সরবরাহ করা হয়। এই ইউনিবজয় কিবোর্ড লে আউট প্যাটেন্টকৃত বিজয় কিবোর্ড লে আউটের নকল দাবী করে মোস্তাফা জব্বার কপিরাইট অফিসে কপিরাইট আইন ভঙ্গের জন্য মেহেদী হাসান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে কপিরাইট অফিস মেহেদী হাসান খানকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠায়। পরবর্তিতে মেহেদী হাসান খানের আবেদনের প্রেক্ষিতে এর সময়সীমা ২৩ মে ২০১০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

১৬ জুন ২০১০ তারিখে ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অফিসে অনেক তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মেহদী হাসান খান ও মোস্তাফা জব্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয় এই মর্মে, ২০ আগষ্ট, ২০১০ এর মধ্যে, অভ্র কিবোর্ড সফটওয়্যার থেকে ইউনিবিজয় লে আউট সরিয়ে নেওয়া হবে এবং কপিরাইট অফিস থেকে মেহদী হাসান খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কপিরাইট লংঘনের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, অভ্রর ৪.৫.৩ সংস্করণ থেকে ইউনিবিজয় কিবোর্ড বাদ দেওয়া হয়। তিনি অভ্র কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখে গুগল প্লে ষ্টোরে উন্মুক্ত করা হয় বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ। এরপর এই অ্যাপটি নিয়ে তার ফেসবুক দেয়ালে একটি ষ্ট্যাটাস দেন মোস্তাফা জব্বার। সেই ষ্ট্যাটাসে এই জাতীয় অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে বিজয় বাংলা কিবোর্ড লে আউট অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে গুগলের পক্ষ থেকে রিদমিক এবং ইউনিবিজয় কিবোর্ডের ডেভেলপারের কাছে পৃথকভাবে ই মেইল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, মোস্তাফা জব্বার অ্যাপ দুটির বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন গুগলের কাছে। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গুগল যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে অ্যাপ দুটি অপসারণ করেছে। পরে নতুন লে আউট করে প্লে ষ্টোরে আবারও রিদমিক কিবোর্ড প্রকাশ করা হয়। এইভাবে নানা সংগ্রাম এবং ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে কম্পিউটারে বাংলা লেখার প্রচলন করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি একজন দূরদর্শী এবং স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ। গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র আর সাংবাদিকতার মাধ্যমে জীবন শুরু করেও স্বীয় মেধা, মনন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে বারবার অতিক্রম করে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের এই সময়ের অন্যতম সেরা তথ্য প্রযুক্তিবিদ। আর তাইতো তার স্বীকৃতি পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেয়ে। ২ ডিসেম্বর ২০১৮ বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মোস্তাফা জব্বার। টেকনোক্রাট হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, ‘এক বছর সময় কাজ করার জন্যে অনেক। টেলিফোন বিভাগে ক্যান্সারের মত রোগ বাসা বেঁধেছে। সরকারি সেবা টেলিফোন এর উপরে বিশেষ নজর দিতে হবে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ বাংলা ভাষার ব্যবহার প্রসঙ্গে মোস্তাফা জব্বার বােলন, ‘আমি ইংরেজি বিরোধী না। পৃথিবীর সাথে তাল মেলাতে ইংরেজি শিখতে হবে। কিন্তু মোবাইল অপারেটরা যে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়ে তা ইংরেজিতে কেন দেবে? যে কোন কিছুতেই ইংরেজির ব্যবহার কেন? এই বিষয় নিয়ন্ত্রণের সময় এসেছে।’ তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মোস্তাফা জব্বার’কে দেওয়ায় নতুন উদ্যম ফিরে এসেছে এই সেক্টরের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে। সম্প্রতি মন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর একান্ত সাক্ষাতৎকারে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন।

প্রশ্ন : আপনি প্রথম বাংলাদেশে কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেছিলেন। তখন কি কখনো স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, একসময় আপনি টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী হবেন?

