চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জঙ্গি উজ্জ্বলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিল!

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) পরিচালনা করতে জঙ্গি উজ্জ্বলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা করছিল সংগঠনটির সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও বর্তমানে সার্বিক দিক বিবেচনায় ডাকাতির পন্থা বেছে নিয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা। ডাকাতির পরিকল্পনা করতো হুজি সদস্যরা আর বাস্তবায়ন করত পেশাদার ডাকাতরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১২ জন ডাকাত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) দুজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার রাত ১০ টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় এলাকা থেকে ১২জন ডাকাতকে আটক করে এবং তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজি’র দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেপ্তার হুজি সদস্যরা হলো, হাফিজ ওরফে খালিদ ওরফে ইব্রাহিম গাজী ও মামুনুর রশিদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র একটি বিদেশি একে-২২ রাইফেল, একটি পাইপগান, ৪১ রাউন্ড গুলি, ১২টি জিহাদি বই, গান পাউডার, ককটেল, পাঁচটি কালো রঙের মুখোশ ও সংগঠন পরিচালনা করার কাজে ব্যবহৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।

গ্রেপ্তার ডাকাত দলের সদস্যরা হলো, মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বড় ভাই ওরফে দাদু ( ডাকাত সর্দার), মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে চৌধুরী, মো. আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ওরফে নয়ন, লাড্ডু মোল্লা, কাইয়ুম শিকদার, আলাউদ্দিন শেখ, মুন্সি খসরুজ্জামান মেজর ওরফে মেজর, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হাওলাদার, সুব্রত দাস, মিন্টু কর্মকার, এবং অলিউল্লাহ হাওলাদার অলি। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল ৩৩ রাউন্ড গুলি, ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ মুখোশ, চাপাতি উদ্ধার করা হয়।হুজি-জঙ্গি-র‌্যাব

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারর হওয়া ডাকাতরা মূলত মূল টার্গেট করতো নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের। ডাকাতির পরিকল্পনা করত হুজি সদস্যরা আর বাস্তবায়ন করত পেশাদার ডাকাতরা।

এ পর্যন্ত ৯টি ডাকাতি করে ৫ কোটি টাকা লুণ্ঠনের কথা স্বীকার করেছে তারা। ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৩০ ভাগ সংগঠনের কাজে ব্যয় করে আসছিল।

আব্দুল বাতেন বলেন, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে এই সংগঠনগুলো পরিচালনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে আর্থিক সক্ষমতা ছিল তা আগের মতো না থাকায় তারা ডাকাত দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ডাকাতি থেকে লুণ্ঠিত অর্থ তারা সংগঠনের কাজে ব্যয় করে আসছিল।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি জঙ্গি উজ্জ্বলের নির্দেশে ও সংগঠন পরিচালনা করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কারাগারে থাকা উজ্জ্বলকে যে কোনো উপায়ে মুক্ত করার পরিকল্পনা তাদের ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা ধোলাইপাড় পূবালী ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডকে জিম্মি করে ডাকাতির পরিকল্পনায় জড়ো হয়েছিল।হুজি-জঙ্গি-র‌্যাব

আব্দুল বাতেন বলেন, চলতি বছরের ১৩ই জানুয়ারি ময়মনসিংহের ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির ডাকাতির চেষ্টাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে ডাকাত দলের সদস্যরা এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ডাকাত দলের সদস্যরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে ইতিপূর্বে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছে।

গ্রেপ্তার ডাকাত মো. আতিকুর রহমানের দেয়া তথ্যমতে রামপুরার বাসা থেকে অস্ত্রসহ হুজি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী, অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির মামলা হয়েছে।