চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চোখ হারানোদের ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে অস্ত্রোপচারের পর চোখ হারানো ১৭ জনের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আইরিশ এন্টারপ্রাইজের করা আবেদনে আজ ‘নো অর্ডার’ আদেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। আজকের এই আদেশের ফলে এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রইল।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে অস্ত্রোপচারের পর চোখ হারানো ১৭ জনের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।

ওই রায়ে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ওষুধের কোম্পানিকে (আইরিশ কোম্পানি) সমান হারে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে নির্দেশ দেন।

এছাড়া চোখ হারানো ১৭ জনসহ অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের শিকার আরও তিন রোগীকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত আরো রায়ে বলেন, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের বাইরে অন্য কোনো হাসপাতালে এই ২০ জনের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সে চিকিৎসার ব্যয়ও ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার বহন করবে।

বিজ্ঞাপন

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন গত ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়।

তবে অপারেশনের পর বাসায় ফিরেই ওই ২০ জন রোগীর চোখে জ্বালা পোড়াসহ ব্যথা দেখা দেয়। এর পরদিন তারা ইমপ্যাক্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করলে রোগীদের গুরুত্ব না দিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রোগীদের ঢাকায় নেওয়া হলে চোখ নষ্ট হওয়া ২০ জন নারী-পুরুষের মধ্যে ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়।

এরপর ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।

সেই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরবর্তীকালে সে রুল নিষ্পত্তি করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন আদালত। এরপর ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার চোখ হারানো ১৭ জনসহ ক্ষতিগ্রস্ত ২০ জনকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বলে জানান রিটকারি আইনজীবী।

তবে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ স্থগিত চেয়ে আইরিশ এন্টারপ্রাইজ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সে আবেদনে আজ ‘নো অর্ডার’ আদেশ দিলেন আপিল বিভাগ।

আদালতে আইরিশের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম আর ইম্প্যাক্টের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানিয়া আমীর। অন্যদিকে ছিলেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।