মোস্তাফা জব্বার : আমি আসলে স্বপ্ন দেখার মানুষ। আমি যখন বাংলাদেশে কম্পিউটার দিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করার দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেই, তখন লোকে আমাকে পাগল বলেছিল এবং এই পাগলামি আমি করে গেছি। আমার যে জায়গায় সবচেয়ে বড় গুরুত্ব ছিল সেই জায়গাটা হলো- কম্পিউটারকে একটি গণনা যন্ত্র হিসেবে না দেখে-এটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে আমরা ব্যবহার করতে পারি কিনা? যা আমাদের জীবনধারার সাথে সম্পৃক্ত হয়। আমাদের প্রতিদিনের কাজ তা যেন এই যন্ত্র দিয়ে করতে পারি। যেমন, আমার হাতে একটি কলম থাকলে তা দিয়ে আমি লেখালেখির কাজ করি। হাতে একটি তুলি থাকলে তা দিয়ে ছবি আঁকার কাজ করি। আমার কাছে যদি একটি টু ইন ওয়ান বা থ্রি ইন ওয়ান থাকে তা দিয়ে গান শোনার কাজ করি- তখনকার প্রেক্ষিতে বলছি। আমি একটা সময় উপলব্ধি করলাম যে, কম্পিউটার যন্ত্রটা ঠিক এইরকমভাবে বহুমুখি কাজের উপযোগী। এই বহুমুখি কাজের উপযোগী বিশেষ করে সৃজনশীলতার জায়গাটা- এই জায়গাটাকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌছাতে গেলো ৩০ বছরের বেশি সময় আমি চেষ্টা করে গেছি এবং এই চেষ্টার নানা ধাপ আছে এবং এই ধাপের ভেতরে ইতিবাচক দিক যেটি তা হলো- ১৯৯৬ সালে আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম সরকার গঠন করে এবং এই সরকার গঠনের পরে প্রথম আমরা তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সরকারী সহায়তা কেমন করে পাওয়া যায় সেই জায়গাটার মধ্যে আমরা পা ফেলতে পারি। আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি যে, প্রধানমন্ত্রী তখন আমাদের কম্পিউটারের উপরে ডিউটি এবং ভ্যাট প্রত্যাহার করেছিলেন এবং যেটার ফলে প্রকৃতপক্ষে আজকের বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে কম্পিউটারের যে বিস্তার সেই বিস্তার ঘটেছে। তিনি একই সাথে মোবাইলের মনোপলি ভেঙেছিলেন এবং তার জন্যে আজকের বাংলাদেশে ১৪ কোটি কানেকশন আজ বিরাজ করে। তিনি ভি স্যাট স্থাপন করে ইন্টারনেটকে অনলাইন করার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন এবং তার জন্যে আজকে আমরা ৮ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের দরজায় গিয়ে পৌছতে পেরেছি। সুতরাং প্রাথমিক ভিত্তিটা তিনি তৈরী করে দিয়েছিলেন কিন্তু ২০০৮-২০০১ এই সময়কালে সেই অবস্থার ঠিক উল্টাদিকে পথ চলা হয়েছে এবং তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের জন্যে কোন সরকারি পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। আবার ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসলেন তার আগে নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি আসলে পুরো জাতীকে স্বপ্ন দেখান এবং এই স্বপ্নটা এতো বড় স্বপ্ন যে, যে স্বপ্ন পৃথিবীতে এর আগে আমাদের মত দেশ দেখেনি। কারণ তিনি একটি কৃষিপ্রধান দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের কথা বলেন। আমরা বস্তুত পক্ষে সমালোচিত হয়েছি ঠাট্টা মশকরার শিকার হয়েছি- আবার ডিজিটাল কি জিনিস? এই যে জায়গাটা সেই জায়গা থেকে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে বলবো যে, গেলো ৯ বছরে তিনি এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্যে সকল ক্ষেত্রে যে প্রচেষ্টাগুলো গ্রহণ করেছেন এটি অতুলনীয়। লাইন বাই লাইন বলতে গেলে বিস্তারিত বলতে হবে। আমি শুধু এইটুকুই বলবো যে, আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাকে দৃশ্যমান করতে পেরেছি। দেশের সাধারণ মানুষ, গ্রামের মানুষ অথবা ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা সরকার সকলে এখন বোঝে ডিজিটাল বাংলাদেশ কি জিনিস? প্রত্যেকের জন্যে কোন না কোন জায়গা বা সুযোগ সুবিধা আমরা তৈরী করতে পেরেছি। এই যে করতে পারাটা তা আমার জন্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয় যে- ইয়েস, আমার এই রূপান্তরটার ক্ষেত্রে আমি বেসরকারিভাবে যে ভুমিকা পালন করি। এই ভুমিকাকে যদি আরও একটু সম্প্রসারিত করা যায় এবং যদি শুধু দাবি উত্থাপন করার মানুষ থেকে যদি বাস্তবায়নকারী মানুষে রূপান্তরিত হওয়া যায় তাহলে কাজগুলো আমার জন্যে অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমি ধন্যবাদ দেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যে, তিনি আমাকে সেই বাস্তবায়নকারীর যে জায়গা সেই জায়গায় আমাকে বসিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে আমি যেই জায়গায় পশ্চাতে ছিলাম সেই জায়গায় আমার একটি অগ্রযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশ্ন : আপনার ছেলের নামে বিজয় বাংলা কিবোর্ড চালু করেছেন?

মোস্তাফা জব্বার : এখানে আমি আগে কারেকশন করি। আগে বিজয় কিবোর্ড এর নাম হয়েছে পরে ছেলের জন্মের হয়েছে। পরে সফটওয়্যারের নামে বিজয় ছেলের নাম রাখা হয়েছে। বিজয় হলো বাংলাদেশের বিজয়। কেউ ধারণা করবেন না যে, ছেলের নামে সফটওয়্যারের নাম দিয়েছি।

প্রশ্ন : সেই কম্পিউটার থেকে এখন ল্যাপটপ তারপরে এখন হাতে হাতে অ্যান্ডয়েড ফোনে সবাই বাংলা লিখছে। আর আপনি এই মন্ত্রনালয়ে যোগদানের পরেই বলেছেন, মন্ত্রণালয়ে যেন কেউ ইংরেজিতে চিঠি না পাঠান। এই বিষয়ে কিছু জানতে চাই?

মোস্তাফা জব্বার : বাংলাদেশের একটি সংবিধান আছে এবং সেই সংবিধানে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে- প্রজাতন্ত্রের ভাষা হবে বাংলা। যদি আমরা অতীতে তাকাই তাহলে আমাদের কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিৎ আমরা কিন্তু বাংলাদেশ তৈরি করার জন্যে প্রথমে ভাষার জন্যে রক্ত দিয়েছি। সুতরাং ’৫২ এর শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা ভাষা ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করেছি এবং ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমি সংবিধানর রক্ষা করার শপথ নিয়েছি। অতএব সংবিধানের ৩ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন করা আমার এই শপথের অংশ। আমি আমার শপথ রক্ষা করছি এটি শপথে যেহেতু বলা আছে আমাকে বাংলায় কাজ করতে হবে। আমি সেই কাজটিই করছি এবং এই ক্ষেত্রে অনেকেই এই প্রশ্ন তোলেন যে, আমি বিদেশীদের সাথে যখন আমি যখন যোগাযোগ করবো- আমি কিন্তু বিদেশীদের সাথে ইংরেজীতে কথা বলবো, ইংরেজীতে কমিউনিকেট করবো। আমি যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাব তখন যেমন, আমাকে যদি জাপানে যেতে হয় তাহলে পারলে আমি জাপানীজ ভাষায় কথা বলবো। কোরীয়ায় গেলে পারলে আমি কোরীয় ভাষায় কথা বলবো। সুতরাং আসলে এই জায়গায় আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ভাষার যে একক কেন্দ্রীকতা সেই জায়গাটা আসলে নাই। আমরা লক্ষ্য করেছি পৃথিবীতে আমার কাছে শ্রদ্ধা করার মত যে কয়টা দেশ সে কয়টা দেশ মাতৃভাষাকে সম্মান করে সবচেয়ে বেশি। জাপান, কোরীয়া, ফ্রান্স, জার্মানী, চায়না এবং থাইল্যান্ডসহ আশেপাশের দেশ সব দেশই কিন্তু তার মাতৃভাষাকে সম্মান করে। আমার এখানে যদি কেউ বিদেশীও ব্যবসা করতে আসে তখন তার তো নৈতিক দায়িত্ব যে এই দেশের মাতৃভাষাকে আমি সম্মান দেই কিনা? রাষ্ট্রভাষাকে সম্মান দেই কিনা? আমি এর একটি দৃষ্টান্ত দিতে পারি- মার্কিন দূতাবাসের কারো যদি কোন ভিজিটিং কার্ড আপনি পান তাহলে দেখবেন এর একপিঠে ইংরেজী আছে আরেক পিঠি বাংলা আছে। তার মানে তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ভাষাকে তারা সম্মান প্রদর্শন করে। আমি তার সাথে হয়তো ইঙরেজীতে কথা বলি কিন্তু তার এই সম্মান প্রদর্শন কিন্তু আমার জন্যে অনেক গৌরবের। তিনি আমার মাতৃভাষাকে সম্মান দিয়েছেন আমার রাষ্ট্রভাষাকে সম্মান দিয়েছেন। আমি ঠিক সেই কথাটিই বলেছি যে- আমার কাছে ডেফিনেটলি রাষ্ট্রীয় ভাষা যদি বাংলা হয়। তাহলে আমার সাথে যোগাযোগটা বাংলাতেই হতে হবে। কোন বিদেশী প্রতিষ্ঠান যদি বাংরাদেশে কাজ করে তাহলে তার বাংলা লেখার জন্যে একটি কর্মচারী নেই তা আমি বিশ্বাস করি না। সুতরাং সেই কারণেই আমার কাছে বলা হয়েছে যে, এবং এটি কিন্তু আমার না কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অন্য ভাষায় কোন চিঠি যায় না। তিনি সমস্ত চিঠি বাংলা ভাষাতে গ্রহণ করেন। সরকারের সব কাজ বাংলা ভাষাতে করা হবে এটি কিন্তু আমাদের প্রজাতন্ত্রের নির্দেশ আমি সেই কাজটিই বাস্তবায়ন করছি।

