চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছায়ানটে গান ও কবিতায় রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্‌যাপন

ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনের সংস্কৃতিক মঞ্চে আলো জ্বলতেই চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৮/২০ জন বিভিন্ন আসনে মঞ্চে বসে আছেন। কেউ সাধুর বেশে বসা। কেউ বসেছেন তিন তবলা সামনে নিয়ে। হারমোনিয়ামের পেছনে একজন। এস্রাজ হাতে বসে একজন। আরেকজন প্রস্তুত কি-বোর্ড হাতে। মন্দিরা হাতে টুংটাংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরেকজন। মাউথপিস সামনে বসেছেন কেউ কেউ। ছেলের গায়ে পাঞ্জাবি, মেয়েদের শাড়ি। লাল/নীল আলোয় পরিবেশটা নেশা ধরার মতো।

মঞ্চের সামনে উন্মুক্ত সিঁড়ির উপর পা ছড়িয়ে বসে আছেন দর্শক। দর্শকদের জিজ্ঞাসু চাহনির জবাব দিতে সমস্বরে শুরু হলো গান, ‘ভুবনজোড়া আসনখানি’।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছায়ানট আয়োজন করেছে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র মেলা। আজ ছিল মেলার প্রথম দিন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আক্তার লিসা বলেন, ‘ছায়ানট রবীন্দ্রনাথের প্রতি জন্মবার্ষিকীতেই বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। এবার “ওগো পথেরও সাথী” নামে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের কারণ হলো রবীন্দ্রনাথই যুগে যুগে আমাদের পথের সাথী। তিনি সময় সদা চিরতরুণ রুপে আমাদের সুখে, দুঃখে, দেশপ্রেমে, আন্তরের কথা বলেছেন। তার আদর্শ দর্শন সবসময় প্রমাণ করে তিনি সবসময় আধুনিক।’

শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ যখন তৎকালীন বাংলাদেশে আসতেন এই এলাকার প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেতেন। তার অন্যতম সৃষ্টিগুলো এসেছে এই এলাকা থেকে। তিনি একজন কবি, গীতিকার, উপন্যাসিক। আমার মনে হয় তারচে বড় পরিচয় রবীন্দ্রনাথ একজন বড় দার্শনিক। তার শান্তির দর্শন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শান্তি বিরাজ করবে।’

আবুল হাসনাতের রবীন্দ্রনাথের ওপর লেখা প্রবন্ধ পাঠ শেষ হতেই শুরু হয় বিশেষ গীতি-নৃত্য নকশা ‘ওগো পথের সাথী’। ছায়ানটের শিক্ষার্থী সৈকত মুখার্জী গাইলেন ‘আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ’, মাকছুরা আখতার গাইলেন ‘পথ দিয়ে কে যায় গো চলে’, ‘সকাল সাঁজে ধায় যে ওরা’ গাইলেন সদীপ সরকার। ছোটদের দল গাইল আমাদের খেপিয়ে বেড়ায়। আবৃত্তি করেন শামীমা নাজনীন। বড়দের দলের সম্মেলক নৃত্য-গীত ছিল দেখার মতো।

তবলায় ছিলেন এনামুল হক ওমর ও সুবীর ঘোষ। এস্রাজে অসিত বিশ্বাস। কি-বোর্ডে ইফতেখার হোসেন সোহেল। প্রদীপ কুমার রায় ছিলেন মন্দিরায়।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায়।