প্রশ্ন : অনেকক্ষেত্রেই আপনি পাইওনিয়ার। কম্পিউটারে পত্রিকা প্রকাশ প্রথম করেছিলেন, প্রাইভেট নিউজ এজেন্সি আবাস আপনি শুরু করেছিলেন, প্রথম রঙিন পত্রিকাও আপনি শুরু করেছিলেন- এই যে ধারাবাহিকতা। সেই জায়গা থেকে মোস্তাফা জব্বার হয়ে ওঠে। আপনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আপনার স্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধা । আমি জানতে চাই এই ব্যক্তি মোস্তাফা জব্বার আর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের পার্থক্য কি?

মোস্তাফা জব্বার : আমি এই পর্যন্ত যত কাজ করেছি তার সবই পরিকল্পিত। আরও একটু বাড়িয়ে বললে সবই সুপরিকল্পিত কাজ। কারণ আমি যখন কম্পিউটারে বাংলা ভাষার প্রয়োগ করি এবং বাংলা ভাষার পত্রিকাগুলোকে ডিজিটাইজড করি- এটি হুট করে করিনি। আমি বিজয় কিবোর্ড তৈরী করার আগে সতেরো মাস গবেষণা করেছি একটি কিবোর্ড তৈরীর জন্যে ১০৮ টা ফ্রন্ট ডিজাইন করেছি। আমি এই পর্যন্ত যত ধরণের ডিজিটাল ডিভাইজ আছে ষ্মার্ট ফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার পর্যন্ত যত অপারেটিং সিস্টেম আছে তাতে যাতে বাংলা লেখা যায় তার ব্যবস্থা করেছি। এটি পরিকল্পিতভাবে করা এবং আমি খুব ছোট হয়েই বলতে পারি- আমি ঠিক জানি না ৮৭ সালে আমি যদি এই কম্পিউটারে বাংলা প্রয়োগ না করতাম তাহলে আজকে বাংলা ভাষা রোমান হরফে লেখা হতো কিনা? কারণটি হচ্ছে বাংলা যন্ত্রে লেখা খুব কঠিনতম একটি কাজ ছিল। আমার আগে শহীদ মুনীর চৌধুরী কেবল একটি টাইপ রাইটার আবিষ্কার করেছিলেন। সেটা দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর হাতে অফিসের কাজকর্মে নিয়োজিত হতে দেখলাম। বঙ্গবন্ধু কিন্তু এই টাইপ রাইটার এর প্রচলন করে সারাবিশ্বে কিন্তু এই অফিসিয়াল কাজকর্মে বাংলায় করতে পারে সেই দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। আমি সেই ধারাবাহিকতা মেইনটেইন করেছি। এই ধারাবাহিকতার মধ্যে আমার কর্মক্ষেত্র যেটি আছে- আমার একটি বড় কর্মক্ষেত্র ছিল যে, আমি আমার ইন্ডাষ্ট্রিটাকে বড় করতে পারি কিনা? কারণ আমরা যদি কম্পিউটারকে জনগণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই তাহলে এই কম্পিউটার নিযে তার এই হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার নিয়ে এবং সেবা এই জায়গাগুলো যদি গড়ে না ওঠে তাহলে কিন্তু জনগণের কাছে এই জিনিসগুলো পৌছাবে না। আজকের বাংলাদেশে যেটি সবচেয়ে সুখবর গেলো ৯ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে আমার অত্যন্ত ¯েœহভাজন সজিব ওয়াজেদ জয় তিনি নিজে একজন তথ্য প্রযুক্তিবিদ তার গাইডলাইন এবং তত্ত্বাবধানে আমরা এমন একটি জায়গায় গিয়ে পৌছেছি যে, এটি পৃথিবীর যে কোন দেশের কাছে অনুসরণীয় একটি দৃষ্টান্ত। আমার এখন যে জায়গাটা মনে হচ্ছে সেটি হলো-ইতিমধ্যে ৯ বছরে যে কাজগুলো হয়েছে সেই কাজগুলোর শেষটুকু পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং নতুন যেসব কাজ বাকী আছে তার সূচনা করা ও এই সব বাস্তবায়িত করা। এই সব কাজই আমাকে করতে হবে। আমি এই ক্ষেত্রেও মনে করি ইতিমধ্যে আমাদের প্রতিমন্ত্রীরা এই দুটি বিভাগে কাজ করেছেন তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ যে তারা কৃতিত্বের সাথেই কাজ করেছেন। একই সাথে ধন্যবাদ সজিব ওয়াজেদ জয়কে আমরা একসাথে মিলে আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের পক্ষে যেই সময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা তার আগেই আমরা খুবই ভালভাবে এবং দৃশ্যমানভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারবো।

প্রশ্ন : আপনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। সাংবাদিকতায় আমরা আপনাকে পেয়েছি খুবই আধুনিক একজন মানুষ হিসেবে। এই দেশের প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় আপনি সবসময়ই র্দোদন্ডপ্রতাপে কাজ করে চলেছেন- কিভাবে সম্ভব হলো এতো কিছু করা?

মোস্তাফা জব্বার : মিডিয়া সারা দুনিয়াতে রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং মিডিয়ার ভুমিকা সকল ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে আমি আমার নিজের জগৎটা পতথ্য প্রযুক্তির কথা বলি তাহলে মিডিয়া সেই ৮৭ সাল থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যে সমর্থনটা দিয়েছে মানুষের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশকে তুলে ধরা- এই প্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা তুলে ধরা, এমন কি এর খারাপ দিক তুলে ধরা- এই সমস্ত কিছুর ক্ষেত্রে অসাধারণ ভুমিকা তুলে ধরেছেন আমাদের মিডিয়াকর্মীরা। এর ফলে যা হয়েছে তা হলো- অন্য যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি সচেতন নাগরিক নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলছে। এখন এই কারণেই কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলছেন, আমরা ডিজিটাল ইন্ডিয়া করার সময় বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবো। বারাক ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনি কেনিয়ায় গিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং আমাদেরকে দেখে দেখে কিন্তু আমাদের আশপাশের দেশসহ অনেকগুলো দেশ এই জায়গার মধ্যে এসেছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, এটি বাংলাদেশের জনগণনের অর্জন। বাংলাদেশের মানুষ সাংঘাতিকভাবে প্রযুক্তি বান্ধব এবং মিডিয়া বাংলাদেশের মানুষকে এই জায়গায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে দারুণভাবে সহায়তা করেছে।

প্রশ্ন : ডাক বিভাগের দায়িত্বও আপনার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আছে। এই বিভাগের পরিবর্তনে কি করতে চান?

মোস্তাফা জব্বার : আমি সহজ কথায় বলবো- বাংলাদেশে সবচেয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক হচ্ছে ডাক বিভাগের। আমাদের এমন কি ডিজিটাল দুনিয়াতেও বাংলাদেশের গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ডাক বিভাগ ছাড়া আর কারও নাই। ফলে আমাদের জন্যে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ডাক ব্যবস্থার মধ্যে রূপান্তর করা। আমরা যে সেবাগুলো আগে আপনি বললেন যে, আগে কাগজে চিঠি লিখতাম এখন আমি ষ্মার্টফোনে এসএমএস এ অথবা ম্যাসেঞ্জারে ভাইভারে বা হোয়াটস অ্যাপে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করি। ডাক বিভাগকে সেই জায়গায় সক্ষমতা তৈরী করতে হবে যেই জায়গার মধ্যে সে ডিজিটাল যুগে বেঁচে থাকতে পারে। মনে রাখতে হবে আমার ডাক বিভাগে বিপুল পরিমাণ কর্মচারী আছে। বিপুল নেটওয়ার্ক এবং সম্পদ আছে। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে যাতে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্যে জনগণের কাছে সেবা পৌছে দেয়ার জন্যে কি করা যায় তা আমরা নিশ্চয়ই করবো।

প্রশ্ন : এখানে সুবিধা হলো প্রযুক্তি মন্ত্রীও আপনি, তাই কিভাবে কাজে লাগাবেন?

মোস্তাফা জব্বার : আসলে আমি ইতিমধ্যে ডাক বিভাগের রুপান্তরে কাজ চলছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রীরা এবং আমাদের তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় তারা মিলে কিন্তু ডাক বিভাগের রূপান্তরের কাজ করেছেন। আমার কাজ হলো- যেটুকু কাজ করা হয়েছে তার সাথে আরও কিভাবে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে যেমন, ডাক বিভাগ এখন ই কমার্সের জন্যে কাজ করে। ডাক বিভাগ এখন ডিজিটাল কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। আমার যেটি মনে হয়- বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌছে দেয়ার জন্যে ডাক বিভাগ একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। আমি সেই জায়গায় চেষ্টা করবো যাতে জনগণের সাথে ডিজিটাল রূপান্তরের সম্পর্কটা স্থাপিত হয়।

প্রশ্ন : টেলিফোন এবং মোবাইল ফোনের ব্যবসা রমরমা ছিল একসময়। কিন্তু বর্তমানে একটি মোবাইল ফোন অপারেটর ছাড়া কোম্পানীই লাভজনক হতে পারছে না- এই অবস্থা তৈরী হলো কেন?

মোস্তাফা জব্বার : এটি কোন ধসের বিষয় নয়। টেলকো কেবলমাত্র এর জন্যে প্রযোজ্য না। প্রযুক্তি এমন একটি জিনিস যা একটি মুহুর্ত স্থির থাকে না। প্রযুক্তির এই রূপান্তরের সাথে যিনি খাপ খাওয়াতে পারবেন না, তিনি কিন্তু বিরক্ত হয়ে যাবেন। এখানের প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে ডাইনোসরের ফর্মুলা প্রযোজ্য হবে। তেলাপোকা বেঁচে থাকবে আর ডাইনোসর বিলুপ্ত হবে। এর কারণ হলো তেলাপোকা সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পেরেছে আর ডাইনোসর খাপ খাওয়াতে পারেনি সেই কারণে সে বিলুপ্ত হয়েছে। আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বললেন এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে না পারে তাদেরও ওই ডাইনোসর এর অবস্থা হবে। আমরা এক সময় কিন্তু কেবলমাত্র মোবাইল ফোনে কথা বলতাম। তার আগে স্থায়ী ফোন বা ফিক্সড বা ল্যান্ড ফোনে কথা বলতাম। এখন ল্যান্ড ফোন প্রায় বিলুপ্ত কিংবা ফ্যাক্স তারও অস্তিত্ব নাই। কিংবা টেলেক্স তো এখন পাওয়াই যায় না। এখন কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য করেন বিপুল পরিমাণ মানুষ আদৌ ভয়েস কল করেই না। সে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ করে। কথা বলার জন্যেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমি বহুদিন যাবৎ এই টেলকোগুলোকে বলে আসছি যে, তোমাদের জন্যে ভবিষ্যত ব্যবসার নাম হলো-ডেটা। ভবিষ্যতে ভয়েস কল নামের কোন কিছু থাকতে নাও পারে। অতএব ডেটা বিজনেস যদি পরিশিলীতভাবে যদি না করা যায় তাহলে কিন্তু তাদেও পক্ষেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। আমি ষ্পষ্ট করে প্রথম দিন থেকে বলে আসছি যে- সেটি হলো, ইন্টারনেট এবং কেবলমাত্র ইন্টারনেটই আমার ডিজিটাল বাংলাদেশের মহাসড়ক। আমার এই মহাসড়ক যদি ঠিক করতে না পারি- এই মহাসড়কের অংশীদাররা যদি তাদের ভুমিকা ঠিকমতো পালন করতে না পারে তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশও হবে না, আমি যে লক্ষ্যে যেতে চাই তাও হবে না এবং যারা তার সাথে যুক্ত হতে পারবে না তারা টিকে থাকবে না। আমি আমাদের টেলিকম কোম্পানীগুলোকে অনুরোধ করছি যে, আপনারা এই ইন্টারনেট এর জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এবং দুটো জায়গায় আমি গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। একটি হলো আমি ইন্টারনেট এর গতি চাই। আরেকটি হলো সাশ্রয়ী মূল্যে আমি ইন্টারনেট চাই। এই দুটো জিনিস যদি করতে পারি তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর একটি বড় অর্জন আমরা এই জায়গায় পেয়ে যাব।

প্রশ্ন: ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়াও একটি ডিজিটাল মিডিয়া এসেছে। মোবাইল ফোন অপারেটরা এখন সেই দিকে ঝুঁকছে। এই জায়গার রিফর্ম কেমন হচ্ছে?

মোস্তাফা জব্বার : অঙ্কটা খুবই সোজা। আপনি একটি টিভি চ্যানেল থেকে কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ মানুষের কাছে পৌছান। আর একটি ডিজিটাল মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌছায় অতএব কোটি কোটি মানুষ যেখানে যায় আপনি যদি সেখানে যেতে না পারেন তো আপনি বিলুপ্ত হবেন।
আমরা প্রচলিত সম্প্রচার এবং প্রচলিত প্রকাশ মাধ্যম বা কাগজের বই এই জিনিসগুলো বিলুপ্ত হতে দেখবো। এটি প্রশ্ন হচ্ছে সময়ের? কোনদিন বিলুপ্ত হবে? যেমন, ধরেন নিউজ উইকের মত পত্রিকা ইকনোমিক টাইমস এর মত পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। কাগজের সংষ্করণ প্রকাশিত হয় না। সুতরাং কোনদিন আমাদেও দেশের পত্রিকাও বন্ধ হয়ে যাবে তা কেউ হিসাব করেও বলতে পারবে না। কিন্তু পরিণতি ওই দিকে যাচ্ছে। আপনি লক্ষ্য করবেন, ইফটিউব পৃথিবীর যত মানুষ দেখে সারা দুনিয়ার টিভি চ্যানেলগুলো এতো মানুষ দেখে না। তার মানে হলো এই রূপান্তরটা ঘটেছে। আপনার আমার দায়িত্ব হলো- রূপান্তরের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানো। আপনি ঠিকই বলেছেন- আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো এখন সম্ভবত টেলিভিশনের পর্দায় যে পরিমাণ দর্শক পায় তারচেয়ে বেশি দর্শক পায় ইউটিউবে অথবা সে ভিডিও হিসেবে কনটেন্ট দেয় সেইখানে।

প্রশ্ন : ফেসবুকেও আসতেছে?

মোস্তাফা জব্বার : হ্যাঁ, তাই। বহু জায়গা আছে যেমন সম্প্রচার মাধ্যমকে একমাত্র দেখতেন যে তারা কি সম্প্রচার করছে? এখন কিন্তু জায়গাটা বদলেছে আপনি ফেসবুকে লাইভ করে কোন অনুষ্ঠান কোটি কোটি দর্শকের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

প্রশ্ন : নিজেই চ্যানেল হয়ে যাচ্ছি?

মোস্তাফা জব্বার : হ্যাঁ। ঠিক তাই। এই যে নিজে চ্যানেল হয়ে যাওয়াটা আপনাকে তার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে এবং সেই কারণে আমি গুরুত্ব দেই এই জায়গাটাতে- পার্থক্যটা কি হবে? আমি যখন ব্যক্তি হিসেবে একটি চ্যানেল চালাই অথবা আমি নফেসবুক বা ইউটিউবে যখন একটি কনটেন্ট দেই আমাদেও যে প্রচলিত গুমাধ্যমগুলো আছে তারা যদি তার চাইতে ভাল কিছু কনটেন্ট দিতে না পারে তাহলে কিন্তু টিকে থাকা যাবে না। তাই কন্টেনটের জায়গাটি ষ্পষ্ট করে বলতে চাই-দর্শক অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরী করতে হবে। মজার কথা হলো এই যে, বাংলাদেশ এতা বড় একটা দেশ- এই দেশে একটি ইংরেজি চ্যানেল নাই। কারণ কি? কারণ খুব সহজ- ইংরেজি চ্যানেল দেখার মত মানুষ নাই। যদি থাকতো তাহলে ইংরেজি চ্যানেল এর রমরমা অবস্থা থাকতো। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশে দু একটি ইংরেজি পত্রিকা আছে কিন্তু যদি তার পাঠক হিসাব করেন তাহলে বাংলা পত্রিকার সাথে তুলনায় তা নগণ্য। তাহলে ভাষাটাও এইখানে একটা বড় ফ্যাক্টর। তার সংষ্কৃতিও একটা ফ্যাক্টর। তার জীবন যাপন এবং ভাল লাগা মন্দ লাগা এই সবই কিন্তু ফ্যাক্টর? জীবনে শিক্ষার প্রভাব আছে তাও একটা ফ্যাক্টর। অতএব আমাদের যে বিদ্যমান মিডিয়া আছে এই মিডিয়াগুলোর রূপান্তর অনিবার্য এবং তা হতেই হবে।

প্রশ্ন : আপনি তরুণদের চাইতেই ফেসবুকে খুবই অ্যাকটিভ আমরা দেখি। কোন কারণে সরকার যখন ফেসবুক বন্ধ করে দেয় তখন আপনি রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার াষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই শ্লোগানে প্লাকার্ড হাতে ফেসবুকে আপনাকে দেখা যায়। বর্তমানে দুটি পাওয়ারফুল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে। কি পরিবর্তন আনতে চান এই ক্ষেত্রে?

মোস্তাফা জব্বার : আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্র, কম্পিউটার নিয়ে চর্চা করছি কেমন করে? বিষয়টা এই রকম- বাংলা সাহিত্যের অনার্স এবং মাষ্টার্স মিলিয়ে আমি পড়েছি মাত্র ৪ বছর। আর কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করছি ৩০ বছরেরও উপরে- অতএব আমার ৩০ বছরের উপরের যে জ্ঞান- এই জ্ঞান তো ৪ বছরের জ্ঞান না। ঠিক একইভাবে আমার দুটি মন্ত্রণালয়ে দুদিন আমি অফিস করছি- আমি বলেছি যে, ৭ দিন আমি ছাত্র থাকবো। দুটি বিভাগ থেকে আমি ছাত্র হিসেবে শেখার চেষ্টা করবো। ছাত্র হিসেবে শেখার পরে প্রাকটিক্যালি আমার পক্ষে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিকল্পনা করাও সম্ভব হবে। এখনো পর্যন্ত আমার ছাত্রত্বেও সময় শেষ হয় নাই। ছাত্রত্বের জন্যে যে টুকু করার দরকার সেটুকু করছি। একটি বিষয়ে আমি শুধু মন্তব্য করতে চাই সেটি হলো যে, আমি এর মধ্যে কিন্তু দেখেছি দুটি বিভাগেই অসাধারণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। অর্থ্যাৎ এই বিভাগগুলো ১০ বছর আগে যে অবস্থায় ছিল তার চেয়ে হাজার গুণ সামনে গেছে। তারপরেও কোনকিছু তো সমস্যার বাইরে না। আমাদের কোথাও কোথাও হয়তো ছোটখাট সমস্যা আছে কিংবা হয়তো জটিল সমস্যা আছে। আমার দায়িত্ব হবে- যেটি আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী যে কারণে এখানে আমাকে বসিয়েছেন, সমস্যাগুলো দূর করা এবং যেটুকু এগিয়ে গেছে তা আরও একটু এগিয়ে দেয়া। আমি সেই কাজটিই করবো এবং একেবারে ষ্পষ্ট করে বলতে চাই- প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে নির্দেশ দেবেন এবং সজিব ওয়াজেদ জয় আমাকে যেভাবে পরামর্শ দেবেন সেই পরামর্শ এবং নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন করা আমার কাজ। বিষয়টা আরও ষ্পষ্ট করা দরকার। সজিব ওয়াজেদ জয় আমাদের তিনি আমাদের উপদেষ্টা কিন্তু তিনি আমাদের দৈনন্দিন বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন না। তার পক্ষে তা করা সম্ভব হয় না। তিনি নির্দেশনা এবং গাইড লাইন দিতে পারেন কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্যে যে দেখাশোনা করা দরকার আমি সেই দেখাশোনা করবো। কিন্তু গাইড লাইন আমি তার কাছ থেকেই পাবো।

প্রশ্ন : মন্ত্রীদের কথাবার্তা নিয়ে অনেক সময় আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই রকম দায়িত্বে থাকলে কথা বার্তায় খুব সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। আপনি খুবই ষ্পষ্টবাদী মানুষ। এই বিষয়ে ভাবনা ভাবনা কি?

মোস্তাফা জব্বার : আমি ষ্পষ্ট কওে বলি- আমি আমার কথা যখন বলি তখন তা জেনে বুঝেই আমি তারপরে কথা বলি। অনেক ক্ষেত্রেই হয় কেউ কেউ অপব্যাখ্যা করেন কিংবা বিকৃত করেন। আমার নিজের কাছেই এই জায়গাটা খুবই ষ্পষ্ট। এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। যারা অপব্যাখ্যা করেছে বিকৃত করেছে- আমি কিন্তু মনে করি সাধারণ মানুষ এই বিকৃতি এবং অপব্যাখ্যাকে কখনোই গ্রহণ করে না। সাধারণ মানুষ সত্য কথা গ্রহণ করে এবং এর মূল ষ্পিরিটটা গ্রহণ করে। অতএব দুই চারটা লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তার জন্যে আমার মাথা খারাপ করার কোন কারণ নাই। আমি খুব ষ্পষ্ট করে বলেছি এবং যারা যারা একেবারে টোটালি মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছেন। যারা এই সংবাদ পরিবেশন করেছেন আমি শুধুমাত্র তাদেরকে বলেছি যে, আপনারা যে কাজটি করছেন তা সঠিক কাজ না। আমি নিজেও সাংবাদিক তাই দয়া করে হলুদ সাংবাদিকতা করবেন না। এটি আমি আজকে প্রথমবারের মত দেখলাম কিন্তু আল্টিমেটলি যদি আপনি এটা করতেই থাকেন তাহলে বদনামটা আপনারই হবে। আমার জন্যে চেষ্টা করছেন আমার জন্যে যদি গর্ত খুঁড়তে থাকেন তাহলে ওই গর্তে হয়তো আপনাকেই পা দিতে হবে। অতএব আমি বিশ্বাস করি যে, আমি সাধারণ মানুষের শক্তি দিয়ে- আপনি যে কথাটি বললেন, একটা লোক অপপ্রচার করছে কিন্তু ৯৯ টা লোক আমাকে বিশ্বাস করছেন। আমি ৯৯টা লোকের বিশ্বাস পেয়ে একটি লোকের কারণে কি জন্যে আমি অস্থির হয়ে যাব? আমার এই সব বিষয়ে কোন অস্থিরতা কাজ করে না।

প্রশ্ন : বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনি জড়িত। আগে যাদের কাছে ফাইল নিয়ে আপনি যেতেন আর এখন তারাই ফাইল নিয়ে আপনার কাছে আসবে। নানা অ্যাসোসিয়েশন এবং অর্গানাইজেশন চালানোর অভিজ্ঞতা আপনাকে মন্ত্রী পদ চালানোর জন্যে কিভাবে সহযোগিতা করবে?

মোস্তাফা জব্বার : দেখুন আমি ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছি বলেই বাইরে থেকে যে জ্ঞান আমি নিয়ে এসেছিলাম- এই জ্ঞান পরিপক্ক করার জন্যে করার জন্যে বাস্তবে আসলে আমার এই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে জানা দরকার। আমি জেনে, আমি বলেছি কোথাও যদি সমস্যা থাকে সেই সমস্যা দূর করার রেসপন্সিবিলিটি আমার। সুতরাং সমস্যা দূর করার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমার আছে। আর এতোগুলো সংস্থা আমার সাথে যুক্ত এগুলো সম্পর্কে একেকটা একেক দিনের কাহিনী হতে পারে। কারণ আমরা যেরকম আইসিটি ডিভিশনের কথা বলি কিংবা আমরা টেলিকম ডিভিশনের কথা বলি, টেলিকম ডিভিশনের টেলকো থেকে শুরু করে কেবল ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যন্ত আছে। বিটিআরসি আছে- দ্যান সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে। সবগুলোরই কিন্তু ইনডিপেনডেন্ট কাজকর্ম আছে। আমি মনে করি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কার্যকর করা, যথাযথভাবে উৎপাদনশীল করা, সক্রিয় করা এবং জনগণের জন্যে তাদের সেবা পৌছানো এই জায়গাটা আমার নিশ্চিত করা দরকার।

প্রশ্ন : আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ইন্টারনেট নির্ভর। দেশের সব ব্যবসা বাণিজ্যই ইন্টারনেট নির্ভর। এই মন্ত্রণালয়ের সাথে সব কিছু জড়িত। রেডিও টেলিভিশন, বিকাশ, মোবাইল ব্যাংকিং এবং হুন্ডিতে টাকা লেনদেন এই সব জায়গাও প্রযুক্তি রয়েছে?

মোস্তাফা জব্বার : আমার দুটি বিভাগ আছে- আমার দুটি চোখ পা কিংবা হাতের মত। এই দুটির সমন্বিত কাজ করাই আমার লক্ষ্য। আর তথ্য প্রযুক্তি কিংবা টেলিকম এই দুটো একটি মন্ত্রণালয় না। এর দায়িত্ব হলো সকল মন্ত্রণালয়ের জন্যে সেবা দেয়া এবং সকল মন্ত্রণালয়ের সেবা দেয়ার জন্যে তার যে সক্ষমতা দরকার সেই সক্ষমতা তাকে তৈরী করতে হবে। আমার যা ধারণা ইতিমধ্যেই অত্যন্ত ভালভাবে এগিয়ে এসেছে এবং নানাভাবে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করে আসছে। আমার দেখার বিষয় তার মধ্যে কোথাও সুতোর মতো কোন ফাঁক আছে কিনা? কোন জায়গাতে একটু দূর্বল হয়েছে কিনা সেগুলো। এই সব থাকলে তা দূর করা আমার দায়িত্ব। আমার দিক থেকে আমি বলবো যে, তথ্য প্রযুক্তি যেভাবে কার্টিং এজ টেকনোলজি সবার কাজে লাগে এই মন্ত্রণালয়ও হলো সেইরকম যে সবার কাজে লাগবে।

প্রশ্ন : অর্থমন্ত্রী নিজে আপনাকে তার তথ্য প্রযুক্তির গুরু বলে জানেন, আমরা তা জানি। তাই অর্থমন্ত্রণালয়ের সাহায্য লাগবে আপনার মন্ত্রণালয চালানোর জন্যে। তাই আপনার জন্যে কাজটি অনেক সহজ হয়ে গেলো যে অর্থমন্ত্রণালয় আপনার পাশে আছে?

মোস্তাফা জব্বার : আমি এমন ভাগ্যবান একজন মানুষ যে মানুষটি প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ পেয়ে এসেছি ৪৭ বছর যাবৎ। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে যে কয়টি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি যে কয়টি ক্ষেত্রে তার সহযোগিতা চেয়েছি। সে ক্ষেত্রে আমি যা চেয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি তিনি আমাকে দিয়েছেন। তখন তো আমি মন্ত্রী ছিলাম না, সাধারণ একজন মানুষ হিসাবে। ঠিক একইভাবে ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত যেটি হয়েছে সেই সময় আমি আরেকজন অর্থমন্ত্রী পেয়েছিলাম শাহ্ এম এস কিবরিয়া তিনিও অসাধারণভাবে তথ্য প্রযুক্তি বান্ধব ছিলেন। এখন যিনি অর্থমন্ত্রী আছেন তিনি তো শুধু বান্ধব না, তথ্য প্রযুক্তির জন্যে নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার দরকার হলেও তিনি তা করেন। আমাদের জন্যে সবচেয়ে বড় শক্তি হলেন প্রধানমন্ত্রী, আমাকে এবং এই তথ্য প্রযুক্তিকে এতো ভালবাসেন যে তিনি যা চাওয়া হয় তাই করেন। অর্থমন্ত্রীও ঠিক তাই করেন। আরেকটি সুবিধা আছে। সেই সুবিধা হলো- আমাদেও সজিব ওয়াজেদ জয় যেহেতু তথ্য প্রযুক্তি এবং টেলিকম খাতের মানুষ সেহেতু বহুক্ষেত্রে আমাদের ইন্ডাষ্ট্রি যা বলবে সেই কথা সজিব ওয়াজেদ জয় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌছে দেবেন। এটি আমাদের জন্যে একটি বাড়তি সুবিধা। এই বাড়তি সুবিধাও আমরা পেয়ে এসেছি। আর আশা করি ভবিষ্যতেও পাব। ফলে অনুকূল পরিবেশ বলতে যা বোঝায় তা এখন বিরাজ করছে।

প্রশ্ন : রোবট সুফিয়াকে বাংলাদেশে আনা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরের চাবিকাঠি আপনার হাতে এখন। কিভাবে পরিবর্তন আনবেন?

মোস্তাফা জব্বার : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমরা এখন উৎক্ষেপন করবো। আমাদের প্রত্যাশা মার্চের ভেতরে এটি অরবিটে যাবে। এটি এখন প্রায় নির্ধারিত বিষয় এবং এটি একদিনে তৈরী হয়নি। একজনের দ্বারাও হয়নি। আমি যদি একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ১৯৯৭ সালে জিআরসি কমিটি নামে একটি কমিটি ছিল ওই কমিটির এর মেম্বার ছিলাম আমি। সেই কমিটির পক্ষ থেকে কিন্তু আমরা একটু চিন্তা ভাবনা করেছিলাম যে, বাংলাদেশ থেকে নিজস্ব স্যাটেলাইট দরকার এবং এই ভাবনাটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা ছিল। অতএব আজকে আমরা এই ২০১৮ সালে এসে উৎক্ষেপন করছি ভাবনাটা কিন্তু ১৯৯৭ সালের। ৯৭ সাল থেকে চিন্তা ভাবনা করে এই পর্যন্ত এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর জন্যে এটি একটি বড় বিষয় যে, তিনি এই দুঃসাহসি পদক্ষেপ নেয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন। যেমনিভাবে তিনি নিজে পদ্মা নিজেদের অর্থায়নে করার সাহস দেখিয়েছেন ঠিক সেইভাবে বিষয়গুলো হয়ে আসছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, সরকারে তো ধারাবাহিকতা থাকবে- আজকে আমি দায়িত্ব নিয়েছি, আমার আগে আরেকজন ছিলেন, তার আগে আরেকজন ছিলেন- এই রকমই ধারাবাহিকতায় হয়ে আসছে। আমার পরে আরেকজন আসবেন- এই ধারাবাহিকতা ইনহেরিড করতে হয়। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জিনিস যদি আমার কাছে এসে পড়ে এবং আমার যদি ফিতা কাটার মত সুযোগ হয়- ধন্যবাদ তাদেরকে। তারা অতীতে কাজ করেছেন বলে আমি ফিতা কাটতে পেরেছি। আমি যেদিন প্রথম টেলিকম বিভাগে কাজ করি- সেদিন আমি তিনটা ফাইল সই করেছি এর মধ্যে দুইটি নীতিমালা। ওই নীতিমালা তো আমি ওই দিন বানিয়ে স্বাক্ষর করিনি। এর আগে ওই নীতিমালা কেউ না কেউ তৈরী করেছেন এবং এই নীতিমালা পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আসার পরে তারপরে কিন্তু সেই নীতিমালাতে আমার স্বাক্ষর লাগছে। কেন? এটি বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতো, প্রধানমন্ত্রীর কাছে না গিয়ে আমি যেহেতু মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি সেহেতু আমার স্বাক্ষরে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমি এটি বলবো না, এই নীতিমালা আমি বানিয়েছি। এই নীতিমালা সরকার বানিয়েছে এবং সরকারের পক্ষে আমি অনুমোদন দিয়েছি। সুতরাং এটি ষ্পষ্ট এর ভেতরে কারো রাগ দুঃখ বেদনা থাকার কোন কারণ নাই। কারণ হলো আমি কাজগুলো যদি করে দিয়ে যাই আরেকজন যদি আমার পরে আসেন। তিনিও ঠিক আমারটা ইনহেরিড করবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাবেন। এটিই স্বাভাবিক নিয়ম।

প্রশ্ন :মন্ত্রণালয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকে? আপনি কি নতুন লোকবল নিয়োগ দেবেন নাকি পুরনো জনবল দিয়েই চালাবেন?

মোস্তাফা জব্বার : আমি আবারো বলছি- আমি এখনো শিখছি। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরে বুঝবো আমার সম্পদ কি আছে? বাইরের কাউকে নেয়া বা অন্য কিছু করার বিষয় যদি থাকে তবে না বোঝা পর্যন্ত মন্তব্য করা একেবারেই সমীচীন না।

প্রশ্ন : পৃথিবীর গরিব দেশেও দেখা যায় ডলারে বেচাকেনা হয়। আমরা বলছি ডিজিটাল বাংলাদেশ কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে আমরা বাংলাদেশী টাকাই বক্যবহার করছি। আমাদের দেশে ডলারে কেনাকাটা হয় না? ডিজিটাল বাংলাদেশে এই জায়গায় কি পরিবর্তন আসবে?

মোস্তাফা জব্বার : এই জায়গাটা একটু ষ্পষ্ট করা দরকার, অর্থনীতির বিষয়ে অথবা বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে আমাদের অথনৈতিক অবস্থার উপরে নির্ভরশীল। আমরা একসময় তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ হিসেবে খ্যাত ছিলাম। তখন আমাদের নিজেদেরকে অন্যের অর্থের উপরে নির্ভর করতে হয়েছে। এখন কিন্তু যেই অবস্থার ভেতরে এসেছে সেই অবস্থা হচ্ছে- এখন আমাদের রিজার্ভ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। এই রিজার্ভ এর পরিমাণ যত বাড়ছে আমাদের সক্ষমতা ততো বাড়ছে। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, একসময় টিকেট কাটার জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতাম। এখন আমার পার্সোনাল কোটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে বারো হাজার ডলারে। আমি ইন্টারনেটে লেনদেন করতে পারি ডলারে অর্থ্যাৎ আমাদেও সক্ষমতা বেড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এই জায়গাটা শিথিল করেছে। আমি আশা করি দিনে দিনে এই অবস্থার আরও পরিবর্তন হবে। এটি নির্ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপরে।

প্রশ্ন : আপনার সামনে এখন কাজ করার অফুরন্ত সুযোগ। কারণ আপনার যোগ্য জায়গায় এতোদিনে আপনি আসতে পেরেছেন। এই সুযোগ কিভাবে কাজে লাগাতে চান?

মোস্তাফা জব্বার : যিনি পরিবর্তন করতে পারেন, তিনি যেখানে যে অবস্থার ভেতরে থাকেন সেখানে থেকেই পরিবর্তন করতে পারেন। আমি মনে করি, গত ৩০ বছর যে কয়টি ক্ষেত্রে আমি কাজ করেছি। তার প্রত্যেকটি একেকটি নতুন দিক নির্দেশনা, নতুন মাত্রা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত করে জনগণকে সামনে নিয়ে যাওয়া। আমার একটি বিষয় কাজ করছে- আমি কোন ব্যক্তির জন্যে কাজ করছি না। আমি কোন গোষ্ঠির জন্যে কাজ করছি না। আমি যে কাজটি করছি জনগণকে সম্পৃক্ত করে করার চেষ্টা করছি। ৩০ বছর আগেও ঠিক পত্রিকা প্রকাশ করা আমার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারতো কিন্তু আমি কিন্তু জনগণকে নিয়ে করেছি। ঠিক একইভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনভাবেই কোন ব্যক্তির না। ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ডিজিটাল বাংলাদেশ জনগণের। তাই জনস্বার্থে যা করার তাই করবো।

প্রশ্ন : দেশের শিশু কিশোর নবীণ এবং তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার মেসেজ কি থাকবে?

মোস্তাফা জব্বার : আমি মনে করি ডিজিটাল বাংলাদেশের বড় ভিত্তির নাম শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর- একে ডিজিটাল করা এবং আমি এটি শুরু করেছি শিশুদের দিয়ে। সুতরাং শিশুদের দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি যদি আমরা আস্তে আস্তে সম্প্রসারিত

করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে । আমি মনে করি শিশুরা এই দেশের ভবিষ্যত। এই ভবিষ্যত যদি আমি ভাল করতে না পারি তাহলে আমার দেশ ভাল হবে না। সব শক্তি বিনিয়োগ করা উচিত শিশুদের উন্নয়নে এবং তার পরে উপরে।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail